দোপাটির প্যাকেটটা দুবার পড়ে গেল

smriti

  স্কুল ড্রেস  //  সায়ক সেনগুপ্ত

আলনায় রাখা ঐ জামাটা

আর কখনো পড়া হবেনা,
সেল্ফে রাখা পিঠের ব্যাগে
হোমওয়ার্কের ভার পাব না,
একটা যুগের অবসান হলো আজ,
ইতি হল দীর্ঘ বন্ধুসূত্রতার।

টিফিন বক্সটা হারাবে এবার
ক্যান্টিনের ভীড়ে, 
কিছু সম্পর্ক হারাবে আবার 
নতুন মুখের তীরে,
মাঠের দৌড় হারিয়ে যাবে
স্যোশালের আঙিনায়;
হারাবে কত প্রতিশ্রুতি 
স্বার্থের ইশারায়।

দুনিয়াদারির খবর নিয়ে
ঘর ফিরবে ক্লান্ত মন,
আলনার ঐ স্কুল ড্রেস দেখে
মন করবে যে উচাটন।
বেঞ্চিতে সেই লিখে রাখা নাম
আর পেন ফাইটিঙের শব্দ;
কালের নিয়মে স্মৃতির কোঠায়
রয়ে গেল হয়ে জব্দ।

দুষ্টু-মিষ্টি চোরা চাহনি
আর বসন্ত অঞ্জলীতে,
প্রেম প্রেম খেলা চলেছে কত
তবু সারল্য ছিল তাতে।
লুকিয়ে লুকিয়ে মোবাইল ফোন
ক্লাস কেটে মাঠে খেলা;
আন্দোলন আর ঘেরাও পরে 
তার সাঙ্গ হবে পালা।

বৈধব্যের সাদা কাপড়
তবুওতো যায় রাঙানো,
কিন্তু ফেলে আসা স্কুল ড্রেস
আর যায়না তো ফেরানো,
ফেলে আসা স্কুল ড্রেস
শুধু স্মৃতি হয়ে হাতড়ানো।

.

.

.

শিক্ষার্থীদের প্রতি // রণেশ রায়

নিচের ইংরেজি কবিতার ভাবানুসারে লেখা কবিতাগুলো স্কুল থেকে কলেজস্তরে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত । দেখা যায় মূল কবিতাগুলো ইংরেজিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনেক সময় সহজে বোধগম্য হয় না । ইংরেজি শব্দগুলোর সঠিক প্রতিশব্দ পাওয়া যায় না। অনেক শব্দ কবিতায় চলতি অর্থে ব্যবহৃত হয় নাI পুরো লেখাটা ধরে তার অর্থ বুঝে নিতে হয়। আমরা যারা অনুবাদ করি তারা শব্দ ধরে করি না ।

ভাবটা ধরে অনুবাদ করতে হয় । ভাবটাকে ধরে রাখার জন্য সঠিক শব্দ চয়ন জরুরি । শিক্ষাথীরা তাই মাতৃভাষায় ভাবানুসারে লেখা কবিতাটা যদি পড়ে নেয় তবে মূল কবিতাটা সহজে বুঝতে পারে।

কবিতা বুঝতে হয় তার ভাব দিয়ে। শব্দের আভিধানিক অর্থ দিয়ে সেটা উপলব্ধির স্তরে নিয়ে যাওয়া যায় না। আর এই আত্মস্ত করার প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ হয় মাতৃ ভাষায়। তাই মাতৃভাষায় পড়ে পরে ইংরেজিটা সহজে পড়ে নেওয়া যায় কারণ কবিতার ভাবটা মাতৃভাষায় আমাদের শয়নে স্বপনে খেলা করে । তাই আমরা বলি বিদেশী ভাষা শিখতে গেলে তার রস পেতে গেলে মাতৃভাষার চর্চা করতে হয় ।

My Sweet Heart  //   Ranesh Ray

Oh! My poem, my sweet heart,

Draw a picture,

Paint this beautiful universe

In your canvas,

Speak out,

Speak out straight and simple

Lower your profile

Down to the earth

Come down among the people

Make it not perplexed

Unmask the mask of unperceivable

Give words to your poem

The poem that speaks of deprived

Deprived lot

Who cannot earn

Two square meals a day

Health care remains uncared for

Education ! a far cry

Rebel sings in your poem

Dances in the rhythm of song

Sukant Nazrul row the boat

In the midst of thunderstorm

To ride the waves high

Flower blossoms

In the Garden of love

Where Tagore roams around

Tolstoy lives in the hamlet of poem

Gorky walks in the street

In the canvas of poem

Future dawns

The rhythm of life laughs in cheer

We embrace each other.

 

ওপরের কবিতার ভাব অবলম্বনে

কবিতা, প্রিয়তমা আমার  //  রণেশ রায়

কবিতা, প্রিয়তমা আমার

তুমি বেঁচে থাকো,

আমার হৃদয়ের প্রচ্ছদে,

প্রিয়তমা আমার,

সুন্দরের ছবি আঁকো,

তুমি নেমে এসো আমাদের ভাষায়,

সময় বয়ে যায়

আর নয় নয় আর ।

কবিতা, তুমি বেঁচে থাকো

সকলের আশায়

সহজ সরল এ জীবনে আবার,

দুর্বোধ্যতার মুখোশ খোলো

জেগে ওঠো কাব্যের মহিমায়,

তোমার কবিতায় দুর্বলের কথা বল

কথা বল জনতার,

যাদের দুবেলা জোটে না আহার

চিকিৎসা পায় না যারা,

শিক্ষা ! বড় ব্যভিচার ।

বিদ্রোহের সুর বাজুক তোমার কবিতায়

অশ্রু ঝরুক মন বেদনায়,

ফিরে দেখো আবার

তোমার কবিতায় সুকান্ত নজরুল খেয়া বায়,

প্রেম ফিরে আসুক রবির জ্যোৎস্নায়

ফুল ফুটুক হৃদয়ের কাননে

ছন্দ নেচে উঠুক কল কল তানে

ভেসে চলুক জোয়ারে উজানে

সত্যেরে দিশা করে

সঠিক নিশানা ধরে

সত্যেনের ছন্দ বন্ধনে।

বনলতা বেঁচে থাকুক

তোমার হৃদয় মাঝে

সুকন্যা আগামীর ছবি আঁকুক

তোমার জীবন প্রচ্ছদে।

টলস্টয় ঘর বাঁধুক তোমার আঙিনায়

ভৈরোঁর গানে গানে

ওয়ার্থ ফিরে আসুক কবিতার ভাবনায়

শেলী ঘুরে ফেরে তোমার আনন্দ ধারায়

কিটসের দেখা পাই বিরহের যন্ত্রনায়

গোর্কি এসে বসুক চেতনার বৈঠক খানায়,

আলিঙ্গনে আমরা সবাই

কবিতার মূর্চ্ছনায় ।

.

.

.

লিখতে চাই তেমন কলম পাচ্ছি কৈ // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

আমি যে লিখতে চাই

   লিখতে লিখতে বলতে চাই

     বলতে বলতে আঁকতে চাই

       মানুষ হয়ে বাচতে চাই

        তেমন হবার সুযোগ কৈ?

শিশুরা মরছে শৈশব হারিয়ে

   জঙ্গিরা হানছে বোমা বানিয়ে

    সব নাকি শ্লথ হবে

      তাই চলেছি ঊর্ধ্বশ্বাসে ‌‌্

        শ্লথভরা পথ পেরিয়ে

ভয়ভাবনার টানাপোড়েন

  সবজাগাতেই দেখি প্রেমের গার্ডেন

   মাথুর মথুরা একই ভেবে

    বাঁশি আর গান ধরে না

      অশরীরীরা যে ইন দ্য গার্ডেন।

আহা! আমি যে লিখতে চাই

  একটা যদি কলম দেন 

    তেমন কলম পাচ্ছি কৈ?

অন্ধকার অদৃশ্য হলে

    কারোর কান্না শুনতে পেলে

     সূর্যাস্তের আলো জ্বেলে

        সাহস দিয়ে হাত বাড়ালে

          সাগর মরু পাহাড় ডিঙিয়ে

            ধোঁয়ার মত ভাসতে চাই

               একটা কিছু লিখতে চাই

              কিন্তু তেমন কলম পাচ্ছি কৈ

.

.

.

দোপাটির প্যাকেটটা দুবার পড়ে গেল – প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী

শিল্পী আর সংস্কৃতি নুন আনতে পান্তা ফুরােয় !

দেশপ্রেম, আন্দোলন প্রতিবাদ পান্তার সংসারে !

বেরঙীন জীবনে সবে রঙ ধরেছে।

গত বসন্তে ফুলফোটার কথা ছিল।

মাচার চায়ের দোকানে।

গুজব উঠেছিল-এ বসন্তে ফুল ফুটেছে তবে—

তপ্ত বেলায় এমনি রঙ নিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন ওঁর বাপ টা।

সকাল সকাল বাজার করার অভ্যাস টা।

অনেক পুরনাে বাজারে বৃহস্পতিবার।

ফুলের দোকানে লম্বা ভিড়।

আজ তবে কী পুজো??

কাকু আজ প্রেম পুজো ! লাল গােলাপ এর অনেক দাম !

আমার লাল গােলাপ চাইনা-

খানিক সাদা দোপাটি দিও।

বৃহস্পতিবার এর দুপুরে নিরামিষ ভাত টা কিছুতেই মুখে উঠছিল না !

রবিবার ছেলেটা ফিরলে কচি পাঁঠার ঝােল-কজি ডুবিয়ে-

সূর্য অস্ত গেল ওই সাদা দোপাটির প্যাকেটটা দুবার পড়ে গেল-

সকাল ছেড়ে দুপুর গড়িয়েছে মােড়ের মাথায় মঞ্চ বাঁধা হয়েছে।

লক্ষী বারে আনা সাদা দো পাটি র জায়গা যে,

ঘুমিয়ে থাকা ছেলের বুকে হবে এমনটা ভাবেনি,

এমনটা ভাবতে চাইনি !

সেলাম বাবা- আমার বসন্তে ফুল ফুটেছে,

আমার বুকে-এসেছি, শুয়েছি, ঘুম এসেছে বাবা ফুল ফুটেছে আজ বসন্তে,

আমার বুকে । সেলাম বাবা 

.

.

.

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: