জীবনের ধ্রুবতারা   // অভ্র  ঘোষাল

ssmriti

কেয়া-র গলা শুনে চমকটা কেটে যায় সিদ্ধার্থ-এর।Diary-র পাতা থেকে মুখ তুলে ওর ওপরে Pierre Cardin Triumph-টা রেখে বাঁ হাতের জ্বলন্ত cigarette-টাকে ঠোঁটের মাঝে নিয়ে কেয়ার দিকে তাকায় ও।চা-ভর্তি পেয়ালাটা হাতে নিয়ে ঘরে এসে ঢুকেছে কেয়া।”হুঁ রাখো এখানে “, বলে study table-টার বাঁ দিকের এক জায়গা থেকে কিছু বইপত্র সরিয়ে রাখে ওর ডান দিকে। তারপর cigarette-এ একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে chair-এ হেলান দিয়ে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ceiling-এর দিকে। মাথার ওপরে fan-টা ঘুরছে বনবন করে।

কেয়া চায়ের পেয়ালাটা নামিয়ে রাখে। “কী এতো ভাবছো বলো তো? সেই সন্ধ‌্যা থেকে বসে আছো কী এক diary-র মধ‌্যে মুখ গুঁজে ! কী করতে চাইছো বলো তো? আবার কি লেখার ভূত চাপলো? “,এই বলে কেয়া একটু মুখ চেপে হাসে। সিদ্ধার্থ কেয়া-র দিকে একবার তাকায়, তারপর বলে ওঠে, “তুমি ভুল বুঝলেই নি:শ্বাস ভারী হয়। “শুনে কেয়া বলে ওঠে, “সমরেশ মজুমদার পড়ছো মনে হচ্ছে খুব! ” একটু উৎসাহিত হয়ে সিদ্ধার্থ বলে ওঠে, “হুঁ, তবে খুব নয় ; মাঝে-মধ‌্যে, সময় পেলে। College-এর library-তে খুঁজে  পেলাম আজকেই। কী যেন নামটা…. কী যেন নামটা…” 

“সমরেশ মজুমদারের ‘গল্প একশো পঞ্চাশ’ ‘আনন্দ publication’, ঠিক বললাম তো? ” বলে পাশের chair-টায় বসে সিদ্ধার্থর দিকে তাকিয়ে থাকে কেয়া। “ঠিক, ঠিক, হ‌্যাঁ এইটাই, এই বইটাই। গল্পটার নাম হলো ‘তবু জীবন অগাধ’! দেখেছো তো, পুরোনো অভ‌্যাসটা থেকেই গিয়েছে ; একবারে বইয়ের নাম মনে থাকেই না আমার কিছুতে, but thanks to you ! ” বলে চায়ের পেয়ালায় একটা চুমুক দেয় সিদ্ধার্থ। চুমুক দিয়ে cup-টা নামিয়ে বলে, “তুমি আছো বলেই রক্ষে! Literature-এর ছাত্রী তো আসলে তুমিই।যাদবপুরের বাংলা Honours! First class third! আমি তো স্রেফ শখের সাহিত‌্যিক।

বঙ্গবাসী কলেজের Anthropology Honours! টুকটাক লিখি যেটুকু মাথায় আসে, মনে আসে ! ” কেয়া হেসে বলে ওঠে, “বিজ্ঞানের ছাত্র হলে কি আর সাহিত‌্যচর্চা যায় না? নীহাররঞ্জন গুপ্ত কি আর সাহিত‌্যের ছাত্র ছিলেন? ছিলেন তো ডাক্তার, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ! তাও তো ‘কিরীটি রায়’-এর জন্ম হলো ! রাজশেখর বসু-ও কি আর এই দলে ছিলেন না? শোনো, লেখার জন‌্য একটা আবেগি মন চাই কেবল! সেটা তোমার আছে! আমি জানি। আর তোমার লেখা তো আমার college-life থেকেই বেশ লাগতো! এখন না হয় আর সময় পাও না college-এর চাপে। যতোই হোক, Anthropology-র professor বলে কথা! “, আবার একটু মিটমিট করে হাসে কেয়া। তারপর আবার বলে, “কী হলো গো আজকে?রাত সাড়ে দশটা বাজতে চললো।

College থেকে ফিরেছো সেই সাতটার সময়ে। তারপর fresh হয়ে হঠাৎ diary নিয়ে বসলে। আবার এখন আচমকা এতোটা nostalgic হয়ে পড়ছো! কী লিখছো?কী ভাবছো?  “
সিদ্ধার্থ এতোক্ষণ এক দৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছিলো কেয়ার দিকে, এবার বলে উঠলো, “একটা কবিতা; মাথায় এলো আজ গল্পটা পড়ে। সেটা নিয়েই ভাবছি। বুবু ঘুমিয়ে পড়েছে? “

“হ‌্যাঁ, এই তো আধ ঘন্টা হলো ঘুম পাড়িয়ে এলাম। এবার চলো তো, চা-টা তাড়াতাড়ি শেষ করে খাবে চলো!”, বলে কেয়া উঠে দাঁড়ালো। কেয়ার হাতটা আলতো করে ধরলো সিদ্ধার্থ, “তোমার সঙ্গে কথা বললে আজও আমার সেই college life-টার কথা মনে পড়ে যায় কেয়া! তোমার কবিতা লেখা, তোমার স্বপ্ন দেখা, তোমার রাজনৈতিক মতামত, সমস্ত কিছু ! কিন্তু বুবু জন্মানোর পরেই সেই প্রাণবন্ত আর আদর্শবাদী কেয়া পরিণত হয়ে এরকম গৃহীণি কেয়া হয়ে উঠলো কীভাবে, তা তো আমার আজও অজানা কেয়া। তুমি পড়াশুনোটা শুরু করো না আবার, Masters-টা complete করো। আমি তো সাথে আছি তোমার।

সবে তো বুবুর তিন বছর বয়স, আবার শুরু করো না সব। তুমি পারবে, আমি জানি। আমি তো আছিই তোমার পাশে। ” এতোক্ষণ কেয়া বিভোর হয়ে তাকিয়ে ছিলো সিদ্ধার্থর দিকে। চোখটা আর্দ্র হয়ে আসে কেয়ার। সিদ্ধার্থ এবার উঠে দাঁড়ায়। ওকে জড়িয়ে ধরে কেয়া। হঠাৎ সিদ্ধার্থর Mobile-টা বেজে ওঠে, “তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: