অন্ত্যমিল – – শিঞ্জিতা বর্ম্মণ

গ্রীষ্মের ঝলমলে রোদটা ছোট্ট শিশুটার হাসির মতই নিষ্পাপ,

দিচ্ছে উঁকি আম-বউলের ডালের ফাঁক দিয়ে—

শৈশবটা যেমন মাকে আগলে বড় হয়,

দাপুটে রোদটাও যেন আগলে রেখেছে ওদের—

আখের রসের দোকানে পোড়া ইঁট বওয়া রাজমিস্ত্রির ভিড় আর

চোখে একরাশ ক্লান্তি,যেন শিশুদের মত এক নিশ্চিন্ত ঘুম ক্লান্তি মুছবে ওদের।

 

প্রাক বর্ষার বৃষ্টিভেজা আলপথটা

চোখ জুড়োলো কৈশরের প্রথম প্রেমাভাসে—

বিচ্ছেদ যেমন বেদনা আনে প্রেমিকের,

ঝনঝনে ব্জ্রপাত বস্তিটা দিল পুড়িয়ে

সর্বহারা প্রেমিকের মত দিগভ্রান্ত মানুষগুলো যখন আশ্রয় খুঁজছে—-

ঐ উচ্চবিত্ত মেয়েটা ব্যস্ত বৃষ্টির ছবি তুলে স্টেটাস দিতে—-

 

বৃষ্টিস্নাত হয়েই ধূসর শীতের আগমন—

গাছগুলো যেন বৈধব্যের মত রংহীন!

বৃদ্ধা এখন দিন গুনছে মৃত্যুর

আর গাছ অপেক্ষা করছে নতুন পাতায় মোড়ার—

বৈপরীত্যের মধ্যেই তো ভারসাম্যের অর্থ—

জীবন যেন ঋতুর অন্ত্যমিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: