ছায়া ও ব্যথা

সুদীপ ঘোষাল

বেঁচে থাকতে মন চিনলি না মাটি
এই সখের দেহ একদিন হবে মাটি
জনম মরণ সমান তালে তার গতি
গোঁড়ামি ছেড়ে দিয়ে হোক কৃষ্ণ মতি

আমি নদী ভালোবাসি

তাই আমার বাড়ি অজয়
আমার দাদার বাড়ি গঙ্গা
মামার বাড়ি বক্রেশ্বর
মাসির  বাড়ি ময়ুরাক্ষী

আসলে সব নদীগুলো আমাদের মা

আমার দেশে মা ও নদী জুড়ে গিয়ে  দেশটা হয়েছে  নদীমাতৃক …

যেদিন তুমি উলঙ্গ ছবিতে হামলে পড়লে
আমার বিবস্ত্র  রূপে মাতাল হলে হোয়াটস অ্যাপে মেসেঞ্জার কিংবা ফেসবুকে

সেদিন বুঝলাম
না ছুঁয়েও ধর্ষণ করা যায়…

নীপার স্বামী ট্রামে চাপা পড়লে
ডাইনি নামে অপয়া বলে কাপড় খুলে পুড়িয়ে দিলে ,উলঙ্গ ছবি দিলে ফেসবুকে

সেদিনও বুঝলাম না ছুঁয়েও ধর্ষণ করা যায়

দুটি ধর্ষণেই ধর্ষিত হয় সবুজ মন…

একটা করবী বেণী শেষ বাসের যাত্রী
অসহায় চোখ ভরসা খোঁজে চারদিক
তিনটি শাবল উঁচিয়ে কালো হায়নার লোভ

মশারি ফেলেছে শহর ছুটন্ত জঙ্গল পুকুর নিবাস
লাল রক্তে ভিজে যায় সাজানো বাগিচা
অসহায়  রক্ত করবী কুচি কুচি কোনো মালি নেই
লোভ আসে সাজি ভরে একের পর এক
ফাঁকা অন্ধকার মাঠে থামে জীবন রথ

পরের দিন সকাল সকাল উলঙ্গ মাঠে মিছিল

এখনো বছরে বছরে হায়না গুলো জিভ চেটে যায় ক্রমাগত খাদকের বেশে…

মধ্যাহ্ন দিগন্ত জুড়ে মাটির আদর বটবৃক্ষ ছায়া
নয়নের স্তব্ধতা জুড়ে সাঁতার জলে আনত মুদ্রা
আজীবন স্বপ্ন খোঁজে মন মুগ্ধ সূত্র ধরে
সোনার বিপদ জুড়ে ফালি চাঁদের সুখ
ধুলোটে উদ্দাম সংগীতে কলঙ্ক মুছে যায়
ফিরে আসে শ্যাওলা স্রোতে মাটির আদর

জ্বলন্ত শ্মশান চিতা দাহ্য বস্তু খোঁজে মাটির আহ্বানে
সমাধি শ্মশান গন্ধে চন্ডালের উদাসীন অহংকারে
হাটুরে সওদা আজ নৌকাহীন নিভন্ত জীবন…

প্রিয় শোনো
একবার পাশাপাশি বসি
আলমারিতে সাজানো
থাকলে কাজ হবে না
তার চে.. বরং শিখি
জানিনা কিছুই
তোমার কাছে শিখবো বলে
হাতে কলম
আগুন নয় বন্ধু
কিছু করে দেখাই
প্রিয় তুমিই বাহাদুর

তুমি যাদের বন্ধু ভাবো
অন্ধকারের বাদশা হতেও পারে…

যেদিন রূপ ভোলানো ডানা মেলে তুমি ঝুল বারান্দায় রাত পরী
ঋজু ও রহস্য পথে হিম ছায়া জুড়ে অপ্রাকৃত মন সংলাপ শোনে কোনারক ছবির..
চাঁদপুরে তোমার আঁচল জুড়ে ভীষণ স্রোতে নদীর জোয়ার
কত শাস্ত্র পড়ে জোয়ার আসে নিঁখুত শিল্পে
অনুরাগ আদরে ঢেউ প্রত্যাশায় মনোরম পথচলা

পথের পথিক করে পথ নির্বাচন নির্মিত ভালোবাসা জুড়ে…

সিঁড়ি ভেঙ্গে নেমে আসে শরীর জলপ্রপাত
কুসুম ভিজতে থাকে নিসর্গ ঝর্ণা জুড়ে

মুছে যায় রাত জোড়া বিষণ্ন হলুদ অতীত
চোরাবালি স্রোতে ঢোকে শিকড়ে দোহার নথি

ঝড়ের আভাসে বিদ্যুৎ চমকে চাঁদ হেসে ওঠে প্রেমের আবেশে…

পই  পই করে বললাম উঠোনের গাছটা কাটিস না
কামারশালায় ধার করে আনলি তবু বারণ শুনলি না
ফাঁকা মাঠে বাড়ি আড়াল হতো ছায়া দিয়ে আগলে রাখতো মায়ের আঁচল
জুন মাসের আগুন রোদে বাড়ি জতুগৃহ
এ আগুন নেভে না সময় না হলে…

এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ঘাতক গোঁয়ার মালিক
মাথায় গামছা নিয়ে উঠোনে রোপণ করছে দুটি শিশু গাছ …

অন্ধজনেরও অধিকার রবির আলোয়
নীরবতা  বলে অনেক না বলা কথা
পাখি ওড়ে আর হাসে ঘাটে খাঁচা কেন কাঁদে
নদী নারী পুরুষ ঝর্ণা ভালোবাসো সুন্দর মনের সুন্দরী
খোলা মাঠ মনের পাঠশালা
ডিগ্রি র থেকে বড় মনুষ্যত্ব

গাছ জীবন কবি স্পন্দন প্রিয়জন  জনপ্রিয়
যতই পড়ি আজীবন আমরা ছাত্র
পৃথিবী প্রশ্ন উত্তর প্রকৃতি
গরম বাড়ায় শীতলতার প্রতি শ্রদ্ধা
পৃথিবী সমগ্র প্রাণী ও জীব জগতের শুধু মানুষের নয়
উঠোনে একবাটি  জল পাখি পান করে
একটাই ছাদ খোলা নীলাকাশ
একই পরিণতি মাটি শুধু মাটি
মাটি বিনা গতি নাই মানুষের কোনো জাত নাই
গোঁড়ামি নয় জ্ঞান ই ব্রাহ্মণের পরিচয়

একটু স্পর্শের জন্য ব্যস্ত খেলুড়ে
বৃষ্টির আশায় মেঘ হয়ে ওড়ে ,প্রতিচ্ছবি আঁকে
মুহূর্ত প্রেমিকা হয়ে ওঠে
ঝর্ণা ঝরঝরে মৃত্তিকা কাঁপে

অনুপম নবীনের  খোঁজে বৃষ্টির ছাট মহুয়া মাতাল
আকাশ নেমে আসে মাটির মাঝে হৃদয় দোলায়
যুগে যুগে রেখে যায় পৃথিবীর প্রথম প্রেম আশায় ভরসায়…

প্রথম সন্তান কন্যা হওয়ার পরে পিতা মাতা পুত্র সন্তানের আশায় স্বপ্ন দেখে
বংশ রক্ষা হবে ভিটেতে প্রদীপ জ্বালবে

আশায় আশায় দিন যায় কন্যার বিয়ে হয়
পুত্র লেখাপড়া শিখে বড় হয়, মানুষ হয় না

ভিটেতে প্রদীপ জ্বালে আলো হয় কিন্তু মায়ের মুখে চোখে খিদের অন্ধকার…

অবশেষে অন্তর আকাশে কন্যার ছবি ভেসে ওঠে
ঠাঁই হয় কন্যার ঘরে ভীষণ যত্নে খুশি হয় মায়ের অন্তর
অভিশাপ ভুলে যায় পুত্রের অন্যায়…

প্রতিটি ঘরে ঘরে ঈশ্বর একটি কন্যা  দান কোরো বোকা পুত্র লোভী পিতামাতার জন্য.।

পিতার অন্নে পালিত আত্মজ
দয়া করে আজ আপন স্রষ্টাকে

সরোবরে ফুটন্ত পদ্ম ,দোষে  বারেবারে
গরিমা বোধে গর্বিত স্পর্ধা অগোচরে

অহং বোধের শেষ সীমানা পাড়ের মাঝি
সৃষ্টি আজ পূর্ণ করে আপন  সাজি…

সুরেন্দ্রনাথ কলেজের তেইশ বছরের ছাত্রী র কালো ধোঁয়ার সাথে পাখি হয়ে উড়ে যাওয়ার কথাটা মনে পড়ে নরসিংহ দত্ত কলেজের বাঁধা জলে পা ডুবিয়ে…

আলোচনার ঝড় ওঠে জড়িয়ে ধরা স্মৃতির স্রোতে
আর কি ফিরবে ছুঁড়ে দেওয়া হিংসার বাতাস
মরমী মায়ের শূণ্য আঁচল আজও কাঁদে হিংসানীতির নিষ্ঠুর আঘাতে
কোমরে ঘাড়ে রোগের প্রকোপ তবু কফি হাউসে উঁকি মারে কবিতার লোভ
জায়গা নেই অগত্যা কলেজ স্কয়ার
শান্ত নীল জলে কৌশলী ঝাঁপ..

.

চিঠি //  জ্যোতির্ময়  রায়

এখন ডাকনাম গুলো আলমারীতে গুছিয়ে  রাখে সে শীতকাতুরে ভীষণ রকম।মন্দবাসা
নীল শাড়ির ভাঁজে মুখ লুকিয়ে তার
    ঘাস হওয়া উঠোনে ছিল যাওয়া আসা।
এরপর…
শেষ ট্রেন ।একা বাসস্টপে
          কেউ বা কারা নিয়ে যায় পোড়া মন্দিরে
দুচোখে খিদের বিষবাষ্প তিনিও ,বীর্য ছুড়ে মারে।
লালায় ভোরে যায় নিউজ।কবিদের কবিতা
        চিরকুট।
“সব পুরুষই ধর্ষক ,কেউ তার প্রেমিক না “
.

পদ্মগন্ধ  // মাধব মন্ডল

মন কেমনের ক্ষিদেরা নামতা গুনছে
কী অদ্ভূত করাতে সুর
চোখ দু’টো আগান বাগান ভাঙে
সুতোহীন তোকে কাছে চায়
কান কাটি নাক কাটি
নাক কাটি কান কাটি
এ ক্ষিদে মোটেও যাবার নয়!
তুইও সেই কবে জেনে গেছিস
এসব তুমি আমি আমি তুমি গুহ্য কথা
না কথারা ভিড় করে তাই তোর মনে
শুধু নানা অজুহাতে সরে সরে যাস
গুমোটে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে
একলা জীবের মত হাঁটি ছুটি
হাসতে ভুলে যাই।
অজস্র রোমান্টিক গান তোর ঠোঁটে
আর থরে থরে সাজানো শরীর তোর
বেল পাকলে কাগের কি
ভাবি আর চোখ পাল্টিয়ে থাকি
শীতল জীবেরাও বোঝে মন তাপ কী
হায়, তুই কি বুঝবি না কোনদিন!
কী ধাতুতে গড়া তোর মন!
অথচ সেই তুই আগো ভাত তুলিস না মুখে
সেরাটা আমার জন্যে সাজিয়ে দিস
রহস্য হাসির ধারা ঠোঁটে
আমি আর ভুল করেও ছুটে যাই না
অন্ধকার একটা মন নিয়ে থাকি
শুধু নাক দিয়ে চোখ দিয়ে ঢোকে
আকুলিবিকুলি তোর পদ্ম গন্ধ!
.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: