কাগজের বিয়ে  

মৌ সাহা

শান্ত স্বভাবের মেয়ে সমর্পিতা।শিক্ষিত,নম্র,ভদ্র,ব্রাহ্মণ  পরিবারের জন্ম তার।পরিবারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে।বিয়ের বয়স হয়েছে,তাই পাত্রপক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছে।সমর্পিতা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।তার বাবা বংশ পরম্পরার পেশা পূজা অর্চনা করে রোজগার করেন।গ্রামের কিছু যজমান বাড়িতে নিয়মিত পূজো করেন।তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি।

অগ্রহায়ণের এক সোনালী বিকেল,পাশের গ্রামের বেশ ক্ষমতাবান ব্যাক্তি বাবু অমরেশ চক্রবর্তী।লোক মারফত বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন সমর্পিতাদের বাড়িতে।দশ গ্রামের মানুষ এক নামে চেনে সমরেশ বাবুকে।তিনি কয়েক’শ বিঘা জমির মালিক।তিনি ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন।ছেলের বয়স যদিও একটু বেশী প্রায় বিয়াল্লিশ ছুঁই ছুঁই।একটিমাত্র ছেলে।তাঁর যা কিছু আছে সবকিছু উত্তরাধিকার সূত্রে ছেলেই পাবে।

গরিব ব্রাহ্মণ সমর্পিতার বাবা।তিনি বিয়ের প্রস্তাবে খুশি হলেন। ব্রাহ্মণ ঘরের ছেলে,আমাদেরই সমগোত্র।এ পাত্র হাতছাড়া করা যাবেনা।তাদের যৌতুকেরও কোন চাহিদা নেই।মেয়ে আমার সুখেই থাকবে।এদিকে সমর্পিতা বিয়ের প্রস্তাব শুনে নারাজ।সে পড়াশোনা করেছে,নিজের পায়ে দাড়াতে চাই।বেশ কয়েকটা জায়গায় চাকরীর চেষ্টা করছে।

এরই মধ্যে বিয়ের প্রস্তাবে সে খুশি নয়।ছেলের বয়সও তার চেয়ে অনেকটা বেশি এবং বেকার।অষ্টম শ্রেণি পাশ।সমর্পিতা সুশ্রী ও গৃহকর্মে নিপুণা মেয়ে।ছোটবেলা থেকেই সপ্ন পড়াশোনা শেষ করে চাকুরী করবে,বাবার পাশে দাড়াবে।কিন্তুু সে স্বপ্ন আজ বুঝি স্বপ্নই রয়ে যাবে। এদিকে সমর্পিতার বাবা,ছেলের বাবাকে মোটামোটি পাকা কথা দিয়েই ফেলেছেন।মেয়ের আপত্তি স্বত্তেও তিনি বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেছেন।

ফাল্গুন মাসের ১২ তারিখ সমর্পিতার বিয়ে।এদিকে সমর্পিতার মায়ের কিছুটা আপত্তি ছিল,কারণ পাত্রের বয়স বেশি।কিন্তুু অবশেষে সবদিক চিন্তা করে রাজি হয়েছেন।যথাসময়ে এলো সেই শুভক্ষণ।অল্প অল্প শীতের একটি রাত।বরবেশে অমরেশ বাবুর ছেলে হাজির অর্পিতাদের বাড়িতে।

চারিদিকে আলোর বন্যা বইছে।পুরো গ্রাম সেজেছে বর্নীল রঙে,সানাইয়ের সুরে  চারদিক মুখরিত।কিন্তুু সমর্পিতার মনে দুঃখের ছাপ স্পষ্ট।নেহাৎ বাবা-মার কথা ভেবে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে।মন্ত্রপাঠ,মালাবদল,কন্যাসম্প্রদান,সাঁতপাক ঘুরে বিয়ে হলো ঠিকই।সামাজিকতার রীতিতে একহলো দুটি শরীর।”হৃদয়ের আদান-প্রদান রয়ে গেলে বাকী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: