পাঁঠা 

   সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

আমরা, মানে দু’পা বিশিষ্ট ‘রাশানাল এ্যনিমেনলরা’ আদপে সুসভ্য মানব জাতি। অনেক প্রকারের প্রজাতি আছে আমাদের মধ্যে। শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ ছাড়াও ধর্মের তফাতে বিভিন্ন আঙ্গিকে ভরা। অথচ সকলেই এ পৃথিবীর কর্মশালায় কর্মের ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ। মানুষ ছাড়া জীবজগতের অন্য স্থানীয়দের মধ্যে সেই বোধটা নেই; তারা জন্মায় ,বড় হয়, আবার প্রাণ ত্যাগ করে মারা যায়। তারা live to eat এর মত। কোন  জাগতিক সদিচ্ছা নেই। মহাকাল কিন্তু কাউকেই ক্ষমা করে না।

  ” কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছত্যায়ুস্তদপি না মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ”।

আমরা যে যার মতো করে খেলি, নাচি, অভিনয় করি। কিন্তু সে একতারাতেই বাঁধা। আমাদের জীবনটাও ঐ ঝুলন্ত মুণ্ডুহীন পাঁঠার মতোই। মাংস বিক্রেতা সিনা গলা চউর পিছনের ঠ্যাং যেখান থেকে খুশি কেটে বিক্রি করে।

  মৃত্যুই আমাদের ভবিষ্যৎ জেনেও আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই। আবার যৌবনের রশে রক্তের জোরে ধরাকে সরাজ্ঞান করি। জানিনা বা ভাবিনা ঝুলন্ত পাঁঠার মতোই

জীবনটা নির্দিষ্ট দিনের গণ্ডিতে বাঁধা।স্থিতি, অস্থিতি থাকলেও সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই। কিন্তু কবে আমাদের জীবনসূর্য অস্ত যাবে জানিনা।

 পুঁজি আছে কিন্তু অফুরন্ত তো নয়। ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখি, তাই পাসবই পাই চেকবই রাখি, এ্যাকাউন্ট নম্বরো থাকে। কিন্তু আপডেট করা নেই লিংকের অভাবে।অতএব চেক বাউন্স হতে পারে। জীবনটারোও নম্বর আছে কিন্তু জ্বলন্ত মোমবাতি বা ধূপের মতই। যেকোনো সময় ফুরিয়ে যাবে।

   ঈশ্বরকে ডাক— অস্তিত্ব রক্ষায় নয়। মানুষ জীবন পেয়েছো বলেই। সারেগামাপাধানি সপ্তক সুরে বাঁধা।ব্রহ্ম বা জীবনোও ঐ সাতসুরে তেই বাঁধা। জ্ঞানী অজ্ঞানী সকলেরিই এক। পাঁঠা মানসিক ক’রে মানুষ শক্তির আরাধনা করে। আবার পাঁঠার মাংস খেয়ে অহংকার করে। পাঁঠার কিছু আসে যায় না।

  জীবনটাকে যদি ঐ ঝুলন্ত পাঁঠার মতো তৈরি করি তা’হলে মরেও লাভ নেই।

  মৃত্যু মানে সব শেষ। মৃত্যুর পরে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। থাকে কিছু স্মৃতি–পরবর্তী প্রজন্মদের কাছে।

  তুমি ঐরূপ পাঁঠা হয়ো না। নিজেকে বলিপ্রদত্ত করেও তত্বজ্ঞানে সমৃদ্ধ হও। আমিকে ধ্বংস কর।

 কর্ম কর। কর্মই জীবন। ঘাস জল খেয়ে মনিবের বাড়িতে পুষ্টি লাভ করে মাংসের দোকানে নিজেকে মুণ্ডুহীন লাশ বানিয়ো না।

  সেইটা কাল নয়– আজই। এখন– ই।

১১ শ্রাবণ ১৪২২.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *