তবু বিশ্বাসের স্পর্শেরা অজুহাত ভুলে থেকে

 

উৎপীড়ন // তন্মনা চ্যাটার্জী

এলোমেলো জানলায় দুপুর রোদে সিঁধ কাটে ঘুম,

দিগন্ত তখন আলসেমী ছোঁয় অকারণ ব্যস্ততা ভুলে।

চূড়ান্ত ভাবনার বিরক্তির মেঘ যদি উপেক্ষিত হয় আজ~

অছিলায় একবার টুকরো টুকরো আলোকিত অতীত,

কেমন অবসর চাইতো রোজ আবশ্যিক একাত্মতায়;

খুঁজে পাবার অভিলাষ বুঝে নেবে কবিতার খাতা।

মননের উপেক্ষার বৃষ্টিস্নাত হওয়ার প্রবল ইচ্ছেরা

ডানা ঝাপটাবে উঁকিঝুঁকি চৌকাঠ পেরোবার উৎপীড়নে !!

তবু বিশ্বাসের স্পর্শেরা অজুহাত ভুলে থেকে

আরও একবার হাঁটতে চাইবে ভুবনডাঙ্গার মাঠে !

যেখানে সূর্য ওঠে নতুন কোনো অজানা সংকেতে !!

.

.

.

ঝরাপাতা  //  যাকারিয়া আহমদ

বয়স কতোটা হয়েছে জানি না__
বেচারা রোজ আসেন, 
কাশতে কাশতে সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে
পৌঁছেন বৈরাগী বৈভবহীনের জ্বলনোন্মুখ চোখের সামনে শুভ্রকেশে।

ঝরাপাতার মতো ঝরে পড়ছে সব,
কৈশোর গেল, যৌবন গেল, পৌঢ়ত্বের কাছে প্রায় কপোকাৎ; 
তবু বাঁচার আশায় হাটতে হাটতে জীবনের গ্লানি ছিঁড়তে ছিঁড়তে ছুঁড়ে ফেলেন বিস্রস্ত বাতাসে।

স্বপ্ন দেখেন, দেখি দেখাই আরও শো বছর বাঁচার;
হাসেন, হাসতে হাসতে ভাঁজ হয়ে নিরাশার দাঁত খোলে বলেন ‘না না, ঝরতে ঝরতে দশপুরুষে এই চিহ্নটা নেই হয়ে যাচ্ছে, এখন তোমাদের দিন, তোমরা বাঁচ, আশা আলোর নিশ্বাসে।

.

.

.

লাশ-কাটা ঘর //    আব্দুল্লাহ্ আল সিয়াম

ছেলে,

তাকিও না ওই লাশ কাটা ঘরে,

শুয়ে আছে তোমার মা গলায় দড়ি দিয়ে।

ছুরি,কাঁচি চলবে তার উপর একটু পড়ে।

ছেলে,

যৌতুকের টাকা আর তোমার বাবার অত্যাচার অবিচারে,

পাহাড় জমেছে বুকে দুঃখ,কষ্ট আর অভিমানে।

কী হবে এত দুঃখ সয়ে?

একদিন ওপারে যেতে হবে।

সেই পথ নিল আগে বেছে,

শান্তির মালা পড়ে।

ছেলে,

চলে গেছে সে সবার চক্ষুর আড়ালে

রাখিবে না কেউ তারে মনে

দুনিয়া চলবে তার আপন গতিতে,

থামিবেনা কারো তরে।

মা হারা বেদনা,সেই বুঝে যার গেছে।

বুঝবে তুমিও তিলে তিলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: