নারী : অর্ধেক আকাশ  //

মেয়েদের জীবনের সব থেকে বড় সমস্যা কী জানেন ?

পায়ের নীচে এক টুকরো শক্ত মাটি আর মাথার উপরে একটা নিরাপদ ছাদের অভাব। অথচ মেয়েদের কিন্তু বাড়ির অভাব নেই—বাবার বাড়ি/মায়ের বাড়ি /ভাইয়ের বাড়ি/ স্বামীর বাড়ি/ছেলের বাড়ি—সবগুলোই মেয়েদের বাড়ি ,তবে মৌখিকভাবে,যাকে বলে “literally” ।

.

.

সম্পর্কের টানাপোড়ন ঘটলেই টের পাওয়া যায় আসলে ওটা প্রকৃতপক্ষে “কার বাড়ি”!”নিজের এক টুকরো ঘর, এক মুঠো আশ্রয়, নারীর নিজের বাড়ি : এসব কি এ সমাজে আদৌ সম্ভব ? প্রত‌্যেকটি মেয়েকে জীবনে তিনটি অত‌্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়.. 

.

.

প্রথমটি হলো ‘Periods’ বা ‘ঋতুচক্র’…  সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়েটা হঠাৎ খেয়াল করে তার শরীরে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে..সে প্রচন্ড ভয় পায়, তার পায়ের তলার মাটি খসে যেতে থাকে। এই সময়টা প্রত‌্যেকটি মেয়ের কাছে এক প্রকারের “challenge”। তারপর মেয়েটি যখন তার মায়ের কাছে জানতে পারে এটাই তার নারীত্বের প্রধান

.

.

বহিঃপ্রকাশ, তার ভয়টা তখন কেটে যায়.. প্রত‌্যেক মাসের কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনে কতোটা অসহনীয় ব্যথা তাদের সহ্য করতে হয় জানেন? এই ব্যথা নিয়েই সে ঘরের সমস্ত কাজ করে, পড়াশোনা করে, দুনিয়ার সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এগিয়ে চলে। সে কিন্তু এক মুহূর্তের জন‌্যেও দমে যায় না।জীবনের প্রত‌্যেকটা minute, প্রত‌্যেকটা second প্রতিটি মেয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়ে চলেছে টিকে থাকার লড়াই । ঠিক এই কারণেই বলা হয়, মেয়েদের সহ‌্যশক্তি অতুলনীয়। 

.

.

দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো ‘বিয়ে’…

একটি মেয়ে জন্মের পর থেকে যে পরিবেশে লালিত-পালিত হয়, যে পরিবারের মানুষগুলোকে ছাড়া সে একদিনও কল্পনা করতে পারে না, হঠাৎ তাদেরকে ছেড়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিবারে তাকে চলে যেতে হয়। নিজের সত্তাকে সম্পূর্ণরূপে ভুলে গিয়ে সেই অজানা অচেনা মানুষগুলোকে আপন করে নিতে হয়। 

.

.

তৃতীয় ঘটনাটি হলো “মা” হওয়া। মা হওয়া মেয়েদের জীবনে নিঃসন্দেহে একটি  আনন্দের ঘটনা। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। নিজের আরাম-আয়েশ, ঘুম, স্বস্তি সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়ে কতোটা কষ্টের সাথে সেই গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলোকে অতিক্রম করতে হয়, তারপর মৃত্যুর ঝুঁকি নেয়া সন্তান জন্ম দেওয়াটা কতোটা বেদনাদায়ক ঘটনা সেটা পুরুষদের বোঝবার কথা নয়! 

মাঝে মাঝে নিজেকে খুব ভাগ্যবান বলে মনে হয় জানেন ! মনে হয় কারণ পুরুষ হয়ে জন্মেছি। কটা ছেলেকে জীবনে এতো বিপুল পরিমাণ ত্যাগ করতে হয়? 

.

.

অথচ একটা মেয়েকে তার জন্মের পর থেকে সহস্র কষ্ট-যন্ত্রণা মেনে নিয়ে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে কেবল ত্যাগই করে যেতে হয় । 

ছেলেদের জীবনে “মাসিক” হয় না। যদি হতো, তাহলে আমরা কতোটা অধৈর্য্য হয়ে যেতাম ভাবতে অবাক লাগে !! সামান্য hostel-এ থাকাটাই যেখানে আমাদের অধিকাংশের পক্ষে “uncomfortable”, সেখানে নিজের পরিবার ছেড়ে একটা অজানা-অচেনা পরিবারের মধ‌্যে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াটাও বোধ করি খুব একটা সহজ নয় !! একটু মাথা ব্যথা হলে, কিংবা সামান‌্য জ্বর হলেই আমরা পড়াশোনা, কাজকর্ম সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে অস্থির হয়ে যাই, সেখানে অক্লান্ত এক সংগ্রামের মধ‌্য দিয়ে একটা বাচ্চার জন্ম দেওয়াও বোধ করি ছেলেদের পক্ষে খুব একটা সহজ কাজ নয়। আমি কিন্তু কোনও ভাবেই biased হয়ে কিছু বলছি না।

.

.

আমি কেবল সত‌্যটুকু বলছি, বাস্তবটুকু বলছি। আর করছি একটু ভেবে দেখার অনুরোধ। যে মেয়েটা এরকম অনবদ‌্য এক যোদ্ধার ভূমিকায় জীবনে অবতীর্ণ হয়েছে সেই মেয়েটি, better to say সেই সমস্ত মেয়েরা কি একটুও প্রশংসা পাওয়ার যোগ‌্য নয় ? 

.

.

যে মেয়েটা এতোটা ত্যাগ স্বীকার করে, সব কিছু মানিয়ে নিচ্ছে,  তার সঙ্গে একটু সুব্যবহার করা আমাদের উচিত নয় কি ?

.

.

তাই আপনার স্ত্রী কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে একটু ভালোবাসাপূর্ণ ব্যবহার করুন। তাকে তার পছন্দের কাজগুলির ক্ষেত্রে পূর্ণরূপে appreciate করুন। তাকে নিয়ে গর্ববোধ করুন।  আপনার মা-বোন, দিদা-ঠাকুমার দিকে একবার তাকান ;দেখতে পাবেন নারীজাতি কতোটা মূল্যবান!! কতোটা সম্মানীয়া ! পৃথিবীর সমস্ত গুণবাচক বিশেষণ শুধু নারীর জন্যই। “মায়াবতী” শব্দটি কিন্তু কেবল নারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য.. পৃথিবীর যাবতীয় মায়া-মমতা ওই নারীদের কাছেই পাওয়া যায়।

.

.

তাই নারীর এই ত্যাগ স্বীকারের জন্য তাদের শ্রদ্ধা করতে শিখুন। কোনো সহানুভূতি নয় বরং তাদের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা প্রদর্শন করুন। কারণ,  একজন নারীর মাধ্যমেই আপনি পৃথিবীর আলো দেখেছেন। চিরকৃতজ্ঞ থাকুন স্ত্রীজাতির প্রতি, তাদেরকে যোগ‌্য সম্মানটুকু দিন। 

.

.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: