উড়ন্ত অ্যাগামিডের খপ্পরে

সুদীপ ঘোষাল

কিশোর গল্পের সহকারী সম্পাদক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ও সহকারী সম্পাদনা সচিব হৈমন্তী দি কোলকাতায় বাড়ি হলেও বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটান । বিভিন্ন গ্রামের বা শহরের লোক জন কোনো বিপদে বা সমস্যা য় পড়লে তাদের স্মরণ করেন । আর সবার বিপদে সাড়া না দিয়ে ওনারা থাকতে পারেন না ।

বাঁকুড়া জেলার একটি গ্রামে কয়েকদিন ধরে  লোকজন বেশ ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন । কারণ কি জিজ্ঞাসা করলে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না ।

জয়ন্ত দার মোবাইল নাম্বার জো গাড় করে অই গ্রামের ছেলে রতন সমস্যা টি জানালো এবং একবার এই গ্রামে আসার জন্য দাদা ও দিদিকে আমন্ত্রণ জানালো ।

জয়ন্ত দা বললেন, এত বিপদ হয়েছে তার কারণ জানা গেছে কিন্তু এইবার প্রথম এক অজানা রহস্যময় ঘটনার সামনে  দাঁড়াতে হবে ।

হৈমন্তী দি বললেন, ঠিক আছে, কুছ পরোয়া নেহী, দেখা যাক কি হয়?

জয়ন্ত দার অন্তরে ভয় বলতে কোনো জিনিস নেই । ভয় কে জয় করাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য ।

ঠিক নির্দিষ্ট দিনে ওনারা পৌঁছে গেলেন রতনের  গ্রাম খেলাঘর গ্রামে । বেশ সবুজ গাছের মন কেড়ে নেওয়া হাওয়া , পুকুরে হাঁসের বিচরণ জয়ন্ত দার মনে একটা মায়া সৃষ্টি করলো ।

জয়ন্ত দা বললেন , ভারতবর্ষের গ্রাম হলো তার প্রাণকেন্দ্র । তাই গ্রামে র উন্নতি করা মানেই দেশকে উন্নত করা ।

হৈমন্তী দি বললেন, শুধু রাস্তা ঘাট উন্নত করলেই হবে না । তার সাথে শিক্ষা র উন্নয়ন প্রয়োজন । একমাত্র শিক্ষা পারে দেশকে উন্নত করতে । তাই তো আমাদের এই প্রচেষ্টা ।

কিন্তু এবারের অভিযান এক কঠিন দিকে বাঁক নিয়েছে ।সবাই এত ভয় পেয়েছে যে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না ।

রাতে জয়ন্ত দা খবর পেলেন খেলাঘরের  গভীর জঙ্গলে পাঁচটি কঙ্কাল পাওয়া গেছে । একজন বুড়িমা মরিয়া হয়ে বলতে শুরু করেছে, কেউ খেলা ঘরের জঙ্গলে যাবি না ।  আমার ছেলের খোঁজ করতে গিয়ে দেখলাম সে কঙ্কাল হয়ে পড়ে আছে ।বুড়ি বলছে, আর কারও ছেলেকে মেরো না ঠাকুর ।

বুড়ি এখন ভারত মাতা । তাঁকে আমার প্রণাম জানাই । বললেন জয়ন্ত ভট্টাচার্য ।

হৈমন্তী দি বললেন, তার মানে ওই জঙ্গলে এমন কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে যার ফলে এতগুলি প্রাণ অকালে চলে গেলো

জয়ন্ত দা বললেন, বেশি দেরী করলে হবে না । আর কোনো জীবন যেনো অকালে না যায় ।

হৈমন্তী দি বললেন, যারা দেখেছে তারা ভয়ে মুখ. খুলতে চাইছে না । আর দেরী নয় । আজকে রাতেই শুরু হোক আমাদের খোঁজ ।

জয়ন্ত দা বললেন, একটা জায়গায় সকলকে সমবেত হতে বলো , রতন ।

রতন গিয়ে মোড়কতলায় সবাই কে সমবেত হতে বললো ।

ঠিক রাত আটটার সময় দাদা, দিদি ও মোড়কতলায় সমবেত লোকজন একসাথে চললো  খেলাঘরের. জঙ্গলে ।

দাদা বললেন, আমরা আগে থাকবো ।কেউ যেনো ভুল করে জঙ্গলে একা না হয়ে পড়ে ।

জয়ন্ত দার কথা মতো সকলের হাতে আগুনের মশাল । কারণ আগুন ভয় পায় সব জানোয়ার ।

তারপর দৈত্য কে দেখা গেলো একটা গোরুকে ধরে রেখেছে। গোরুটার মাংস খেয়ে নিচ্ছে কিন্তু পড়ে থাকছে তার কাঠামো ।

হৈমন্তী দি বললেন , দেখো এটা একটা ঝালর যুক্ত ড্রাগন । অ্যাগামিড প্রজাতির ।

অস্ট্রেলিয়া র নিউগিনি অঞ্চলে এদের বাস ।এরা মাংসাশী । গোটা একটা গোরু  এরা একঘন্টায় খেয়ে নেয় ।

জয়ন্ত দা বললেন, অই ঝালর ওদের হাওয়াতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে । ভেসে ভেসে এরা এদেশ ওদেশ যাওয়া আসা করে ।এদের ভেসে থাকাকে  গ্লাইড বলে ।

এবার সবাই বলে উঠলো, কি করে এই ড্রাগন কে তাড়ানো যাবে ।

জয়ন্ত দা বললেন, এরা পেট ভরতি থাকলে আর এখন খাবে না । এই সুযোগে আমরা আগুন দিয়ে , চিৎকার করে ওকে বিরক্ত করবো । চলো একসাথে ।

জয়ন্ত দার নির্দেশ পাওয়া মাত্র সকলে বিকট চিৎকারে ,হাতের মশাল নিয়ে এগোতে শুরু করলো ।এবার বিশাল আকৃতির ড্রাগন টা বাতাসে ভাসতে শুরু করলো ।

ভাসতে ভাসতে অবশেষে ড্রাগন টি বিন্দু হয়ে মিলিয়ে গেলো সুদূর দিগন্তে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *