কবি মধুসূদন দত্তের AN ACROSTIC থেকে  একটি ইংরেজি কবিতার ভাবানুসারে

অনুবাদক : রণেশ রায়

বর্ষা শেষে সায়াহ্ন

             পৃ : ৪৩২

               [ ৩৬ ]

               একি শোভা দেখি আকাশে !

               রূপসীর মুখ আঁখিতে ভাসে,

                কি আনন্দ সে শোভায়

                দেখে যে হৃদয় জুড়ায়

                রঞ্জিত গোলাপী আভায়

                চুম্বনে উদ্যত সে আমায়।

              নাচিতে নাচিতে বয়ে  চলে বাতাস

                   এ যেন সাগরের শ্বাস,

                নহে এ ঝঞ্ঝা নহে ভয়ংকর

                 এ নহে দানবের হুঙ্কার,

                    শান্ত স্নিগ্ধ যে সে

                তরুর মৃদু সঞ্চালন বাতাসে।

                  সবুজে সবুজে ভরা মাঠে

                এক হাটে কেনা বেচা অন্য হাটে,

                    রাখাল বালক খেলা করে

                     মেষ শিশুরা বেড়ায় চড়ে

                     চমক তাদের নয়নে নয়নে,

                    আনন্দ ঘোরে ফেরে সবার মাঝে,

               নাচেরে হৃদয় হৃদয় নাচে ।

                                    ছন্নছাড়া                                

     পৃষ্ঠা ৪১৮

     [ ৮ ]

                         আমার আচ্ছন্ন  চেতনা                      

লালায়িত সমুদ্র বিহারে,

আমারে আপ্লুত রাখে

সুদূরের সাগর মোহনা,

সবুজে সবুজে ভরা

সেই উপত্যকা

যে  থাকে ঘেরা

পাহাড়ে পাহাড়ে।

আমি হয়ে পড়ি

নামগোত্রহীন,

                 

আত্নীয় বর্জিত

সে এক অধম ;

তবু ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে

  পাড়ি দিতে চাই সিন্ধু

    দেখি না ঘরের দাওয়ায়

    একটি শিশির বিন্দু`।

       তাহার উন্মাদ ভাবনা

        পীড়া দেয় তাকে ,

       যশের কাঙাল যে সে !

,           নিশ্চিত সমাধি তরে

             আজ সে ভাসে;

           অবোধ সন্তান সে, মা

         তারে তুমি করিও ক্ষমা।

বিরহের গান গাহিব না আর

  

         পৃ ৪১৮

        [ ৭ ]

          দিগন্ত সুন্দরী

           প্রিয়তমা আমার,

            তুমি পশ্চিমের পরী

            আমি পানিগ্রাহী তোমার।

            প্রিয়া কি জানে

           শোকে প্রিয় যে ভাসে,

           তার প্রত্যাখানে

         হৃদয় বিদীর্ণ  দীর্ঘশ্বাসে।

           তুমি কি বোঝো না

          তার প্রেমে নেই বঞ্চনা !

        প্রত্যাখ্যাত সে যে।

          তার প্রেম, অমর সে

           যাকে বোঝ না তুমি,

            কাঁদে সে হতাশে।

          তবু সে,

        আজও তোমায় ভালবাসে।

        হে প্রিয়ে,

         তুমি তার হতাশে

         তুমি তার দীর্ঘশ্বাসে

          তুমি ফের বাতাসে।

        তবু সে,

         তোমায় ভালবাসে।

       হে প্রিয়তমা

     নিঠুর হৃদয়হীনা

         তুমি কি ভেবেছ যথা

       কাঙাল এই অভাগার কথা,

       হতাশায় তার,

       কখন-ও বাজে না

         তোমার হৃদয় বীণা?

        দুর্ভাগ্য এই অভাগার,

      শোকস্তব্ধ, আজ সে দুখি।

       তবু সে,

       তোমায় ভালবাসে।

        মায়াবী ললনা

       তুমি যে হৃদয়হীনা,

        তোমার মায়ায়

        ছেড়েছে আপন ঘর,

        তার প্রেম যে অমর,

        তার বিষাদ বেদনায়

        হৃদয় তোমার

       ভরে নাকি করুনায়  ?

         হে বিদেশিনী

         তোমায় সে,

         আজও ভালবাসে।

       ও ! পুবের পরী

          ক্ষম তারে,

       চেনেনি তোমারে গৃহদ্বারে,

      তুমি যে ছিলে মলিন বেশে

        মাতৃ অহংকারে,

        ত্যাজিছে তোমারে,

      ত্যাজিয়া তোমারে  হয়েছে বিবাগী,

    ফিরেছে  তোমারই দ্বারে

        ভিক্ষা মাগিবারে,

        ফিরায়না তারে।

     পুবের পরী,

      মহিয়সী তুমি

       তুমি মহাময়ী,

      হে দয়াময়ী !

    মোরে দিও না মরিবারে,

    চাই আমি বাঁচিবারে

     এ সুন্দর ভুবনে;

     লহ তুলে কোলে,

    আমার এই বাহু বন্ধনে

     জড়ায়ে লই তব গলে,

    বিষাদের  গান

    গাহিব না  আর

   দীর্ঘশ্বাস পড়িবে না তব বুকে,

   কাঁদিব না আর বিরহ শোকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: