ছড়া – চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

sahityasmriti

একগুচ্ছো ছড়া

 এক
       শরৎ এলে
        শরৎ এলে দোল খেয়ে যায়
সাদা কাশের বন,
তুলোর মত মেঘ গুলো সব
উদাস করে মন।।
.
শরৎ এলে শিশির ভেজা
ঘাসের ডগাই হাসে,
মাঠে মাঠে পাগলা হাওয়ায়
সবুজ ফসল ভাসে।
.
শরৎ এলে শাপলা শালুক
নদীর জলে ফোটে,
দুষ্টু ছেলে সাঁতার কেটে
অমনি সেদিক ছোটে।
.
শরৎ এলে পাখীর গানে
জুড়ায় সবার প্রান,
অাকুল করে শিউলী টগর
জুঁই চামেলীর ঘ্রান।
.
শরৎ এলে জোনাক মেয়ে
ছড়ায় শুধু অালো,
এই শরতে অানন্দ ঢেউ।
তাইতো লাগে ভালো।
.

     দুই

   হেমন্তর ছড়া

মিষ্টি শীতের নবান্নতে
হেমন্ত তাই এলো,
সবুজ মাঠে অানন্দতে
সুখটা ফিরে এলো।
.
তুলোর মত সাদা সাদা
মেঘগুলো সব ভাসে,
গাছে গাছে পাগলা হাওয়ায়
শিউলি টগর হাসে।
.
ভােরের বেলায় ঘাসে ঘাসে
শিশির কণা ঝরে,
ধুম পড়ে যায় পিঠা পুলির
এই বাঙালির ঘরে।
.
খেজুর গাছে মাটির কলস
রস পড়ে টুপ টুপ,
হেমন্তের এই শীত অামেজে
সবাই থাকে চুপ।
.
মাঠে মাঠে সোনালী ধান
চাষীর মুখে হাসি,
হেমন্তকাল অালোর ঝলক
মুক্ত তারার রাশি।
.

          তিন

.অাজব খবর শুনি
   চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু
ওপাড়াতে অাজব খবর
তোমরা কেউ জানো?
ঘোড়া নাকি ডিম পেড়েছে
কেউ কি বলো মানো।
কোকিল নাকি পাহারা দেয়
সারাটা রাত জেগে,
কথা শুনে সিংহ মামা
তাইতো ওঠে রেগে।
অাসলো ঘোড়া দলে দলে
দেখবে এবার তারা,
এ সব খবর পাড়ায় পাড়ায়
ছড়ায় বলো কারা।
চালাক শেয়াল ছড়িয়ে খবর
দিচ্ছে সবার ধুলো,
ঘোড়া তো নয় ডিম পেড়েছে
লাল মুরগি গুলো।
কথা শুনে বনের পশু
হাঁ হাঁ করে হাসে,
বাঘ ভাল্লুক হরিণ হাতি
সবাই ছুটে অাসে।

        চার

বাঙালীর কবি

        রবীন্দ্রনাথ খাঁটি বাঙালী
সন্দেহ কারো অাছো ?
মায়ের টানে মাটির টানে
যারা থাকে কাছে কাছে।
.
অাকাশ নিয়ে বাতাস নিয়ে
লিখেছে হাজারো কবি,
ফুলের কথা ফলের কথা
গাছের কথা সবই।
.
শিশুর কথা লিখেছে ছড়ায়
জল টুপ টুপ করে,
একে্ছে কবি কত নানা ছবি
সব কিছু মনে পড়ে।
.
বিশ্বের সেরা বাঙালীর কবি
নোভেল পেয়েছে তাও,
তার গান শুনে মন উড়ে যায়
তুমি যদি গান গাও।
বাইশে শ্রাবণ এই বড় কবির
হঠাৎ হলো প্রয়াণ,
বাঙালীর মনে বিশ্ব জুড়ে
অাজও কবি অম্লান।
.

          পাঁচ

কবি নজরুল

 বর্ধমানের কাজীর ঘরে
 দুষ্টু  ছেলে দুখু,
 পাড়ায় পাড়ায় বেড়িয়ে শুধু
 হারায় সময় টুকু।
.
 ভুত পে্ত্নী দৈত্য দানব
 করতো না সে ভয়,
 অগ্নিবীনায় জাগলো এদেশ
 জাগলো জগৎময়।
.
 তাইনা দেখে স্বৈরাচারী
 পাঠিয়ে দিলো জেলে
 একটুও সে ভয় পায়নি
 দস্যিপনা ছেলে।
.
 শিকল পরা গানের সুরে
 মুক্তি দিলো তার
 মান করে সেই দুষ্টু  ছেলে
 কয়নি কথা অার।
.
অভিমানি সেই ছে্লেটা
হারিয়ে গেল দুরে
অাকাশ বাতাস অাজও দেখি
 কাঁদছে করুন সুরে।

          ছয়

ভুতের ছড়া

তেতুল গাছে রাত দুপুরে
ঝগড়া করে কারা?
লম্বা বেটে সাদা কালো
মামদো ভুত যারা।
.
ক্ষিধের জ্বালায় সবাই কাঁদে
নেইতো খাবার ঘরে,
গোল বেঁধেছে তাইতো তাদের
সারাটা রাত ধরে।
.
কাঁদতে থাকে হাসতে থাকে
নাচতে থাকে গাছে,
সবাই জানে তেতুল গাছে
হাজারো ভুত অাছে।
.
তেতুল গাছের পথটা ধরে
হাটলে পরে কেউ,
ভুতরা তখন মহা সুখে
লাগায় পিছে ফেউ।
.
মানুষ তখন জ্ঞান হারিয়ে
মাটিতে যায় পরে,
রক্ত চুষে ভুতেরা খায়
কোলের উপর ধরে।
.
ভয়ে ভয়ে ঐ পথে অার
কেউ যায় না ভুলে,
ভুতগুলো সব পাজি
অাগুন ধরায় চুলে।
.
তেতুল গাছে ভুতের বাড়ি
হাজার বছর ধরে,
গল্প শুনে সত্যি সবার
গা ছমছম করে
.
.
কবির ঠিকানা ;-
শহীদ অাবুল কাশেম সড়ক
বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা,বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: