টুকিটাকি // ছোটবেলা – ২২ // বন্য মাধব

4587
চেয়ার টেবিলে বড়রা, আমরা নীচে মাদুর বা চ্যাটায় বসে হ্যারিকেন বা টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে পড়তে বসতাম। শব্দ করে পড়ার নির্দেশ থাকত, আনমনা হলেই একই শব্দ বা লাইন বারবার বলতাম, সঙ্গে সঙ্গে হাঁক, অ্যায় মন কোন দিকে?
আবার পড়তে পড়তে একটু ঢুলুনি এলেও হাঁক! চোখে জল দে, একটু হাঁট ইত্যাদি ইত্যাদি। 
আমাদের স্কুলটা ছিল পাঁচ সাত মিনিট দূরে। বর্ষার  সময় বড় রাস্তার খানিকটা ভেঙে যেত। জল ঘোলা হয়ে গেলে সেই ছেঁওড় পেরোতে অসুবিধা হত, গর্তে পা পড়লে পড়ে যাবার ভয়, হাফপ্যান্টুল ভিজে যাবার ভয়, জলঢোঁড়া সাপের ভয়। তবে স্কুলটা ছিল বেশ আনন্দের জায়গা, সামনে খেলার মাঠ, গরমেও ফুরফুরে হাওয়া, আড়ায় চড়া, হেড স্যার বঙ্কিমবিহারী মজুমদার আমাদের খুব চেনা, দিনের মধ্যে একবার হলেও তিনি আমাদের বাড়ি আসতেন, বাবার সঙ্গে তাঁর নানা বিষয়ে আলাপ আলোচনা হতো। বসিরহাটে পরিবার পরিজন রেখে এখানে তিনি নস্কর ফ্যামিলির ( প্রাক্তন সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্কর যে ফ্যামিলির)  বৈঠকখানা,
আমরা যাকে দরওয়াজা বা দরোজা বলতাম, তার একপাশে একটি ঘরে থাকতেন, ওঁদের বাড়িতে পালা করে খেতেন আর ওঁদের ছেলেমেয়েদের দু’বেলা পড়াতেন। রাতকে তিনি ভয় পেতেন খুব, হিসি করার জন্যে ঘরে একটা কেঁড়ে থাকত, আমরা স্কুল থেকে পালা করে তাঁর ঘরে যেতাম, কেঁড়ে ধুয়ে জায়গায় রাখতাম। বাংলা গোলা সাবান আর স্যারের ময়লা জামাকাপড় নিয়ে এসে কেচে দিতাম। পরীক্ষার আগে গেলে আর ট্রাঙ্ক খোলা থাকলে ঝুপঝাপ একটু প্রশ্নপত্র দেখে নিতাম।
তবে আমরা ‘সেকেন’ স্যারকে ভয় পেতাম। তিনি থাকতেন মিদ্দেপাড়ায়, ১১ নং কুমড়োখালিতে একই রকমভাবে। মালঞ্চের এদিকে ছিল তাঁর বাড়ি। শুনেছি স্যার মাঝেমধ্যে গ্লাস ভক্ত হয়ে পড়তেন। এসব তথ্য হেডস্যার আমাদের সাপ্লাই করতেন। প্রায় তিনি স্কুল কামাই করে বাড়ি যেতেন। সেইজন্যে দুই স্যার আমাদের সামনেই মাঝেমাঝে ঝগড়া করতেন। আর আড়ালে এ ওর নামে এটা ওটা ছাত্রছাত্রীদের বলতেন। এমনকি নাম, জাত তোলা, কিছুই বাকি থাকতো না। তবে আমরা ছিলাম নিরপেক্ষ শ্রোতামাত্র।

( চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *