নিউ ইয়ার

সম্পূর্ণা সাহা 

নতুন বছরের শুরুতে সবাই একটা নতুন আশায় বাঁচে, হয়তো আগের বছরের না পাওয়াগুলো এবছর পেয়ে যাবে। ক্লাসের সেকেন্ড হওয়া স্টুডেন্টটা ভাবে এবছর আর একটু বেশি পড়ে হতে হবে ফার্স্ট। মাধ্যমিক আর ঊচ্চমাধ্যমিকের বাধ্য স্টুডেন্টের চেষ্টা প্রত্যাশিত নম্বর পাওয়া। কলেজ আর ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা ভাবে এবার ফার্স্ট ক্লাসটা পেতে হবে।

চাকরির চেষ্টায় ক্লান্ত যারা তাদের ভাবনা এবছর আর একটু পরিশ্রম করতে হবে,একটা চাকরি খুব দরকার। চাকুরিজীবী একদল আবার আশা করছে নতুন বছরে পদোন্নতির, বেতন বৃদ্ধির। এভাবেই ছুটছে সমাজ। নতুন বছরে গড়ছে গোটা বছরের পরিকল্পনা। আমরাও মোটামুটি এদের মধ্যেই অন্যতম। তাই না?

আচ্ছা চলুন এবার একটু দৃষ্টিপাত করা যাক অন্যদিকে। আমাদের প্রায় সকলের বাড়িতেই আছেন মা-বাবা, ঠাম্মা-দাদু। উহু, এক্ষেত্রে আমি সবার কথা বলছি না। বলছি সেই সমস্ত মানুষের কথা যারা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা সহজ কথায় ‘senior citizen’। আমাদের অতীত জীবনে তাঁরা পালন করেছেন অনেক বড়ো ভূমিকা। তবে সত্যি বলতে আজ নতুন বছরের পরিকল্পনা যারা করছি, তাদের অনেকের জীবনেই ওই মানুষেরা ব্রাত্য। ছেলে-মেয়েদের সুখের স্বপ্নে স্থান পাননি তাঁরা।

ছেলে-মেয়েরা তো নিজেদের আলাদা দুনিয়া গড়েছে। মা-বাবার বাঁধন থেকে বেরিয়ে গেছে দূরে। তাইতো ওই মানুষগুলো আজ নিজেদের একাকীত্বে অপেক্ষা করেন ছেলে-মেয়েদের সাহচর্যের জন্য। কিন্তু সে সুযোগ আর আসেনা। তবে কী বলুন তো, ওই মানুষগুলোও যথেষ্ট দোষী।

সমাজের যোগ্য করে তুলতে একদিন ওনারাই তো সন্তানদের এগিয়ে দিয়েছিলেন সামনে নিজেদের যথাসাধ্য চেষ্টা দিয়ে। হয়তো তাঁরা বুঝতে পারেননি সেগুলো এরকম অন্যভাবে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে একদিন। আজ সমাজের অনেকাংশেই দেখা যাচ্ছে অর্থাভাব না থাকলেও প্রকৃত সুখ নেই, অথচ যে ঘরে অর্থাভাব মাথা চাড়া দিয়েছে সে ঘরে সকলের সাহচর্য আর কিছু না হোক একটু মানসিক সুখ তো এনে দেয়।

নতুন বছর এভাবেই আসে সবার ঘরে, ভিন্ন আবেগে। এবার নতুন বছরটা শুরু হোক সবার মুখে হাসি দিয়ে।  অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা না পাঠিয়ে কিছু সামান্য উপহার নিয়ে পৌঁছে যান আপনজনের কাছে। স্মৃতির সব ধুলো ঝেড়ে মনে পড়ুক ছোটবেলায় নতুন বছরে পাওয়া গিফটের স্মৃতি। হোক তার পুনরাবৃত্তি, শুধু উল্টো হোক সেই দেওয়া-নেওয়ার হিসাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *