কবি রণেশ রায়

আসে যায় আমার  //   ১৭/১০/১৮

sahitysmriti.com
ওরা বলে কি লিখছো আবার
কি আছে তোমার কবিতায়
কে পড়বে কবিতা তোমার
যে পড়বে সে হাসবে এ লেখায়।
আমি বলি আমি লিখি আমার ভাবনায়
আমার মনন ভাবনা খুঁজে বেড়ায়
ভাবনা মেলে মননে আমার কবিতায়।
কেউ যদি হাসে হাসুক না
যদি না পড়ে কি আসে যায় কার!
কিন্তু যদি না লিখি আসে যায় আমার
আমার মনন মরে যায়
ভাবনা আর তাকে খুঁজে পায় না
আমি হারাই মনন আমার
আমায় ছেড়ে পালায় আমার ভাবনা
আমার সময় কাটে না আর
আমি মরি অজানা এক বেদনায়
মরেও বেঁচে থাকা আমার।
—————————–

জীবনটা যে কোলাহল

তোরা চুপ করে থাকিস না
যা কিছু হোক  বল,
 নীরবতা নয় এ জীবন
জীবনটা যে কোলাহল;
ভালো মন্দ সুখ দুঃখ
বাদ বিবাদে প্রস্ফুটিত এ প্রাঙ্গণ,
কলকল বয়ে চলে অবিরাম
বাতাসে মর্মর প্রানের স্পন্দন।
মূক হয়ে থেকো না তোমরা
 চল জীবন তরী বেয়ে
ঝর্ণার কলকল তানে পাখির কলরবে
সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে,
সহাস্য  শিশুর আনন্দ ধারায়
কৈশোরের স্বপ্নালু শয্যায়
যৌবনের কোলাহলে
ষোড়শীর ইশারায়
আনন্দ মুখর এ জীবনে
সুর ছন্দ লয়ে।

কামনা আমার

রসে কষে  //    ১৮। ১০।২০১৮

sahityasmriti.com

তোমরা বল কামনা সর্বগ্রাসী

তমগুন তোমার

সর্বনাশা সে কামনা

একবার পড়লে ফাঁদে তার

উপায় থাকে না আর।

আমি বলি, রবির কামনায়,

তার আলোর স্পর্শে

চাঁদের ঔজ্জ্বল্য রাতের জ্যোৎস্নায়,

কামনায় আশ্রয় খোঁজে আমার বাসনা

কামনা সে যে প্রেম আমার

সে আমার প্রেরণা,

সে আসে আমার বাসর শয্যায়

আমার চলনে বলনে করনে

কামনা পুষ্টি যোগায় আমায়,

কামনা বাসা বাঁধে আমার অঙ্গনে

তার আশ্রয় আমার চেতনায়

সে বসে সসম্মানে নিজ আসনে,

সে থাকে তার নিজ মহিমায়

দিন শেষে গোধূলির সাঁঝ বেলায়

সব কাজ শেষে ক্লান্ত শ্রান্ত সে

মেলে এসে মিলন মোহনায় ।

প্রস্তাবিত বই রসে কষে থেকে

লেখক রণেশ রায়
পি৫৮৭ পর্ণশ্রী কলকাতা- ৭০০০৬০

আড্ডার বৈভব  

তুমি ভাব, আমরা  নুব্জ বয়সের ভারে,

সত্যটা বলি শোন, বলি শুধু তোমাকে,

বারোয়ারি  বৈঠকখানার আনন্দ মজলিসে

মিলি এসে সবাই সব যন্ত্রনা শেষে,

নাচি  গাই খেলে  বেড়াই আড্ডার বৈভবে

বিভোর আমরা অতীতচারির  স্মৃতির সৌরভে,

সত্তর হয়ে গেছে কবে ! তবু আমরা ত্রিশে

আশি এই বুঝি আসে ! তোমরা মর  ত্রাসে,

আমরা তার আলিঙ্গনে যৌবনের বাহু বন্ধনে,

সত্তরের যৌবনে  আমরা আছি অতীত রোমন্থনে,

ফিরে যাই শৈশবের খেয়া বেয়ে

কৈশোর দেখা দেয়, আসে সে ধেয়ে

খুঁজে ফিরি পেতে চাই যাকে

সে ওই উঁকি মারে  মেঘের আড়ালে

কৈশোরের সেই আনন্দ মেলায়

যৌবন  ভেসে আসে অনিশ্চিতের  ভেলায়,

প্রৌঢ় এসে চোখ রাঙায়  হিসাবের খাতা হাতে,

বেহিসেবি  আমরা, মিলি না সে হিসেবের সাথে

সত্তর হয়ে যায়  ত্রিশ আমাদের অংকে,

গোপন কথাটা থাকে না আর গোপনে

কত রঙ্গ  দেখি আজ এ বঙ্গে

হৃদয় খেলা করে একুশের অঙ্গে অঙ্গে,

তোমরা বল ভীমরতি এই বুড়ো বয়সে

নির্লিপ্ত আমরা তোমাদের শ্লেষে

আমরা আছি আমাদের মজলিসে

বার্ধক্যের বৈঠক খানার  কেদারে বসে

হুঁকোর মুখে আগুন জ্বেলে দম দিই কষে।

বহমান এ জীবন  

sahityasmriti.com

আজের এই সাঁঝ বেলায়

তোমার  দেখি বিদায়ের সাজ

অসম্পূর্ণ জীবন তোমার

রয়ে গেল না করা কত কাজ!

দিনান্তে এই গোধূলি বেলায়

সার্থকতা কই এ জীবনে তোমার !

জীবন যে ধূসর, কাটে অবহেলায়

কেটে যায় অনর্থক সব দিন

কেন বল সার্থক এ জীবন

নিরর্থক ব্যার্থতায় বিলীন।

.

সম্পূর্ণতা কই জীবনে কার?

জীবন যে বহমান,

আজ যা শেষ কাল তা শুরু  আবার

সময়ের তরী বয়ে চলা এ জীবন,

দিন শেষে রেখে যেতে হয়

যা করা হয় না এখন

আজের কাজ কালের তরে রয়,

অসম্পূর্ণ যা থেকে যায় আজ

কাল সেখান থেকে শুরু তোমার

তোমাতে আমাতে মিলি বয়ে চলে কাল

কালের প্রবাহে বিরতি কোথায় আর!

দিন শেষে রাত, রাত শেষে দিন

দিনে দিনে প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে প্রতিক্ষণ

আজের আমি কালের তোমাতে বিলীন,

অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

কালের বহমানে এ জীবন!

ক্ষুদে আমি ক্ষুদে তুমি

তুমি আমি নশ্বর

তুমি আমি মিলে এ মহাবিশ্ব

সে যে অবিনশ্বর।

 ( রসে কষে নামক অপ্রকাশিত বই )

###########

তুমি যখন

তুমি যখন স্নান শেষে

দাঁড়াও আমার আঙিনায়

স্বচ্ছ শুভ্র এলোকেশী বেশে

তোমার শরীরের দোলায়

বাতাস সুবাস ছড়ায়

তোমার গ্রীবা ভঙ্গির উন্মাদনায়

আমি উদ্ধত হয়ে উঠি

নিজের অজান্তেই

দাঁড়াই শক্ত করে মুঠি

তোমার ওষ্ঠ আমার ওষ্ঠ স্পর্শে

চাতকের তৃষ্ণা মেটে

মেঘ বৃষ্টি হয়ে বর্ষে

আমাদের মিলন মোহনায়

তোমার চোখের ইশারা

বেঁধে এসে কামনায়

তোমার কোটির আঁকে বাঁকে

আমার ভাবনা ডানা মেলে

আমি পেতে চাই তোমাকে

আমার নিবিড় আলিঙ্গনে

আমি তোমায় খুঁজে পাই

আমার অঙ্গে অঙ্গে

তোমার হৃদয় স্পন্দনে।

মিলন মেলা

আসা যাওয়ার এ সন্ধিক্ষণে

কত না রহস্য দানা বাঁধে

শেষ অশেষের কোলাহল এ জীবনে

কত প্রশ্ন মনে জাগে;

আমার জাগতিক এ চেতনায়

কোথা থেকে এলাম কোথায়

কোথায় যেতে হবে আবার

আদি অন্তের রহস্য মেলায়

জানা নেই আমার,

আমি ভেবে চলি আমার ভাবনায়

জীবনতো একটাই,

দিনশেষে আমার

নশ্বর এ জীবনে থেকে যাবো

জড় এ বিশ্বজগতে সবাই

মিশে যাবো ভুলোকে।

তারপর আবার জড়তা ভেঙে

হয়তো জেগে উঠব কোনদিন

কোন এক মাতৃগর্ভে

প্রাণ প্রতিষ্ঠা একদিন,

সেখানে আমি আর আমি নই

প্রকৃতির নিয়মে ভাঙা গড়ার খেলায়

আমাকে তোমরা খুঁজে পাবে কই

ধ্বংস সৃষ্টির এ মিলন মেলায়।

কোন পক্ষ

sahitysmriti.com

আমি নির্বাক বসে থাকি নির্বিকার

এ সমুদ্রতটে বালুকা বেলায়

করে ভালো মন্দ পরিহার

সমুদ্র বিহারী আমি

আমার জীবন

আনন্দের দাঁড় বয়ে যায়

আমি আনন্দনন্দিনী

আমার থাকে না কোন দায়।

আমার ভাবনায়

খেলা করে চেতনা আমার,

সে জানিয়ে যায়

নিতে হয় দায়

ঠিক কর কোন পক্ষ তোমার,

আজ এ বসন্তে যুদ্ধের সাজ

জেনে নাও ন্যায় অন্যায়

দুই জীবন এ দুনিয়ায়

মুখোমুখি সংঘর্ষ আজ,

তুমিও পাবে না পার

বসে থেকে নির্বিকার,

কোনও পক্ষ নিতে হয় এবার।

কবিতা তুমি

কবিতা, তুমি বেঁচে থাকো,

আমার হৃদয়ের প্রচ্ছদে,  

প্রিয়তমা আমার,

সুন্দরের ছবি আঁকো,

তুমি নেমে এসো আমাদের  ভাষায়,

সময় বয়ে যায়

আর নয় নয় আর ।

কবিতা, তুমি  বেঁচে থাকো

সকলের আশায়

সহজ সরল  এ জীবনে আবার,

দুর্বোধ্যতার   মুখোশ খোলো

জেগে ওঠো  কাব্যের মহিমায়,  

তোমার কবিতায় দুর্বলের  কথা বল

কথা বল জনতার,

যাদের  দুবেলা জোটে না আহার  

চিকিৎসা পায় না যারা,

শিক্ষা ! বড় ব্যভিচার ।

বিদ্রোহের  সুর বাজুক তোমার কবিতায়  

অশ্রু  ঝরুক মন  বেদনায়,

ফিরে দেখো আবার

তোমার কবিতায় সুকান্ত নজরুল খেয়া বায়,

প্রেম  ফিরে আসুক রবির  জ্যোৎস্নায়

ফুল ফুটুক  হৃদয়ের কাননে  

ছন্দ নেচে উঠুক কল কল তানে

ভেসে চলুক   জোয়ারে উজানে

সত্যেরে দিশা করে

সঠিক  নিশানা ধরে  

সত্যেনের  বাহু বন্ধনে।

   

টলস্টয় ঘর  বাঁধুক তোমার আঙিনায়

ভৈরোঁর গানে গানে

ওয়ার্থ  ফিরে আসুক কবিতার ভাবনায়  

শেলী ঘুরে ফেরে তোমার আনন্দ  ধারায়

কিটসের দেখা পাই বিরহের যন্ত্রনায়   

গোর্কি  এসে বসুক চেতনার  বৈঠক খানায়,

আলিঙ্গনে আমরা সবাই

কবিতার মূর্চ্ছনায় ।

রোজনামচায় সংসার

সংসার সাগরজলে

আমি  খাবি খাই

জীবনের বাগানে ফল ফলে

খাই দাই  ভালো আছি ভাই।

আমি ভাবি রোজই,

বসে বসে ভাবি আর ভাবি ,

অজানা এক ভয়

আর এক সঙ্গে চলবে না

টেকানো  গেল না

সম্পর্কটা বোধ হয়!

রোজ ঝামেলা লেগে থাকে

কথায় কথায় ঝগড়া

বলি আর কাকে!

বললে নেমে আসে খরা

বলতে যে পারি না

কখন যে দেয় হানা,

আমি ভয়ে মরি

অচল যে আর চলে না ।

ঢং ঢং ঢং

বিচ্ছেদের ঘন্টা বেজে  চলে

সম্পর্কটা !

টিকি বাঁধা সংসারের কলে,

হোঁচট  খেতে খেতে তবু  টিকে থাকে

টিকে থাকে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে

এভাবেই সে  টিকে আছে

বিরাগে সোহাগে আদরে,

আমের মুকুল গাছে

পাতার  আড়ালে একটি  বোঁটায় ঝোলে,

ভয় হয়, পড়ে বুঝি পাছে !

কিন্তু পড়তে পড়তেও  পড়ে না

বেইমানি সে করে না

ঠিক  থাকে ঝুলে

দিনের পর দিন

এমনি  ভাবেই চলে ।

সে আসে যায় ভয় দেখায়

যাবো যাবো  বলে, কোথায় যায় !

অস্পষ্ট কুয়াশা  ভরা দৃষ্টি

যেন শীতের ভোরে বর্ষার  বৃষ্টি

কাঁদায় কিন্তু ভাসায় না

ভাসায় কিন্তু ডোবায়  না,

কাগজের নৌকা

ভেসে চলে অবলীলায়

ডুববো ডুববো করেও ডোবে না।

অথচ কোন সমস্যা  নেই

সম্পর্কে মারা আছে  সীল

নামী দামী  ব্র্যান্ড

একে অপরের ওপর নির্ভরশীল

একের অফিস যাওয়া আসা

মাসান্তে  মায়না

অপরের ঘরকন্যা, আর !

ছেলে মেয়ে মানুষ করা

একের  রোজগার  অন্যের সংসার;

রোজ সকালে উঠে চা

সঙ্গে প্রাতঃরাশ

কচুরি আর খাজা

দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ

রাতে হিসেব করে আহার

শরীরের  অসুখে ওষুধ

কত না খাবার বাহার

মনের রোগে বিসুখ,

দিব্বি আছি,

দুবেলা মনোমালিন্য;

শরীরে ধরেছে বাত

তাও সময় করে ঘুরতে যাওয়া,

ধরে হাতে হাত

সকালে বিকেলে হাওয়া খাওয়া

মনের দরজা খোলা

সে পথে যাওয়া আসা

প্রেমের আলিঙ্গনে কাটে মধুরাত,

চলে রঙ্গ তামাশা

ছেলে মেয়ে নিয়ে ভাব ভালোবাসা,

থাকি মায়ার  বন্ধনে আটকে

ছেঁড়া কাঁথায় লেপটে l

থাক সে সংসার

সে  বেঁচে থাক

আমাদের কামনায়

সকালের ভৈরোঁয়

রাতের জ্যোৎসায়

গড্ডালিকা প্রবাহে

কালের অবগাহনে

ঝর্ণার কল কল রবে

সুন্দরবনে বাঘের  গর্জনে

দিনান্তে  মালিন্যের  আশ্রয়ে

সময়ের ডানা মেলে

বিবাদ বিষাদ রাগ অনুরাগের  প্রাঙ্গনে।

চুপি চুপি কানে কানে বলি

টিকিয়ে রাখাটা  জরুরি

তাই আমরা বুঝে শুনে চলি

সম্পর্কটা যে মানিয়ে চলার

দুজনের  তাগিদে

পারস্পরিক নির্ভরশীলতার

সেটাই যে সংসার

উভয়ের প্রয়োজনে দুজনায়,

বেঁচে থাক  গোপাল ভাঁড়

হাসি ঠাটটা  তামাসায়

বোলো না তাকে অসার।

উল্টোপাল্টা ছড়া সম্রাট সুকুমার রায় স্মরণে

sahityasmriti.com

উল্টোপাল্টা জীবন আমার

বেহিসেবি কাজ,

আবোল তাবোল কথা বলি

বিদঘুটে সব সাজ।

উল্টোপাল্টা চিন্তা আমার

অস্থির সব ভাবনা,

অজান বিষয় নিয়ে

চলে গবেষণা।

এলোমেলো জীবনে

উল্টোপাল্টা ঘটে,

কত কি যে প্রাপ্তি আমার

                       কি সব যে জোটে ।                               

কখন কি যে দেখি আমি

কি শুনতে কি  শুনি,

আজেবাজে বীজে

মাঠে ফসল বুনি।

জীবনটাই উল্টোপাল্টা,

উল্টোপাল্টা ঝুঁকি,

জানলা দিয়ে ঘরটায়

যার তার উঁকি।

এপাশ ওপাশ দেখি আমি

কোনটা কেন ঘটে,

উল্টোপাল্টা মানুষ যারা

তাদের দস্তি জোটে।

উল্টে পাল্টে জানি আমি,

পাগলা দাসু !

আবোল-তাবোল বকে বটে

পাগল নয় মোটে।

বুঝি না অনেক কিছু

সত্যি যেটা ঘটে,

তবে বুঝি,

সত্যিটা বললে পরে

ওরা কেন চটে।

ভুলভাল বুঝি আমি

মানে না সকলে,

আমি নাকি বোকা একটা

সবাই বুদ্ধু বলে।

শত্রু বলে জেনেছি তাদের

নয় শত্রু যারা,

শত্রু যাদের ভেবেছি

বন্ধু  হয় তারা।

      বড় বাবুর গোঁফজোড়াতো

       দিব্বি থাকে সেজে,

 ছোটবাবুর গোঁফজোড়া

   সদাই চুরি সে যে।

 আবোলতাবোল প্রশ্ন করি

প্রশ্নগুলো বদ,

উল্টেপাল্টে বুঝি আমি

    কার কি মত।

  পুকুর চুরি করলেও

    কেন ওরা সৎ,

   খুদে চোরকে পেটায় সবে

    তার নাক খৎ ।

    উল্টোপাল্টা জানি আমি

   জানায় গবেষণা,

   ভার রইল সবার ওপর

    তারা মানে কি না।

  বিনাশ্রমে মালিক ওরা

    ওরা ভদ্রলোক,

    দিন খেটে জোটে না ভাত

    এরা ছোটলোক।

  বেহিসেবি এ জীবনে

     হয়েছে আমার বোঝা,

    সোজাটাকে উল্টো দেখায়

    উল্টোটাকে সোজা;

      তাই বলি, উল্টোটাকে উল্টে দাও

       হবে সত্য খোঁজা।

sahityasmriti.com.jpg

দুই দুনিয়া

সভ্য এই দুনিয়া মাঝে

দুই পৃথিবীর এক অন্তরালে

বসে আছি সরোবর পাশে

আলোর ঝলকানি বেঁধে এসে চোখে

স্পন্দনহীন এ বুকে

একান্ত নীরবে কথা নেই মুখে

চোখ খোলা দ্রষ্টব্যহীন দৃষ্টি আমার

দেখেও দেখি না কারে

সন্ধ্যাদীপ জ্বলে না এখানে।

কে যেন বসে এসে চেতনার প্রত্যুষে

বলে এসে দেখো তুমি ওপারে

আমি  চোখ তুলে দেখি

আমার দৃষ্টি ফেরে

জঙ্গলের নীরবতা মাঝে

কে সে কেঁদে ফেরে

গহন অন্ধকারে

প্রাচুর্যের এই দ্বীপে

অন্ধকার আমায় ঘেরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *