কোথায় যেন পড়েছিলাম কবি একলা– একা // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

12132

একা একাই তার পথচলা, কলমধরা, মনে মনে কথা বলা, সঙ্গীহীন হয়ে জনবহুল অন্তরের মধ্যে বেঁচে থাকা। উদাসীন বা আনমনা- যেন পরাজাগতিক অদৃশ্য- বসন্তের অনুভব।

     কোনো কবিসভায় ডাক পেয়েও সুযোগ না পাওয়া,” ব্রাত্য” হিসেবে নিজের প্রতি ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে থাকা—- সবখানেই সে একা। আর এখানেই কবির কবিত্ব হয় নির্ভেজাল সম্পদ।

      বন্ধু, সঙ্গী, এমনকি চাটুকার  সকলে লেখার জন্য বাহবা দিলেও একাকীত্বেই কবিকে দেখতে চায়।

       বাইরে বাইরে বন্ধুত্ব থাকলেও ভিতরে ভিতরে তাদের আস্তিনে গুটিয়ে শক্তিশালী হবার বাসনা কবিকে একলা করে তোলে।এতেই কবির আত্মসচেতনতা বাড়ে —মুক্তিলাভ করে অসংখ্য ভালো লেখার উপজীব্য।

         কবি নিজের আত্মবিশ্লেষনে ব্যস্ত হয়ে নতুন নতুন পথে কবিতার আঁচড় কাটে। নিজের সম্বন্ধে নিজেকে ছোট ভেবে স্ববিরোধিতায় রঙিন ইতিহাসের নিবিড়ত্ব ব্যাখ্যা করে।

       রীতি মতো আটঘাট বেঁধে নতুন কবিতা লেখায় উজ্জীবিত হয়— একলা একলা, একা একা।

        মাতালের মত ঝুঁকে পড়ে লেখার অঙ্গীকারে, বিস্ফোরণ ঘটে।মদ- গাঁজা-বার- ফুল পাপড়ি- অরন্য- ভ্রমর, যুদ্ধ , সংসার হয়ে ওঠে স্বদেশ– একার অন্ধকারে এবং অসাধারণ কবিতার জনক হিসেবে।

       অভিশাপে সাপ হয়ে যায় দৈনন্দিন পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার বন্ধু —অন্যরকম হয় কবিতা-জন্মের লগ্ন— ঠিক প্রসববেদনায় কাতর নারী যেমন অসহায় পরিস্থিতির শিকার।

       বিদ্বেষ, বিরক্তি, বিতৃষ্ণা শরীরময় হলেও কবি সবসময়ই একা, কবিতার জন্মমুহূর্তে। যেখানে সংকীর্ণতা বিপন্নতায় ক্রীতদাসী মানসিকতা থেকে বাসমতি চাল উৎপন্ন করে। নতুন নতুন শব্দকোষ গড়ে ওঠে। কী ভাবে, কী বচনে, কী চলনে একলা হয়ে যায় কবি……

          কবি মানে একা—সত্যি সত্যিই একা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *