টুকিটাকি // ছোটবেলা – ২১ // বন্য মাধব

mmd
ক্লাস ফোর থেকে ফাইভে ওঠার বার্ষিক পরীক্ষায় সেকেণ্ড হয়েছিলাম, বাবা বকেন নি, শুধু সস্নেহে বলেছিলেন, ঘি দুধ খেয়েও পারলি না রে! আরেকবার ক্লাস ওয়ানের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষায় বাংলায় দুই পেয়েছিলাম। লাল দাগ। অনেকদিন সে মার্কশীট আমাদের ফাইলে সংরক্ষিত ছিল। অবসরে যখন ফাইল খোলা হোতো তখন আবার ঠাট্টার খোরাক হোতে হোতো। বাবা বাড়ি থাকলে বলতেন জোরে জোরে পড়, রিডিং পড়াটা ঠিকঠাক না হোলে বলতেন, মাতৃভাষাটা ঠিকঠাক শিখছিস না? বাড়িতে রেডিও ছিল, কারো হাত দেওয়া মানা। বাবা শুধু সমীক্ষা আর খবর শুনতেন।
এই রেডিও থেকে একদিন আমরা জানলাম কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ। আরেকদিন রিলে শোনার সুযোগ হয়েছিলো। পেলে যেবার কলকাতায় এলেন, মোহনবাগানের সঙ্গে খেলতে, কম্পটন দত্তের নাম সেদিন বারবার কানে আসছিল বলে আজও মনে গাঁথা। বাবা অবশ্য যেসব খেলায় হাত পা ভাঙার ভয়, সেসব খেলতে এতটুকুও উৎসাহ দিতেন না। কিন্তু ফুটবল খেলতে গিয়ে মেজদারই হাত ভাঙলো। তাঁকে পাঁজাকোলা করে খালপুকুরের পাশ দিয়ে সন্ধ্যের দিকে আনা হচ্ছে, ভিড়ে ভিড়াক্কার বনবিবিতলা, বাড়িতে সবাই উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে মা, কঠিন সিচুয়েশন কিভাবে সামলাতে হয় বাবা খুব ভাল জানতেন, সঙ্গে সঙ্গে দাদাকে এন আর এসে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। মাকে সামলালেন। পরেরদিন প্লাস্টার হাতে দাদা ফিরলে তবে মা পুরোপুরি শান্ত।
আমাদের বড় জেঠামশাই প্রতি বুধবার সন্ধ্যায় রেডিওর যাত্রাপালা শুনতেন এবং উঠোনে রেডিও রেখে ভল্যুম জোরে দিয়ে সবাইকে শোনাতেন। বাবার খুব আপত্তি ছিল এতে। সন্ধ্যেবেলাটা পড়াশোনার সময় এটাই ছিল বাবার যুক্তি। কিন্তু জেঠামশাইয়ের যুক্তি ছিল যাত্রাপালা থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। যাইহোক, এই পালা শোনার আমাদের খুব আগ্রহ ছিল। ফলে লুকিয়ে চুরিয়ে বসে পড়তাম। হয়তো জমে গেছি, এমন সময় আমাদের সানোদা হাজির, ওঠ আগে ওঠ, পড়তে বসবি চল আগে, সারাজীবন রয়েছে যাত্রাপালা দেখার ইত্যাদি ইত্যাদি। অগত্যা……
( চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: