নিজের কথা – যাকারিয়া আহমদ

            সাক্ষাৎকার

.
শ্রুতি-সাহিত্য  :  লেখার জগতে কীভাবে এলেন? প্রথম লেখাটির বিষয়ে কিছু বলুন।

যাকারিয়া আহমদ : আমার জীবনের বড় একটা অংশ চলে গেছে বাংলা ভাষা থেকে দূরে থাকা অবস্থায়। প্রাতিষ্ঠানিক বই পড়ে লেখালেখি করবার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি উপযুক্ত নির্দেশক না পাওয়ায়। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করে যখন শিক্ষক হতে গেলাম তখন আমার মনে হঠাৎ করে একটা স্পৃহা জাগল যে আমি একজন লেখক হব। আর এই স্পৃহা থেকেই আজও লেখালেখিতে জড়িত আছি।
আমার প্রথম লেখা “শিক্ষানবিশের পাথয়” অনুবাদ প্রবন্ধ। এ লেখাটি নিয়ে কিছু বলতে গেলে আমি খুব হাসি__কারণ, আমার ওই লেখাটি ছিল অনুবাদ। তবুও আমি এটি ভালো করবার নিয়তে মাত্র পঁচিশবার লিখেছি! মাত্র বললাম এই কারণে যে হয়তো কেউ তার লেখা উপযুক্ত বা পাঠক প্রিয় করতে আরও কতবার চেষ্টা করেছেন কে জানে?
অনুবাদ করতে যতটা সময় লেগেছে তার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে ভাষার মাধুর্যতা ও সুন্দর করতে।

অনুবাদ প্রবন্ধটি বহুল প্রচলিত একটি মাসিক পত্রিকা “মাসিক তৌহিদী পরিক্রমা” এ ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রুতি-সাহিত্য  : লেখা কী শিখে লেখা যায়? নাকি কোনো অনুভবের প্রয়োজন আছে?

যাকারিয়া আহমদ :এখানে দু’টি বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক. শেখে লেখা, দ্বিতীয়. লিখতে গেলে কোনো অনুভবের প্রয়োজন আছে কী না। আসলে একজন মৌলিক লেখকের জন্য উল্লেখিত বিষয় দু’টির সমন্বয়ে লিখতে হয়। তা না হলে সার্থক লেখক হতে পারবে না। তবে শেখাটা মৌলিক আর অনুভব শক্তিটা তার পরিপুরক।

শ্রুতি-সাহিত্য  :  বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ কীভাবে আরও উজ্জ্বল করা যায়?

যাকারিয়া আহমদ : শিক্ষা থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্র মাতৃভাষাচর্চার গুরুত্বকে আরও শক্তিশালীভাবে ধরে তুলতে হবে। এবং দেশের সর্বোচ্ছ যায়গাগুলোতে যেমন আদালত পাড়া, সংসদ সর্বোপরি নিম্ন পাড়ায়ও বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করা। এই যায়গাগুলোতে বাংলা ভাষার অবস্থানের বড়ই ঘাটতি। এ পথেই ভাষিক জাতিরাষ্ট্রে বাংলার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে বা বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ আরও উন্নত হতে পারে। তা না হলে বাংলা শুধু সাহিত্যের ভুবনেই টিকে থাকবে, জাতিরাষ্ট্রে ও সমাজে সমৃদ্ধ মাধ্যম হয়ে উঠবে না।

শ্রুতি-সাহিত্য  : ইদানিং কোন কোন পত্রিকায় লিখছেন?

যাকারিয়া আহমদ : আসলে আমি নিয়মিত কোন দৈনিক-এর লেখক নয়। জানি না কেন যেন মন ছায় দেয় না দৈনিকগুলিতে লেখা দিতে। তবে অনেক মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকায় নিয়মিত লিখছি। যেমন, মাসিক ভোঁদৌড়, পাক্ষিক অনুপ্রেরণা, মাসিক মুক্তধ্বনি, সাহিত্যের কলম
ইত্যাদি ইত্যাদি পত্রিকাগুলিতে। এবং আমি একটি পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদক ও।

শ্রুতি-সাহিত্য  : ফেইসবুক কি বাংলা সাহিত্যকে কোন আশার আলো দেখাচ্ছে?

যাকারিয়া আহমদ : আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যকে ফেইসবুক কোন আলো দেখাচ্ছে কী না এই প্রশ্নে না গিয়ে আমরা এইটুকু বলতে পারি যে, অনেক প্রতিভাবান মানুষ ঝরে পড়েছিল, এদেরকে ফেইসবুক তুলে এনেছে। মেধা বিকাশে প্রকাশমান করেছে আমাদের সামনে অনেক গুণীজনকে।

শ্রুতি-সাহিত্য  :ভালো লেখা লিখতে গেলে কোন ধরণের বই পড়তে হবে?
যাকারিয়া আহমদ :: আমরা জানি, বই আমাদের মনোজগতে আলোড়ন তোলে খুব সহজে। বই আমাদের অনুপ্রাণিত করে। ভালো লেখক হওয়ার প্রধান শর্ত হল প্রচুর পড়াশোনা। যতবেশি বই পড়বেন ততবেশি লেখার উপকরণ আপনার হস্তগত হবে। বই-এর ধরণ নিয়ে কথা বলতে গেলে কথা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। আমি শুধু এইটুকু বলবো যে, আপনি কবিতা লিখবেন তাহলে জীবনানন্দ, রবিন্দ্রনাথ, নজরুল ও আল মাহমুদ -এর কবিতার বই ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ুন। ভালো ছড়া লিখবেন তাহলে সুকুমার, দেলওয়ার, জগলুল হায়দার-এর লেখা বইগুলো পড়ুন।

শ্রুতি-সাহিত্য  : লেখকের কোন গুণ থাকা জরুরি?

যাকারিয়া আহমদ : আমি মনে করি একজন ভালো লেখকের জন্যে নিচের গুণগুলি থাকা জরুরি।
১. বিষয় জ্ঞান থাকা।
২. বিচার জ্ঞান থাকা।
৩. সহজ করে লেখার চেষ্টা করা।
৪. কারও ব্যক্তিত্বে আঘাত না করা।
৫. কৌশল জ্ঞান থাকা।

শ্রুতি-সাহিত্য  :  বর্তমানে আপনি কী ধরণের লেখা বেশি লিখছেন।

যাকারিয়া আহমদ : প্রবন্ধ ও ছড়া।

শ্রুতি-সাহিত্য  :  আপনার কাছে ভালো লেখার সংজ্ঞা কী?

যাকারিয়া আহমদ : যে লেখা পাঠককে ধরে রাখতে পারে তা-ই আমার মতে ভালো লেখা।

শ্রুতি-সাহিত্য  : আপনার ভাবনায় পাঠকরা কী খুব উপকৃত হচ্ছেন ফেইসুকে প্রকাশিত লেখা পড়ে ?

যাকারিয়া আহমদ : উপকার অপকারের বিষয়টি প্রত্যেকের নিজ দায়িত্বে ছেড়ে দিয়ে দেখলে ভালো হয়। আমার মতে যদি কেউ ফেইসবুকে প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ে উপকৃত হতে চায় হাহলে সে উপকৃত হতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: