এবার পেত্নীর পাল্লায়

সুদীপ ঘোষাল

কিশোর গল্পের সহ সম্পাদক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ও সহকারী সম্পাদনা সচিব হৈমন্তী রায় আজ বসে আছেন একটি গ্রামের ঘরে । তাঁরা এসেছেন একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে। তাঁদের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় সমাজ সেবার কাজে ।

বেশিরভাগ গ্রামের দিকে কুসংস্কার আর অন্ধ বিশ্বাসের ফলে কত প্রাণ অকালে ঝরে যায় বুনো ফুলের মতো । তার হিসাব রাখতে গেলে হিমসিম খেতে হয় ।

জয়ন্ত দা আর হৈমন্তী দি নিজেদের টাকা খরচ করে কত দূর দূরান্তে পাড়ি জমান শুধুমাত্র মানুষকে বিজ্ঞান নির্ভর করার জন্য।

আজ সকালে তারা উঠে প্রাতভ্রমণে যাবেন এমন সময়ে একটি লোক হন্ত  দন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলেন । ঘরে ঢুকেই কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার মেয়েকে কাল রাতে একটা পেত্মী এসে ধরে নিয়ে  গেছে ।

——ভালো করে বর্ণনা করো ।বললো, অমলের বন্ধু  কমল ।এটা কমলের বাড়ি

অমল ,কমলের অনুরোধে দাদা ও দি দিকে

এই বাড়িতে রেখেছে । হঠাৎ এই কান্ড ।

জয়ন্ত দা বললেন, কোথায় দেখেছো পেত্নী ।

লোকটি বললো, আমাদের বাড়ির পুকুর পাড়ে একটা শিমূল গাছ আছে ।অই গাছের তলায় রোজ আগুন জ্বলে আর একটা বাচ্চার কান্নার শব্দ পাওয়া যায় ।

আমার মেয়েটা বোধহয় কাল কাঁদছিলো । সে আর বেঁচে নেই গো । কি সর্বনাশ হলো আমার । আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আন বে তোমরা?

এক পিতার মর্মান্তিক আর্তনাদে জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি র মন বেদনায় ভরে গেলো ।

তাঁরা ঠিক করলেন এই রহস্যময় ঘটনার পুরোপুরি সমাধান না করে তারা এ গ্রাম ছাড়বেন না । কোলকাতা যাওয়া তারা বাতিল করলেন । জয়ন্ত দার কাছে সবসময় লাইসেন্সড  রিভলবার সঙ্গে থাকে । আর দুজনেই মার্শাল আর্টে পারদর্শী ।দশজন লোককে ওরা দুজনেই ঘায়েল করতে পারে নিমেষে ।

লোকটি আশা নিয়ে বাড়ি গেলো । ওকে বলা হলো , তোমার বাড়ি আজ সবাই যাবে কিন্তু কেউ যেনো না জানে এ খবর টা ।

পেত্নীর ভয়ে রাত আটটার পর আর কেউ পুকুরের দিকে যায় না । তার ফলে ওদের সুবিধা হয় ব্যাপক ।

আজকে আর পুকুর পাড়ে কাউকে দেখা গেলো না । তার মানে সর্ষের ভিতর ভূত ।

ওদের লোক গ্রামে ঢুকে আছে । জয়ন্ত দা বললেন সবসময় আমাদের সজাগ থাকতে হবে ।

সকালে আবার একটি মেয়েকে পেত্নী ধরেছে । খবর টা শুনেই জয়ন্ত দা ছদ্মবেশে দেখতে চলে গেলেন ব্যাপারটা ।

দেখলেন মেয়েটিকে যে যা খাবার দিচ্ছে সব খেয়ে নিচ্ছে ।মেয়েটি হিস্টিরিয়া রোগীর মত মাথা নাড়ছে আর বিভৎস্য একটা শব্দ করছে ।

কাল যে লোকটির মেয়ে চুরি হয়েছে, সে এসে বলছে, এই মেয়েকে তোমরা লুকিয়ে রাখো । আজকে পেত্নী একে নিয়ে যাবে ।

আমার মেয়েরও এইরকম হয়েছিলো ।

জয়ন্ত দা ফিরে এসে হৈমন্তী দি র সাথে আলোচনা করছিলেন। মেয়েটিকে ড্রাগ জাতীয় কোনো মেডিসিন দেওয়া হয়েছে ।যার ফলে তার বাহ্যিক জ্ঞান  লুপ্ত হয়েছে ।

রাত্রি বেলা কোনো লোক অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় ।

আর পেত্মীর ভয়ে কেউ বাড়ি থেকে বের হয় না। কারণ নিম গাছের তলায় আগুন জ্বলে শূন্য স্থানে । পরিস্কার জলের মত পরিষ্কার ।

আজকেই পেত্নী ধরার অভিযান । কমল চারজন বন্ধু কে বলে রাখলো ।আর এনারা দুজন দুশো জনের সমান

ঠিক রাত আটটার সময় মেয়েটির বাড়ির চার দি কে কমলরা  আর নিম গাছের তলায় এনারা দুজন ।

মেয়েটিকে বারান্দা থেকে দুজন তুলছে, এমন সময় ওরা জাপটে ধরে ফেলেছে দুজনকে । তারপর দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে ।

আর নিম গাছ তলায় এক মহিলা মাথায় খড়ের বেরোর উপর মালসা  বসিয়েছে ।

এই মালসা মাটির হাঁড়ির মত দেখতে । তারপর অই মালসায় আগুন জ্বেলে মাঝে মাঝে হাত দিয়ে ধুনো দিচ্ছে। আগুনের শিখা উঠেছে আর বাচ্চা ছেলের কান্নার মত আওয়াজ করছে ।

জয়ন্ত দা কানে রিভলবর ঠেকানো মাত্র জোড়া হাতে ভয়ে সব বলতে শুরু করেছে । হৈমন্তী দি এক থাপ্পড় দিয়ে বললেন,সমস্ত মানুষের কাছে দোষ স্বীকার করে সমস্ত কথা অকপটে বলো ।

আর গতকাল যে মেয়েটিকে চুরি করেছো  তাকে এখনি এখানে হাজির করো । পেত্নী তখন মোবাইল বের করে মেয়েটিকে আনার জন্য বলে দিলো । পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হারানো মেয়ে পেয়ে গেল তার বাবা ।

পেত্নী ও তার দল বল. সমস্ত ঘটনা গ্রামবাসীদের বললো । তাদের পুরো দলটাই ধরা পরে গেলো জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি র কৃপায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *