কত কাছে তবু কত দূরে

গদলাগোদন্  //  শর্মিষ্ঠা গুহ রায় ( মজুমদার )

ধুৎতেরেকি ধ্যাৎতেরি
             ইস্ কি বিরক্ত!
গদলাগোদন্ রাগলে প’রে
              শান্ত করাই শক্ত।
ধপাং ধপাং আওয়াজ ক’রে
               কি জোরেই না হাঁটে!
ফোঁস ফোঁস ঐ নাকের আওয়াজ-
                সাতশ বেলুন ফাটে।
পাত্তা যদি তাও সে না পায়,
                 হাপুস হুপুস কাঁদে,
রাগের  আসল কারণ ভুলে
                  নতুন গল্প ফাঁদে।
নিত্যনতুন নাটক দেখে
                   সবাই খালি হাসে,
গদলাগোদন্ ফতস্ ফতস্
                    নাকের জলে ভাসে।
     

.

.

.

পূ্র্ণিমা সন্ধ্যা //  এ আর আহম্মেদ সুজন

পূ্র্ণিমা সন্ধ্যা, উত্তরফল্গুনীনক্ষত্র প্রাতঃ
প্রিয়া উন্মাদ টিনের চালের ফুটা দিয়ে আসা
ধবধবে ধবল চাঁদের ভেলকি দেখে।

জানালার বাইরে তাকিয়ে পিছনেই দেখি
অপরূপ সাজাই ব্যস্ত বধুটি
দু-চোখে কাজল মিশিয়ে ঠুট রক্তে মেখে।

নিভৃত পল্লির এ বাড়ি ও বাড়ির সকলেই নিশ্চুপ
এই বুঝি এখনি  সুযোগ এ কোমল আলো মিশ্রিত সন্ধ্যায়
দিগন্ত জুড়ে হেটে চলা হাতে হাত রেখে।

ঝিরিঝির  দক্ষিণা হাওয়ায় আচল উড়িয়ে দৌড়ে এসে
জড়িয়ে ধরে কপালে চুম্বন
আর লজ্জায় গালে তুল তোলে লোকানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি।

অস্থির দীর্ঘশ্বাসে হিজল তলায় গা জুড়িয়ে 
ছেলে মানুষি বায়না তুলে, জবা ফুল এনে দাও
একটু দাড়াও,বলতেই চিৎকার চেচামেচি আর ছুড়াছুড়ি।

.

.

.

কত কাছে তবু কত দূরে  //  রণেশ রায়

 

                              মনে হয় তুমি কত কাছে

                             তবু তুমি থাক না উপস্থিতে

                           তুমি মোর চিন্তনে তুমি মোর স্বপনে

                             তব ছায়া দেখি যে সর্বক্ষনে

                      তোমার কন্ঠস্বর সতত বাজে মোর  কানে।                          

                     ২

                         সায়াহ্নে অমলিন আকাশ

                            তারা মিটমিট করে

                           মোর নয়ন নিবদ্ধ হয়

                              ধ্রুবতারা পরে

                           যেন একাই বিরাজে সে,

                           অধিপতি ওই গগনে।

                         ১৫

                  সূর্যরে প্রদক্ষিতে

               পৃথ্বী প্রদক্ষিণে নিজেরে

         তারই সাথে ঋতুর আগমন চক্রাকারে,

            আমিও তেমনি প্রদক্ষিতে তারে   

                প্রদক্ষিনে নিজেরে।

              

        ( G.D. Bysack-কে  উৎসর্গ  করে লেখা)               

৩৬  পৃ :৪৩২ Ref  মধুসূদন রচনাবলি – সাহিত্য সংসদ

.

.

.

কত কাছে তাও কত দূরে  //  রণেশ রায়

তুমি কত কাছে তবু কত দূরে

কখনও হৃদয়ের অন্তরে

কখনও হৃদয় বাইরে

ওই আকাশ পারে,

বিস্মৃতির অন্তরালে হারাও তুমি।

যখন তোমায় পাই কাছে

একান্ত নিরালায় সংগোপনে তুমি আমি,

কানে কানে কথা বলা

একে অপরকে চিনে নেওয়া

পায়ে পায়ে পথ চলা।

যখন দুয়ার বাইরে হৃদয়ের ওপ্রান্তে

তোমাকে দেখি ওই দিগন্তে

ভেসে বেড়াও মেঘের ডানা মেলে

সাতরঙে রাঙিয়ে নিজেকে,

চিনতে  পারি না তোমাকে,

তুমি থাক সুদূরে ভিন জগতে

অমাবস্যার অন্ধকারে,

বাতাসে দূষণ ছড়ায়

আমি খুঁজে ফিরি তোমায়।

যদি পাই তোমাকে

জনতার কোলাহলে

সুখে দুঃখে পাখির কলরবে,

খুলে পরবাস সাতরঙা সাজ

আস যদি নিজ সাজে নিজেকে সাজিয়ে,

ডেকে নেব তোমায় এ হৃদয় মাঝে

তুমি আমি মিলি মিলন সঙ্গীতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: