অপরিচিত  –   রক্তিম ভট্টাচার্য্য

শহরের চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে। পিচরাস্তায় নিস্তব্ধ সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা হাওয়া আর কুকুরের একটানা ডাক কেমন যেন একঘেয়ে লাগছে। অন‍্যদিনের উচ্ছল গলিপথগুলোও আজ চুপচাপ। একটা শুকনো ফুল পড়ে আছে মাঝরাস্তায়।

ওপারের দোতলা বাড়ির বারান্দার রেলিং থেকে অনেকক্ষণ আগে ভিজে গামছার শেষ জলের কণাটুকু পড়েছিল তার ওপর। এখন সে শান্তভাবে হলুদ নিয়নের আশ্রয়ে কালো আকাশের নীচে ঘুমোচ্ছে। অনেক দূরে কোথাও থেকে ভেসে আসছে অস্পষ্ট সাইলেন্সিও।

ফুলটার হঠাৎ ভয় করছে, খুব ভয় করছে। কোনো আদুরে হাত এসে তাকে সযত্নে কুড়িয়ে নেবে, এমন প্রত‍্যাশা সে আর করে না। শহর যে বড় রক্তাক্ত; শহরের বুকে তাজা রক্তের লাল ছোপ সে নিজে দেখেছে। সে তাই অপেক্ষা করছে এমন একটা হাতের, যে তার নিষ্পাপ দেহে কোনো আঘাত লাগতে দেবে না, এমন একটা হাত, যে তাকে আগলে রাখবে সবসময়।

কিন্তু অশরীরীদের তো আসবার সময় হয়ে গেল। ক্লান্ত রাস্তার ঘুমকে তছনছ করে দিতে আসে তারা। একটা একটা করে পাপড়ি ছিঁড়ে খুবলে নেবে ওরা। সে কী বীভৎস যন্ত্রণা! ফুলটা ভয় পাচ্ছে, খুব ভয় পাচ্ছে। কিন্তু না। এলো না কোনো অশরীরী।

হয়তো সেদিনের জন্য ছেড়ে দিল ওকে। অন্য কোনোদিন আসবে হয়তো তারা। ঐ হাতটা কেন এখনও আসছে না? সেও কি ভয় পাচ্ছে নাকি? এরকম কত সহস্র ফুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কত শহরের কত নাম না জানা রাস্তায়। ওরা চেঁচিয়ে কাউকে ডাকতেও ভয় পাচ্ছে।

যদি সেই লোকটাও অশরীরী হয়?  ভয়ের শেষ নেই। ভয় গ্রাস করে ফেলছে আস্তে আস্তে সমস্ত ফুলটাকে। তবু শহর চলছে নিজের স্রোতেই শহরের রাজপথে, ফিরে তাকানোর সময় নেই ওদের দিকে। কারণ, অশরীরীদের মৃত্যু না থাকলেও মহানগরীর মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *