গল্প : উচ্ছেদ

রণেশ রায় // ০৯/০৩/২০১৭

sahityasmriti.com1

প্রতিদিন সকালে একটু বেলা হলে দেখা যেত করবাবু মানে আমাদের ধীমানের বাবাকে দুধ সাদা ধুতি আর পাঞ্জাবি পরে কাগজ হাতে বারান্দায় আরাম কেদারায় বসে থাকতে। জ্যৈষ্ঠের দুপুরের আকাশটা তাঁর মাথায় ঝলমল  করত। এক নাতনী এসে দাদুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে:

দাদুর মাথায় টাক

বসবে এসে কাক

দাদু কাগজ থেকে মুখ তুলে নাতনিকে আদর করে কোলে নিয়ে বলেন, “ মুখটা তোর  দ্যাখ ”। কাগজ পড়ার ফাঁকেই দাদু কাকে যেন খুঁজে ফিরতেন। কার জন্য যেন অপেক্ষায়।

কিছুক্ষনের মধ্যেই বাজারের থলি নিয়ে মাসিমা ফিরতেন। মেসোমশাইয়ের উৎসুক চোখ। বলতেন:

—– কি মাছ পাইলা ? মাসিমা হয়তো বলতেন :

—– ছোট মোরোলা মাছ।

—– ক্যান্ ! বড় কাটা রুই পাইলা না ?

—– দাম বেশি। কাইল বেশি টাকা দিও আইনা দিবাম। খালি খাওয়ন আর খাওয়ন !

—- তা, সঙ্গে কাঁচা আম আনছ ত ? দমে গিয়ে মেসোমশাই বলতেন।

—- না আইন্যা যাইবাম কই !

সকালের রোজনামচা শেষে মাসিমা ভেতরে চলে যেতেন। উনুনঘরে তাঁর অনেক কাজ। বাজে বকার সময় কই !

আজ থেকে পঞ্চাশ  বছর আগে এই সময় সকাল ন`টা বা দশটায় সামনের দিক থেকে  গোল এই বাড়ির বারান্দাটা রোদে ঝলমল করত। সেই সাতসকাল থেকেই শিশু থেকে বৃদ্ধ কতজনকে দেখা যেত।  কাকভোরে ধীমানের বাবা করবাবু ছড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে বাড়ি থেকে বেরোতেন। উদ্দেশ্য প্রাত:ভ্রমন। অন্যেরা একটু বেলা হলে কেউ কেউ অফিসে বাজারে বেরোত, কেউ কেউ স্কুলে। শিশুরা খেলা করত বারান্দায়। রোদের আবির মেখে দৌড়োদৌড়ি, হুড়োহুড়ি। বন্ধুবান্ধবের অবাধ আনাগোনা।

দক্ষিণে একদিকে নিমগাছের  পাতার দুলুনি। আরেক দিকে নারকেল পেপে গাছ। বর্ষাকালে চারদিক জলে থৈ থৈ করত। খালি মাঠগুলো ভর্তি হয়ে পুকুর। পাড়ার মোড় থেকে মনে হ`ত বাড়িটা ভাসছে। যেন তাজমহল। ধীমানকে বললে ও বলতো,“ওটা বাবার প্রেম।“ ও ভুল বলতো না। সন্দেহ নেই ওর বাবার চাল চলন ছিল শাজাহানি। আর ওর মা সত্যি মমতাজ সুন্দরী !

একই সঙ্গে তিনি বাড়ির রাঁধুনি, বাজার সরকার। রোজই  তাকে বাজার করতে দেখা যেত। তিনি বাজার করে নিজের হাতে রান্না না করলে করবাবুর রুচতো না। স্ত্রীর প্রতি তাঁর কর্তৃত্ব, আবার অবাধ প্রেম , নির্ভরশীলতা। এ সবই আজ ইতিহাস।

ওরা মানে ধীমানরা নিজেদের এখন-ও বাঙাল বলে পরিচয় দেয়। বলে ওরা ওদেশের বাসিন্দা, যখন ওদেশটাও এদেশ ছিল। বোধ হয় ক্ষতটা এখন-ও রয়ে গেছে। ওখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে এন্টালি বালিগঞ্জে কাটিয়ে কর  সাহেবের অবসর জীবনে সপরিবারে এই পল্লী বাস। এই দেশে। শোনা যেত বারেন্দায় বসে অবসরপ্রাপ্ত ধীমানের বাবার হুঙ্কার, “ওগো.কখন এককাপ চা চাইসি। এখনও হইল না !“

পূর্বপুরুষ জমিদার ছিলেন কি না জানি না। তবে করবাহাদুরের জমিদারি মেজাজটা আমৃত্যু তাঁর জীবনে বহাল। তৎপর আর একই সঙ্গে সন্ত্রস্ত মাসিমা সঙ্গে সঙ্গে এককাপ চা নিয়ে উপস্থিত। মাসিমা উনুনঘরে যেতেই আবার হাঁক, “ওগো, কয়টা বাজে দেখতো“। মাসিমা ঘড়ি না দেখেই গলা তুলে বলতেন, “বারোটা পাঁচ“।

করবাবুর মাথার ওপর ঘড়িটা পাঁচ মিনিট আগে ঢং ঢং করে জানিয়ে গেছে বেলা বারোটা।

2

আমাদের বন্ধু ধীমান  তাঁর মায়ের স্মরণে একটা কবিতা লেখে যেটা সবাইকে স্পর্শ করে আর তাকে পুরোনো এই দিনগুলো  স্মরণ করিয়ে দেয়:

মা, কেমন আছো ?

জানি, এ প্রশ্নের কোন মানে হয় না,

তাও প্রশ্ন করে যাই

যদিও  উত্তরটা  আমার জানা —

তুমি তো বলবে ভালো আছ,

অভিযোগ   কোন নাই

ভালো থাকলেও ভালো

খারাপ থাকলেও তাই ।

সেই কাক  ভোরে

কেউ ওঠার আগে

তুমি আগুন  ঘরে,

রোজই , ছুটি  নেই কোন,

নিরলস  টেনে চল বোঝা

সবার জন্য নানা রকম  রান্না

সবাইকে খাইয়ে

নিজেরটা সারতে  বেলা তিনটে

তার মধ্যেই

ঘর গোছানো

স্নান  কাপড় কাচা  ঘরমোছা,

সন্ধ্যে বেলা আমাদের পড়ানো

জীবনের প্রচ্ছদে ছবি আঁকা

গল্প বলা ছড়া কাটা,

এত পরিশ্রম  করেও

তোমার সেই ভালো থাকা  l

তোমার মুখে পূর্ণিমার জোৎস্না

তুমি হাসো যখন

তোমার হাসিতে

গোলাপের প্রস্ফুটন

ঝর্ণার কল কল তোমার কথায়

তুমি  শরতের সকাল

ফাগুনের বাতাস

তোমার স্পর্শে  সংসার ম￰ধুময়।

 তোমার ঘর সাজানো  ঘর পরিষ্কার

কে দেয় দাম তার

তুমি কি আরবান  ক্লাবের মেম্বার ?

তোমার সুস্বাদু  রান্না

তোমার ঘর কন্যা

তোমার আদর  যত্ন

তোমার কাজে তোমার সত্তা

পৌরুষের কৌলিন্যে বন্দী

ঘরের চৌকাঠ  পেরোতে পারে না ,

সেই রান্না ভজহরি  মান্না

বা

বাঞ্ছা  রামের বাগানের  মত নয়,

দর  পায় না,

কারন সে বাজারে  বিকোয় না ।

সংসার চালায়  কে বা ?

প্রশ্ন করলে উত্তর আসে,

ওরা সবাই বলে ,

কে আবার ! বাবা,

বাবার পয়সাতেই তো চলে l

হায় রে আমার মা ! মায়ের পরিশ্রম

মায়ের দর্শন  মায়ের মনন ?

ভাবি আমি মনে মনে

সেটা যে স্তুতি বাক্য,

‘সংসার সুখের হয় রমণীর  গুনে’ ।

করবাবুর মেজ ছেলে ধীমান কর। এখন সে বৃদ্ধ। তার ছাত্র জীবনের শেষ প্রান্ত থেকে আজ সে পৌঁছেছে  জীবনের শেষ প্রান্তে। এখানেই আজও বাস। দুই ছেলে মেয়ে। মেয়ে চাকুরীরত স্বামীর সঙ্গে পুত্র নিয়ে ভিন প্রদেশে।

কলেজে চাকুরী ছেড়ে স্বামীকে সঙ্গ দেওয়া আর ছেলেকে মানুষ করার কাজে  আজ দীক্ষিতা। পুত্র সাফল্যের সঙ্গে পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। সেও ভিন প্রদেশের বাসিন্দা। মোটা মাইনে। খরচ আরও মোটা। ঋণ পত্রে খরচের বাহার। এখানেও ধীমান নিঃশ্চুপ। বলার কী আছে ! ওদের আজ ক্ষমতা আছে। ধীমানদের ছিল না। সমাজটাও বদলেছে।

প্রতিষ্ঠিত সব সন্তানদের বাবা-মায়ের মত ধীমানরাও  আজ নিজ বাড়িতে দুজন। স্ত্রী-ও তার মতই অবসর প্রাপ্তা পেনশন ভোগী কর্মচারী। আর্থিক ভাবে যথেষ্ট সচ্ছল।  একাকিত্ব আর রোগভোগের আতঙ্ক ছাড়া জীবনে আর কোন অনিশ্চয়তা কোথায় ! হ্যাঁ আছে। এক বিচ্ছিন্নতার আতঙ্ক যাকে  ইংরেজিতে বলে alienation। এই সভ্যতা সমাজ জীবনে নামিয়ে এনেছে এক ভয়াভয় বিচ্ছিন্নতা।

বিচ্ছিন্নতা জন্ম দিয়েছে সমাজবিমুখতা। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা। শৈশবের বিচ্ছিন্নতা, যৌবনের বিচ্ছিন্নতা, বার্ধক্যের বিচ্ছিন্নতা। সমাজ জীবন থেকে ব্যক্তিজীবনের বিচ্ছিন্নতা। সৃষ্টি থেকে স্রষ্টা বিচ্ছিন্ন। পরিবেশ থেকে মানুষের বিচ্ছিন্নতা। আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদের বিচ্ছিন্নতা। সমরবাদের বিচ্ছিন্নতা। মৌলবাদের বিচ্ছিন্নতা। ধর থেকে মাথাটাই ছিন্ন। সবার জীবনকে  এই বিচ্ছিন্নতা এক উপগ্রহ হয়ে প্রদক্ষিণ করে। বিচ্ছিন্নতার পূর্ণগ্রাস নামিয়ে আনে অন্ধকার। এক তমসা। সভ্যতার নিদান মেনে মানুষ পরিকল্পনামত ছোট সংসার পেতেছে। পরিবার পরিকল্পনার দৌলতে সচ্ছল জীবন ভোগ করছে।

শৈশবকাল থেকে শিশুকে ইঁদুর দৌঁড়ে সামিল করেছে। আপনি বাঁচলে বাপের নাম। কিছু পেতে গেলে কিছু ছাড়তে হয়। তাই এই সমঝোতা। সে ছেলেমেয়েকে `মানুষ` করেছে। যে ভাবে চেয়েছে সেভাবে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে সুযোগ না থাকায় তাদের ভিনপ্রদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে প্রয়োজনে তারা সবসময় উপস্থিত। তাই তার স্বস্তি  যে এই বিচ্ছিন্নতা তার পরিবারকে এখনো সম্পূর্ণ গ্রাস করতে পারে নি। কিন্তু তার বস্তুগত শর্ত তৈরী হয়েছে।

এ তো তার স্বেচ্ছা সন্ন্যাস। এর জন্য কাউকে দায়ী করা চলে না। ধীমান বোঝে। এ হ`ল মধ্যযুগীয় জীবনবোধ থেকে আধুনিক, আধুনিক থেকে আধুনিকোত্তর জীবনবোধে উত্তরণ। কাউকে কাউকে দেখা যায় উদয়নের পথে। সভ্যতার উদয়ন ! আকাঙ্খার অপমৃত্যু।

পঞ্চাশ  বছর হয়ে গেল। এখন বাড়িটা প্রায় জনশুন্য। বৃদ্ধাবাস। বাড়ির বারান্দায় রোদের আনাগোনা বন্ধ। শৈশব উধাও। যৌবনের দ্বীপান্তর।  বৃষ্টিতে বন্যা বয়ে গেলেও মাঠগুলি আর পুকুর হয় না। বৃষ্টির জল নিকাশি পথ ধরে বেরিয়ে যায়। ভাসে পেছনে দূরে কোথাও নিম্নাঞ্চল। ইটের দেওয়ালের আড়ালে সূর্য মুখ লুকায়। ঘরে রোদের প্রবেশ নিষেধ।

ধীমান লেখনী ধরে। কম্পিউটারে লিখে চলে :

সকালে বিছানায় শুয়ে

মটকা মেরে পড়ে

কোথায় গেল সে !

নেই কেন পাশে !

কে যেন কাঁদে,

দেখি চোখ খুলে

রোদটা পর্দার ওপাড়ে

ফাঁসিতে ঝুলে

ঢ্যাঙা হয়ে দাঁড়িয়ে।

চারিদিকে বহুতল বাড়িগুলো স্পর্ধায় দাঁড়িয়ে। ধীমানদের শাসনে রাখে। যেন রোদের তাপ না লাগে। স্যাঁৎ স্যাঁৎ-এ  ঘরে দোতলায় ধীমান কর আর তার স্ত্রী। নিচে ওপরে আর দুই ভাই। সেই যৌথ পরিবার ভেঙে আজ সমবায় পরিবার। পিতৃদত্ত বাড়িটাই সমবায় সংস্থার পুঁজি। সাধারনের জমি। যে যেমন চাষ করে  তেমন তার চলন বলন। কারও ব্যাপারে কেউ খুব একটা নেই। একটা ছাদের তলায়।

তাও যে যার। বাড়িটা না থাকলে নিশ্চয় যে যার পছন্দ মত জায়গায় ফ্ল্যাটে থাকত। ন্যূনতম যোগসূত্রটাও থাকত কি না সন্দেহ। এরই মধ্যে ধীমান কর আলোর স্পর্শ পায়। তার আর অন্য দু ভাই অন্যত্র ফ্লাট নিয়ে থাকে। তারা পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদারিত্ব দাবি করে ধীমানদের পথ দেখিয়ে দেয় না। সেখানে সে নিজেদের পরিবারের পারস্পরিক বন্ধনের একটা রেশ খুঁজে পায়।

বেলা হয়েছে। কারও  তেমন কাজ নেই। সময় কাটে না। কাটাতে হয়। বিরাম বসে কম্পিউটার নিয়ে। আর সুকন্যা গল্পের বই  নিয়ে। কাজতো নয় অকাজ। বিরাম বলে :

——-একটু কফি করে খাওয়াও না ! অনুরোধের সুর। সুকন্যা বোঝে অনুরোধের সুরে আদেশ। সে বলে,

—— দেখছো  না আমি বইটা পড়ছি। নিজে উঠে  ইলেকট্রিক কেটলিতে জল বসিয়ে দাও না। বসে বসে আদেশ না করে পেছনটা ওঠাও।

—— কোথায় আদেশ করলাম ! এটাতো অনুরোধ মাত্র। আমি কাজে ব্যস্ত। তোমার হাত খালি। তাই বলা।  না পারলে দিও না। বিরাম গুম হয়ে যায়। সুকন্যা বই ফেলে রান্নাঘরে ঢোকে। ধীমানের মাথার ওপর সাবেকি  আমলের ঘড়িটা। সেই কবে বারোটা বেজে থেমে গেছে ।

ধীমানের পুত্র মধ্যে মধ্যে আসে। তার ইচ্ছে বাবা-মা তার সঙ্গে ভিন প্ৰদেশে গিয়ে বাকি জীবন কাটায়। ধীমানের তাতে মত নেই। আবার উচ্ছেদ ! দেশ ভাগের সেই উচ্ছেদের মর্মান্তিক স্মৃতি ফিরে  আসে। এখানে পৈতৃক বাড়িতে অতীতের স্মৃতিটা বেঁচে থাকে। চেনা পরিবেশ চেনা মহল্লা। ঘর থেকে বেরোলেই পরিচিতজন। এক ধরনের উত্তরাধিকার। ছেলে বলে এ বাড়িতো সবার। যার যার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হয়।

ধীমান যৌথ পরিবারের উত্তরাধিকারটা আঁকড়ে ধরে। ছেলের কথা মানে না। ভাইরাতো দাবি করে নি। আর সেতো তাদের ভাগাভাগি করে যার যেটা পাওনা সেটা নিয়ে নিতে বলেছে। তাদের ভাগে একটা ঘর পড়লেও সেটাই তাদের দুজনের চলে যাবে। পৈতৃক বাড়িটাতো বাঁচবে। অন্যত্র থাকা ভাইরা এ ব্যাপারে উৎসাহী নয়।

কিন্তু  আজ ধীমানরা চলে গেলে সেটা প্রোমোটারের পেটে যাবে। প্রোমোটারকে ঘেঁষতে দিতে তার মন চায় না। অনেক প্রোমোটার আবেদন করেছে। সে রাজি হয় নি। ধীমান এখানেই বাকি জীবন কাটাতে চায়। এরই মধ্যে বছরে একবার ছেলের ওখানে মাস দুয়েক আর মেয়ের ওখানে গরমটা কাটাবে। এখানেই বন্ধু প্রিয়জন নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবে ইচ্ছে। ছেলে কি আর করে। মেনে নিতে হয়। আর সত্যি-ই ত ভিন প্রদেশে বাবা-মা সঙ্গীহীন হয়ে পড়বে।

কিছুদিন হল ধীমান গত হয়েছে। পুত্র কন্যা দুজনেই এসেছে। মায়ের সঙ্গে বসে কথা হচ্ছে। দুজনেই মাকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু এখানে মা তার স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে। ধীমানের মত তার কাছেও এ বাড়ি একটা স্মৃতস ভরা ঐতিহ্য।

এ পাড়ায়  তার বাপের বাড়ি। সেই শিশু বেলা থেকে, ধীমানদের আগে থেকে তার এখানে আশ্রয়। এ পল্লীর সেই পুরোনো স্মৃতি। আসে পাশে ভাই বোনেরা এ পাড়ায় ওপাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বন্ধু বান্ধব অনেকে। কিন্তু ছেলে মেয়ে নাচার। মাকে নিয়ে যাবেই। মায়ের মন চায়  না। আর ধীমানের স্মৃতিও তার স্মৃতিতে ঘোরাঘুরি করে।

তিনজন কথা বলছে। এমন সময় কলিংবেল বেজে ওঠে। কুরিয়ারে চিঠি এসেছে। যেন  একটা আদেশনামা নিয়ে। ছেলে উঠে গিয়ে আদেশ নামাটা নেয়। ভালো করে পড়ে। পরের প্রজন্মের কেউ একজন জানিয়েছে বাড়িটা যৌথ সম্পত্তি, সবার পাওনা। ভাগ করে দিতে হবে। ধীমান বিষয়টা আগে বহুবার তুললেও ভাইরা গুরুত্ব দেয়নি।

আজ পরের প্রজন্মের কেউ   সেটা দাবি করছে। সেটাতো স্বাভাবিক। ছেলে মাকে বলে, “দেখো মানুষ যাযাবর জাতি। অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের সন্ধানে আজ এখানে কাল সেখানে“। মাকেও মেনে নিতে হয়। ঠিক হয় মাকে নিয়ে তারা চলে যাবে। ওদিকে প্রোমোটারের হাতছানি। মনে পড়ে এক প্রোমোটার বলেছিলো, ” দেখব আর কদিন  বাড়িটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন”।

-x-x-x-x-x-x-x-x-x

sahitysmriti.com
৬ বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জিভ ও গ্লান্ড অপারেশনের পর – কার্যত নিজের আত্মবিশ্বাস অটুট রাখার জন্য তখন থেকে আমি কবিতা আর ছড়া লেখা শুরু করি।   আর এই কাজের মধ্যে থেকে আমি নিজেকে ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছি। সেই অর্থে এটা আমার সামাজিক আন্দোলনের অঙ্গ। সবার কাছে আমার অনুরোধ যতই বিপত্তি আসুক জীবনে যে যেটা ভালোবাসেন সেটা করে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *