আবৃত্তিকারের স্বাচ্ছন্দ্য বনাম কবিতার ভুবন – অশােক অধিকারী

sahityasmriti.com

একটি স্বতন্ত্র উচ্চারণের ক্ষেত্রে যে কোনাে মাধ্যমেই কিছুটা স্বাধিকার থাকা প্রয়ােজন। স্বাধীনতা যদি স্বেচ্ছাচারের পর্যায়ে না যায়। যদি তার মধ্যে স্বত প্ৰণত আবেগ থেকে যায় তাহলে একজন সৃষ্টিকর্মী কখনই অন্য কোনাে মাধ্যমকে এঁটো করে দিতে পারে না। তাই পারস্পরিক গালমন্দ অপেক্ষা সহজিয়া সম্পর্ক একজনের কাছে যেমন তৃপ্তির উপকরণ, অন্য জনের কাছে এর থেকে আনন্দ অন্য কিছুহতে পারে না।

বিজ্ঞানেও এই দেওয়া নেওয়ার বিষয়টি সাযুজ্যতার ঘেরা টোপে বেশ তৃপ্তিদায়ক। সেখানেই একটি সত্তা তার লজ্জা অভিমান অন্যকে সমর্পণ করে দিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের পূর্ণতা এনে দেয়। বাস্তবিক এই সহজ চলাচলের জায়গাটি সৃষ্টি কর্মের কাছে যত সহজ হবে ততই দীর্ঘস্থায়ী হবে বােঝাপড়া। কবি তিনি যেমন তার সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখবেন না এবং রসনা তৃপ্তির উপাদান হিসাবে পাঠককে চোখে দেখতে দেবেন।

আবৃত্তিকারকেও দেবেন তার উচ্চারণের ভাষা অন্য ব্যঞ্জনায় দেখতে কথা বলাতে। আর সে কারণেই কবি যখন তার কবিতার আবৃত্তি   শোনেন তখন নিজের অজান্তেই একটি বােধের জন্ম হয় তার মধ্যে। সে বােধ শুধুতার তৃপ্তি সহায়ক নয়। ভেতরে ভেতরে কবির এক দ্বিতীয় সত্তার জন্ম দেয়। যা তাকে আরাে বেশি সৃষ্টি কর্মের দিকে মনােনিবেশ করাতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই কোনাে হাতুড়ে চিকিৎসকের অবৈজ্ঞানিক অনুশীলন নয়। যথাযথ কাঁটাছেড়ায় কবিতার মঙ্গলই সম্ভব হয়।

তাহলে প্রশ্নটা এসে যায় কবিতা কতক্ষণ কবির। আর কতক্ষণ আবৃত্তিকারের। অনুচ্চারিত বিষয়টিও ফেলে দেবার নয়। পাঠকের কতক্ষণ।কবি অন্তরাল সত্তা হলেও পাঠকও আবৃত্তিকার দুই বিশিষ্ট সঞ্চালনের কাছে একটি থাকে আনন্দের অপরটি মনােনিবেশের। পাঠকের কাছে এই আনন্দ নাচায় ছন্দ বিশ্বভুবন ছেয়ে ছেয়ে’(রবীন্দ্রনাথ) তার ঐকান্তিক স্বাচ্ছন্দ্য। আর আবৃত্তিকারের কাছে ‘তুমি খুশি থাক/আমার পানে চেয়ে চেয়ে খুশি থাক’এই ভাবনার স্বরূপ উপলব্ধি। কবি তখন বলেন তােমার পরশ আমার মাঝে/সুরে সুরে বুকে বাজে’(রবীন্দ্রনাথ)।

বলছিলাম আবৃত্তিকারের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে। স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ঐশ্বর্যের একটি স্বাভাবিক মিল আছে। তবে তা নিজের অহঙ্কারের দ্যোতক নয়। আমি একটি কবিতাকে আবৃত্তি করার সময় তাকে বিশ্লেষণ করার অধিকার যেমন পাব, তেমনই সেই যােগ্যতা অর্জনের স্বাচ্ছন্দ্য যেন আমার থাকে সে বিষয়েও আমি সজাগ থাকব। তাহলে একজন আবৃত্তিকারের কাজটি কিন্তু শক্ত হয়ে গেল।

তিনি কবিকে প্রণামি’ দেবেন আবার পাঠককে বলব’ দেবেন। এই দ্বিবিধ সত্তার অপূর্ব সম্মিলনে শব্দ অক্ষর চিত্র ভাবনা মূর্ত হয়ে ওঠে। কবিতার একটি ব্যাকরণ থাকে। তাঁর নির্মাণের ভাষা থাকে। নির্মিতি থাকে। এটি একটি সালংকার সুপ্ততার অনিরুদ্ধ সংস্কৃতি। তাতে ফুসংযােগ করলেই হয়ে ওঠে বিশু রায়। দমের ছাড়া পড়া। নিয়মিত অভ্যাসে গড়ে তােলে ব্যায়ামের শাখাপ্রশাখা। আর তখনও সহজ হয়ে ওঠে কোনাে একটি মাধ্যমকে ধরে বড় হয়ে ওঠা। এর কতগুলি নিয়ম করে, ওর ধরে তাগানোর।

আবার কয়েকটি ভাবতে ভাবতে। পড়তে পড়তে। চলতে চলতে-চলন তার বলনের অধিকারে পোক্ত হয়ে ওঠে। সেই পােক্ত হয়ে ওঠার কাজটিই যে কোনাে মাধ্যমের সংযুক্ত সত্তাকে সারাজীবন আরও করার অনুশীলন করে যেতে হয়। তাই পর্ণতা’ বলে কিছু হয় না। যেমন ‘আদর্শ বলে কিছু হয় কিনা তার চাপানউতাের গত বর্ষাতেও ছিল আগামীতেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

এই ধরণের কিছু শব্দ জীবনের সংগে যুক্ত একপ্রকার দুবর্লতার দিক। একে এড়িয়ে চললে দীর্ঘদিন ভাবনার অবকাশ থাকবে। নইলে স্থানু হয়ে যায় আমাদের উদ্যোগ। একজন আবৃত্তিকার তাই কখনোইফুলস্টপ’ হতে পারেন না। কমা, পূর্ণছেদ কিংবা দাঁড়ি কমা’ও নন। তিনি একজন অনন্ত(-) জিজ্ঞাসার অপূর্ণতা। যে কোনাে কবিতাকেই তিনি নিজস্ব ভাষায়, ভাবনায় বারবার ভাঙতে পারবেন। আবার গড়তে পারবেন। আর সে অধিকার যদি তাকে দেওয়া না হয় তাহলে একটি কবিতা ঠিক কোন সম্ভবনায় বাঞ্ছিত তা বুঝে ওঠা শক্ত।

sahitysmriti.com

ধরা যাক রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’কবিতা। কবির যে ভাবনা তারকারিকরূপ এরকমঃ

উদভ্রান্ত সেই আদিম যুগে

স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে

নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত

তার সেই অধৈর্যে ঘনঘন মাথা নাড়ার দিনে

রুদ্র সমুদ্রের বাহু

প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে

ছিনিয়ে নিয়ে গেল তােমাকে, আফ্রিকা

এখন আবৃত্তিকারের ভাবনায় এই কবিতার স্বাচ্ছন্দ্য যদি এভাবে বিশ্লেষিত হয়

উদভ্রান্ত

সেই আদিম যুগে

স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি

অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বারবার

করছিলেন বিধ্বস্ত, তার সেই

অধৈর্যে  ঘন ঘন মাথা নাড়ার দিনে

রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর

বুকের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তােমাকে

আফ্রিকা

কিংবা অন্য জায়গায় কবি যখন লেখেন।

প্রকৃতির দৃষ্টি অতীত জাদু

মন্ত্র জাগাচ্ছিল, তােমার চেতনাতীত মনে,

এই অংশটিতে যদি লাইন দুটিকে এমনভাবে ভাঙা যায়

প্রকৃতির দৃষ্টি

অতীত জাদুমন্ত্র / জাগাচ্ছিল তােমার

চেতনাতীত মনে

ঠিক এভাবে ভাঙতে ভাঙতে কবিতার অন্তনিহিত ভাষ্যটি বারে বারে প্রকট হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন থেকেই যায়, নাও হয়ে উঠতে পারে। আর সেই হয়ে ওঠার কাজটি সার্থক হাতে হওয়ার জন্যই এত অনুশীলন, পড়াশুনার কথাটি বারবার এসে যায়।

অসংখ্য কবিতা পড়া শুধু পদ্য কেন গদ্য রচনাও পড়তে হবে। বয়স যেমন আমাদের মস্তিষ্ককে ভিন্ন আস্বাদনের বিষয় জোগান দেয়। যে বয়সে যে ধরণের পদ্য/গদ্য পড়ার রেওয়াজ দরকার সেই ধরণের বহু নিবিড় পাঠের মধ্য দিয়ে ভাবনার কান তৈরি হয় আমাদের মধ্যে। আর তখনই একজন শিশু শিল্পী নিজের বােধের অন্বয় থেকে উচ্চারণ করতে পারে, ভাঙতে পারে কবিতাকে আবৃত্তি করার সময়

ঐ দেখ মা/আকাশে ছেয়ে

মিলিয়ে এল আলাে

আজকে আমার

ছুটোছুটি

লাগল না আর ভালাে

ঘন্টা বেজে গেল ……..

তাহলে কবিতার স্বাচ্ছন্দ্য ও আবৃত্তিকার স্বাচ্ছন্দ্য এক জিনিস নয়। কবির স্বাচ্ছন্দ্য তার অন্তরঙ্গ উপাদান। আবৃত্তিকারের স্বাচ্ছন্দ্য অবশ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গীর সহায়ক। ধরা যাক মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের জননী যন্ত্রণা’কবিতার কথা। আবৃত্তি করার সময় কবিতাটিতে যদি এভাবে ভেঙে নেওয়া যায়।

জন্মে মুখে কান্না দিলে

দিলে

ভাসানভেলা

একূল ওকূল কালিঢালা

কালনাগিনীর দয়

রাত মজাল ডােবাল দিন

ঢেউয়ের

ছেলেখেলা

সামনে যে জন

জল পেছনে

ভরাডুবির ভয়।

(জননী যন্ত্রণাঃমঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়)

অর্থগত বৈষম্য যদি কবিতাকে ক্লান্ত না করে তবে আবৃত্তিকার যে কোনাে কবিতাকেই বিভিন্নভাবে ভেঙে ভেঙে দেখে নিতে পারেন কোথায় কবিতার চাহিদা তার সর্বোত্তম বিন্দুকে স্পর্শ করছে। তাহলেই একশােয় একশাে। আর সেই কঠিনতম কাজটি সম্পাদনের সময় কবিতা তার শােধবােধ করে নেয় আবৃত্তিকারের কাছে। খুব নিকট সঞ্চয়নের সময় তাই লক্ষ্য রাখা  

দরকার অন্তর্গত স্বাচ্ছন্দ্য যেন কখনােই বাধাপ্রাপ্ত না হয়। তাহলেই কবিতার হাড়মাংসে পতনাে    ন্মুখ জালা পাঠককে, শ্রোতাকে বঞ্চনার কড়িকাঠে ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লান্ত করে দেয় তার মনন। আর তাহলেই এ মাধ্যমের সর্বনাশ। আবার কবিতা বাছাই-এর পর আবৃত্তির জন্য প্রস্তুতি চালানাের আগে সম্পূর্ণ গদ্য মেজাজেও কবিতাটিকে বারবার পড়ে নেওয়া যেতে পারে। একপ্রকার টানা গদ্যে কিছুটা বিশ্লেষণের ভঙ্গীতে নিজস্ব ভাবনায় দাঁড়ি কমা কিংবা ছেদ চিহ্নের ব্যবহারে বেশ কয়েকবার কবিতাটিকে পড়া যেতে পার। যেমন

‘কৃপণ পৃথিবী। লােভের অস্ত্র দিয়ে কেড়ে নেয় অন্নবস্ত্র। লােলুপ রসনা মেলা

পৃথিবীতে বাড়াও ওহাত, তাকে ছিড়ে নিতে। লােভের মাথায় পদাঘাত

হানাে। আনন, রক্তের ভাগীরথী আনাে’                               (বােধন — সুকান্ত ভট্টাচার্য)|

কিংবা অন্যত্র –

‘তবু আজও বিস্ময় আমার। ধূর্ত প্রবঞ্চক যারা। কেড়েছে মুখের শেষ গ্রাস।

তাদের করছে ক্ষমা। ডেকেছ নিজের সর্বনাশ। তােমার ক্ষেতের শস্য চুরি ক’রে,

যারা গুপ্তকক্ষতে জমায় তাদেরি দুপায়ে প্রাণ ঢেলে দিলে —

                                                                                                     (বােধনঃসুকান্ত ভট্টাচার্য) এ ধরণের ‘ন্যারেটিভ’ কবিতা যেখানে গদ্যভাবনার প্রাচুর্য অঢেল তার ক্ষেত্রে এই স্বাচ্ছন্দ্য অনায়স।ওটা নামার ছকটিও অধিক মাত্রায় পুরানাে। শুধু আত্মস্থকরার ব্যায়ামটি আয়ত্ত করতে পারলেই আপাতভাবে একধাপ কবিতার কাছ যাওয়া গেল। এখন কবিতায় যদি এ ধরণের গদ্যধর্মীভাব, কিংবা গল্প না থাকে এবং সে যদি শুধু নির্ভেজাল কবিতাই হয় তাহলে তার গদ্যপ্রাণ কেমন হতে পারে তারও দু’একটি নমুনা নেওয়া যেতে পারে—

‘ওরা ভেবেছিল মনে। আপনার নাম, মনােহর হর্ম্যরূপে বিশাল অক্ষরে,

ইষ্টক প্রস্তরে রচি, চিরদিন তরে রেখে যাবে’

                                                               (স্মৃতিচিহ্নঃ কামিনী রায়)

আবার অন্যত্র –

‘ধরে এনু বাহিরিয়া।উষার আতপ্তকর ধরি। মূছে দেহ

মােহেমন। মুহুর্মুহু করি অনুভব। সূর্যের বিভূতি,তবু ।

লাবণ্যে দিতেছে তনুভরি। দিনদেবে নমস্কার আমি চম্পা।

সূর্যের সৌরভ

                                                                                                  (চম্পা। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)

sahitysmriti.com

ছােটদের আবৃত্তি করার সময় বিষয়টি আরাে জরুরী। অনেক সময়ই দেখা যায় অনেক শিশু আবৃত্তিকার বড়দের বড়মাপের বিষয়ের কবিতা আবৃত্তি করছে। বিষয়টি সেই শিশু শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলা যায় অবৈওঃনিক। ছােট মুখে বড় কথা তাে শােনায় বটেই তার সিড়ি বেয়ে ওঠার ধাপগুলি অমীমাংসিত থেকেই যায়। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে কবিতা নির্বাচনটি অতিমাত্রায় জরুরী।

আর কখনই শেখানাে বুলি নয়। কিংবা ক্যাসেট শুনেও নয়। বারবার শােনানাে ও শােনা। পড়ানাে ও পড়ার পর তার স্বাভাবিকতার উপর ছেড়ে দেওয়া দরকার। আর কান তৈরির জন্য ছন্দের কবিতা দিয়ে তার হাতেখড়ি হওয়াটা জরুরী। সেই সঙ্গে শিশুর মনে কল্পনা, আবেগ এই ধরণের অনুভূতিগুলি যাতে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে গড়ে ওঠে সে ধরণের কবিতা, ছবি, চিত্রকল্প সমর্পিত ভাবনার কবিতা তাদের পড়তে দেওয়া দরকার। দরকার হলে কবিতা আবৃত্তির সময় কবিতার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে দেওয়া যেতে পারে।

সেখানে কোনাে ছবি থাকলে শিশুর মনে এঁকে দেওয়ার দায়িত্বটাও আমাদের নেওয়া দরকার এবং বিস্তার লাভ করবে। ক্রমাগত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সহজ থেকে অপেক্ষাকৃত শক্ত কবিতার দিকেতার হাঁটা সুগম হবে। ধরা যাক রবীন্দ্রনাথের  লুকোচুরি কবিতা —-

‘আমি যদি দুষ্টুমি করে চাঁপার গাছে চাপা হয়ে ফুটি,

ভােরের বেলা, মা গাে, ডালের’পরে কচিপাতায় করি লুটোপুটি |

এখানে সজীব উপাদান ক) আমি খ)  কচিপাতা। আবার অনুভব বা অনুভূতি দিয়ে বােঝার বিষয় ক) চাপাখ) ভােরের বেলা গ) কচিপাতা। এখানে শিশুর ‘দুষ্টুমির’সঙ্গে লুটোপুটি খাওয়ার বিষয়টি সহজে মিলে যায়। শিশুর স্বাভাবিকতা এমনই ডালের উপর কচিপাতার সঙ্গে খুনসুটির মতাে যেন মিলে যায়। আবার অনুভবের দিক দিয়ে ভােরের প্রকৃতি মাঠের স্নেহনিবিড় আঁচলের যেন হাতছানি।

যা শিশুকে আর সব কিছু পিছনে রেখে শুধুচাপার গন্ধে মা’কে কাছে টানার প্রবণতার সঙ্গে আশ্চর্যরকমভাবে মিলিয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন তাহলে এ কবিতায় আবৃত্তির স্বরসংযােজনের সময় আমরা কাকে প্রাধান্য দেব। শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য না চাপিয়ে দেওয়া যান্ত্রিকতা। যান্ত্রিকতা কবিতার একটি অন্যতম বাধা। আবৃত্তিকারের একটি অলস আরাম।

তাই যখন শুনি ঐ কবিতাটি ‘ক’আবৃত্তিকার অসাধারণ করেছে‘খ’আবৃত্তিকারের মতাে কেউ পারবে না তখন এ মাধ্যম সম্পর্কে আমার এক বীতরাগ জন্মায়। কেন এ কবিতার ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ আমার মতাে নয়! আমার মতাে হয়েছে কেন বলতে পারব না।‘স্বাচ্ছন্দ্য’সন্ধানই পারে কবিতাকে আরাে অর্থবহ আরাে মননশীল করে তুলতে। আমার মনে হয় সেই পরীক্ষানিরীক্ষাই আজ সবচেয়ে জরুরী।

শম্পা সাহিত্য পত্রিকা //  সম্পাদনা  : স্বপন নন্দী

যোগাযোগ : (৯১) ৭৬৯৯২৪৯৯২৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *