কবি সন্দীপ মুখার্জ্জী

যদি এমন হয়     //    18/10/18   sahityasmriti.com

যদি বলি আবার তোমায় ভালবাসি   

কুমকুম টিপ’এ তোমার মৃত্যু-হাসি

নশ্বর আমরা তবু অবিরাম ভালবাসি

তোমার শাড়ির ভাঁজে সুগন্ধি হয়ে যাই

মিষ্টি হেসে আলতো ঠেলে সেই গান যদি গাই

 

যদি রেশম রেশম দুই বেণী আবার ডাকে

সে ডাক শুনে পলাশ মন আর কি ঘরে থাকে

বিন্দু বিন্দু শিশির পারা ঠোঁটের ওপর ঘাম

মুগ্ধ যদি চাউনি শুধু এক মনের’ই দাম–

পারবে আবার ও তো ভালবাসার’ই নাম

 

রান্না ঘরে হঠাৎ স্নিগ্ধ আলিঙ্গন একটু

কানে কানে মৃদু গানে যদি বলো দুষ্টু

মাতোয়ারা মন হাজার পিয়ানো বাজা

চকিত কপট রাগ মানতে রাজী সব সাজা

এসো আবার ভাসি মন যে মনের রাজা

 

যদি বলি আবার তোমায় ভালবাসি

ভালবাসি তাই ফিরে ফিরে আসি—

সন্ধিক্ষণ    ১৭/১০২০১৮sahityasmriti

আজ যাবোনা মা।
কাল তোমার চোখ এঁকে
মুখ ও এঁকেছি,দেখবে বলবে বলে।
আর আহ্বান নয়,সেবা মাত্র
অতলান্ত খাদে দেখতে পাও অবয়ব?
প্রেম হলো বিদ্রোহ হলো,বিছোহ হলো তো!
ডাগর চোখের কোনে রক্তলেখা পড়োনি–
তাই অপলক চোখ এঁকেছি তোমার।
সন্ধি কার সাথে, নিজের ?
তাই সন্ধিপূজোর সাথে সন্ধি করিনি
দিন গুনে গুনে চক খড়ি শেষ করছি,
আঁকা চোখে যদি দৃষ্টি ফোটে
আঁকা ঠোঁটে যদি বাণী ফোটে—

তিন বছর বা তিন শত

sahityasmriti.com

স্মৃতির দোয়াত থেকে লাল কালি
তারপর ক্যালেন্ডারে তারিখ রাঙ্গানো
পাতা উল্টাতে তিন বা তিনশো বছর
কখনো সর্পিল গতিতে পাশ কাটানো।
.
অবাক লাগে–
কালকেই পূর্ণিমা আজ নিকষ অমাবস্যা
হিম ভেজা অষ্টাদশী রাত্রি কামড়াতে আসে
চোখের মৌতাত হতে কিছু রক্তিম রাত্রি।
.
কবে যেন চতুর্দশ চাঁদ আর চকোর
একসাথে দেখা মনে পড়েনা সে কথা তো
হিমাদ্রি তপস্যা সম নিবিড় কেশসুগন্ধ নিয়ে
ক্ষণেক্ষণে পিছলে পড়া পিচ্ছিল না ভোলায়।
.
ছায়া ছেড়ে গেছে আঁধার চিরস্থায়ী
মনছোঁয়া কোন গান আর কাজলী চোখ
কুসুম গন্ধ পায় দ্রাঘিমাংশে কখনও
ছন্ধগুলো মনে পড়ে না অনুষ্টুপ ছন্দ।
.
কখনো প্রজাপতিরা ভিড় করে চারপাশে
স্থিতধী মন তপস্যায় লীন তবুও প্রণোদিত
সেই বা এই তিন বা তিন শ বছর
কবে যেন চিরস্থায়ী বাসা বেঁধেছে চরাচরে।
.
###########################
sahityasmriti.com

সেই দু’টো দিন   //  অজ্ঞাত 

কত মাস কত বছর পেরিয়ে যায়
কত তিক্ত দিন কত কালিমা ক্ষণ
তবু মধুমাখা শুধু দু’টো দিন হায়
সব ব্যথা ভুলে কিছু পুষ্প আহরণ
.
দর্শনে মরি সেই ভুল করি আবার
ঝুমকো চুলের গুচ্ছে মন পিছলায়
কত একা মন আর না না’র পাহাড়
কাল সরসী নয়ন ডুবে যাই বিশাখায়
.
সবাই কি সখী পেশাদার হয় মরমে
কিছু জন থাকে যেচে ফেরে সাথী
বুক ফাটলেও মুখ ফোটেনা শরমে
শৃঙ্গপ্রমান ভুল বোঝা কম হয়না অতি

f34.png

নিশ্চিন্ত জড়তা     #  অজ্ঞাত 

শুনছো শুনছো-
কেউ আছে এখানে?
শুনতে পেলে ঘাড় নাড়িও,
এ বাড়িতে কেউ আছে–
এসো এসো এবার।
শুনতে পাই তুমি তলিয়ে যাচ্ছো,
মনে হয়,তোমার ব্যথা কমাতে পারি,
আবার তুমি নিজের পা’য় দাঁড়াবে।
শান্ত হও
কিছু কথা জানার ছিল–
দেখাবে, কোথায় ব্যথা তোমার?
*    *     *     *      *      *      *
কোথাও ব্যথা নেই,তুমি অনেক দুরে ঝাপসা
একটা দুরের জাহাজ দীগন্তে ধোঁয়া,
তুমি ঢেউয়ে ভেসে আসছো,
তোমার ঠোঁটদুটো কিছু বলছে,শুনতে পাইনা।
শৈশবে জ্বর হয়েছিল একবার,
হাতদুটো বেলুনের মতো লাগছিল,
এখনও সেই অনুভুতি আবার।
তোমাকে বোঝাতে পারবোনা,বুঝবেনা,
আমি এমন না
আমি নিশ্চিন্ত জড় হয়ে গেছি।
*     *     *      *       *      *
ঠিক আছে-
একটা ছোট্ট টিকা,
হয়তো ভালো লাগবে না,
আবার তুমি নিজের পা’য় দাঁড়াবে?
মনে হয় এটা ভাল কাজ করছে,ভাল,
আবার তুমি চলতে পারবে,
রঙ্গমঞ্চ খোলা আছে–
চলো, যেতে হবে।
*      *       *       *
শৈশবে  দেখেছিলাম ভাসমান-একঝলক,
চোখের কোনায়–
পেছন ঘুরেছিলাম,কেউ ছিলো না।
আমার আঙ্গুলগুলো এখন তা ছুঁতে পারেনা,
শিশু বড় হয়েছে
স্বপ্নগুলো চলে গেছে,
আমি নিশ্চিন্ত সুখের জড় হয়ে গেছি।

 

sahityasmriti.com

এখানে শরৎ  // অজ্ঞাত

এবারও  শরৎ এসেছে হিম চাদর গা’য়

আগমনী গানে ধরিত্রী কাশ পাড় শাড়ী

সবুজ সবুজে হলুদ দুঃখ গুলো নাই

বিষাদ বাঁশির সাথে দুঃখ করেছে আড়ি!

তারপর বলো তুমি কেমন আছো নয়না

ওখানে তোমার সুখসাগরের সাদা নাও

তোমাকে সবুজ খুব মানায় অন্য তেমন না

ওখানে কেউ বাঁশি বাজায় যেমন তুমি চাও ?

জানো চব্বিশ শরতে একমুঠো রাস্তা অজানা

দুই বেণী জায়গাও দখল করিনি বোধ হয়

শুধু কুয়াশায় স্বর্ণিম জাল বুনেছি না জানা

ভাবছি শুধু আর ভাবছি তার বেশি তো নয়!

আমার নীরব নিরালা শ্যাওলা রাত্রি গৃহকোন

টিকটিকি তাচ্ছিল্য ও আরশোলা ফিসফিস

শুনেছি শরৎ এসেছে দেখার নাই তো মন।

ভাবি কিঙ্কিণী উঠবে বেজে হাতে ধানের শিষ !

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: