পেলেও পেতে পারি — আনন্দের আলমারি

12312

বিষয়বস্তু  =  সকলের মাঝে থেকে হারিয়ে না গিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখার কথা

ফসিলস  //  সৌরভ আম্বলী

খোলা দ্বার

আলো আধাঁর,

সব চুপ —

মৃত স্তূপ ।

ঐ হাসে

কানে ভাসে,

কবরে কেউ —

কাঁদে ভেউ ।

ক্লান্ত মন

নেই প্রয়োজন,

বিষণ্নতা জুড়ে —

ফেলবো ছুঁড়ে ।

আঁকড়ে ধরবো 

আলোর ঝিলিক,

পেলেও পেতেপারি —

আনন্দের আলমারি ।

কালটা পারতো

আজ হতে ,

গল্পটা সময়ের —

থাকতো হাতে ;

কান্নাটা পারতো

হাসি হতে ,

জেদটা দিত —

সুদ পরক্ষণেতে ।

জীবনের রাজপথে

ফেলেছি সব স্নেহ ,

বাঁচতে শিখেছি 

‘ফসিলস’ হয়ে

তাইবলে নই —

আমি মৃত দেহ ।

.

.

.

3

কৌশিক //  লেখা – প্রিয়নীল পাল। 

কৌশিক কবে আসবে ফিরে, 

প্রলয় আছে এখনো জেগে

রাত্রি নামে শহরের বুকে

সে অপেক্ষায় থাকে

কৌশিক কবে আসবে ফিরে ।

রোজ রোজ পরিশ্রম গুলো 

রাস্তার উড়ে বেড়ানো ধুলো 

ঘাম হয়ে ছবি আঁকে 

কৌশিক এখনো রাত জেগে থাকে। 

শহর তাই আজো ঘুমায় না 

ল্যামপোস্টের আলো অন্ধকার হতে দেই না 

কৌশিক যদি হঠাৎ ফিরে আসে 

তার জন্য শহর আজ ও জেগে থাকে। 

দিনটা ছিল অর্ধেক গোধূলি 

সব হেরে যাওয়ার কথা গুলি 

রাশি রাশি চিৎকার হয়ে 

এসেছিল কৌশিক এর কান বেয়ে, 

তবু কৌশিক হেরে যেতে চায় নি 

লড়াই ছিল প্রলয় ভাঙ্গার 

সাহস ছিল জীবনে বাঁচার 

কৌশিক লাগিয়ে ছিল পথ হাঁটা 

 সেদিন বেজে ছিল রাত আটটা, 

এখনো অপেক্ষা করে শহর 

যদি হয় কৌশিকের ফিরে আসা।

.

.

.

12321

একাকি ভালবাসা  //      অর্ক ঘোষ

প্রথমদিনের প্রথম দেখা, যেন দেবি দুর্গার দর্শন।

তারপর সেই দিন, এক অন্যরকম আর্কষন

দুচোখ ভরে তোকে দেখে, আমার হৃদ্‌মাঝারে রাখলাম।

তুই তখন ব্যস্ত তোর মনের মানুষ এর সাথে এটাই দেখলাম।

সবাই যখন তোকে নিয়ে আমায় কিছু বলছিল, তুইও তখন রাগ দেখালেও তোর মুচকি হাসি কিন্তু হচ্ছিল।

ভাবলাম আমি কত কি,  কত স্বপ্ন না দেখলাম হায়, ঘোর কাটতে দেখি বিকেল তখন স্বপ্ন সত্যি কি বাস্তব হয়?

তুই যখন তোর প্রানের মানুষ এর কথা বললি, সময় তখন আসলো এক অন্যরকম সাজে।

তুই তখন নদির পারে আমার সাথে বসে।

শোনা যাচ্ছিল রমাঞ্চে গানের ভিন্য সুর, বুঝিনি তখন ভালবাসা আমার থেকে অনেক দূর।

আমি শুধু চেয়েছিলাম ভালবেসে ভালো রাখবো, তখনো মনে হয়নি আজ এই দিনটা দেখবো।

ভালবাসা এর নেশাতে তখন আমি মাতাল, তোকে তখন বলেই দিলাম ভালবাসি তোকে তুই ধরনা আমার এই হাল।

আকাশ ভরে আতসবাজি, কত রঙিন সেই দিন।

তুই তখন মুচকি হেসেছিলিসরে, ভেবে নিলাম তুই তখন আমার হয়ে গেলি রে।

কিন্তু না, 

ভালবাসিসনি তাতে কি?

তোর চোখে চোখ রেখেছি, আমরা শুভদৃষ্টি করেছি।

ভালবাসিসনি তাতে কি?

তোর হাতে হাত রেখেছি, আমরা হস্তবন্ধন করেছি।

ভালবাসিসনি তাতে কি?

আমরা কিছু পথ একসাথে চলেছি, আমরা কিন্তু সাতপাকে ঘুরেছি।

ভালবাসিসনি তাতে কি?

তোর কথা শুনে যা কিছু আমি বলেছি, ওটাই ভালবাসার আশ্বাস, সিঁদুর তোকে পরিয়েছি।

ভালবাসিসনি তাতে কি?

মন যখন মনে মনে তোকে ভালবাসি বলছিল, ঠিক তখনি তোর মুখে সুর্য এর ছটা এসে পরছিল, অগ্নিসাক্ষি কিন্তু হয়েছিল।

ভালবাসিসনি তাতে কি?

তোর সাথে সেল্ফি তুলে এক ফ্রেমে বন্দি হয়েছি, এটাই তো বড় পাওয়া আমরা স্মৃতি বন্দি হয়েছি।

সময় যখন শেষ দিতে হবে বিদায়, বুঝিনি তখন আমি এটাই হবে শেষ বিদায়।

এখন, তুই তোর মনের মানুস এর সাথে খেলছিস প্রেম খেলা, আমি দিন গুনছি আমার শেষ বেলা 

হোক।

ভালোতো শুধু আমি বেসেছি, এই একাকি ভালবাসার জয়  হোক , একাকি ভালবাসার জয় হোক,  একাকি ভালবাসার জয় হোক।।

.

.

.

সুখ     // উমা ভট্টাচার্য্য

বলতে পারো সংজ্ঞা সুখের? বলতে পারো সুখটা কি?

কেউ কি জানে সঠিক মানে? সুখানুভূতি বুঝি কি?

আমরা ভাবি আমরা দুঃখী, সুখী বুঝি অপরজন।

এসব ভেবেই করছি আমরা সুখানুভূতি বিসর্জন।

কেউ যাচ্ছে চার চাকাতে, ভীষণ সুখী সে রে ভাই।

অন্য জনে যাচ্ছে হেঁটে সুখ বুঝি তার কপালে নাই।

এসব ভাবনা সবই বৃথা,

ক্ষণস্থায়ী পার্থিব সুখ।

কি নেই, তা না ভেবে তাই 

যা আছে, তাতেই থাকুক হাসিমুখ।

অল্পতেও কেউ হয় যে সুখী

বেশিতেও কারো সুখ নাই।

মনটা তোমার চাইছে টা কি

সেটাই আগে করো যাচাই।

কোনটা তোমার প্রয়োজন আর

কোনটা না হলেও চলে।

লাইফস্টাইল টা করো নিজের মতন,

শুনতে যেওনা লোকে কি বলে।

লোক তো তোমায় বলবেই,

তোমার নেই যা আমার আছে।

তাদের কথায় কান দিলে

ছুটতে হবে ঊর্ধ্বশ্বাসে।

ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হবে

মুখ থুবরে পড়বে শেষে।

.

.

.

We Are Seven” নামক
William Wordsworth এর কবিতা অবলম্বনে

বেঁচে থাকে প্রত্যয়ে  //  রনেশ রায়

 

আমি যাই তার পিছু পিছু

সরল সহজ শিশু

বোঝে না জীবনে জটিল কিছু,

আলতো করে শ্বাস নেয় নিঃশ্বাস ফেলে

তার প্রতিটি শ্বাস নিঃশাসে

সত্যেরে সে খোঁজে

জীবনের কথা বলে,

সে আর জন্ম মৃত্যু রহস্য কি বোঝে ?

গ্রাম্য মেয়েটি দাঁড়িয়ে

কুটিরের দুয়ার প্রান্তে,

সে আমাকে জানায়,

আটে পা দিয়েছে সবে,

কোঁকড়ানো চুল মাথা জুড়ে

একটা বন্যতা তার চেহারায়,

সুন্দর চোখ দুটো নজর কাড়ে

তার রূপে মুগ্ধ আমি,

আমি বলি, প্রশ্ন করি তোমাকে,

“ছোট্ট সুন্দর মেয়ে আমার

বলবে আমায় তোমরা ক ভাই বোন?”

সে বলে,” জানতে চাও কজন?

বলি তবে তোমায়,

আমরা ভাইবোন

সবাই মিলে মোট সাতজন”

এই বলে অবাক মুখে তাকায়।

 

“অন্যেরা সব কোথায়?”

আমি জানতে চাই আবার

কোন দ্বিধা না করে

সপ্রতিভ উত্তর তার,

“ ওই কনয়ে দুজন

সেখানে বাস করে তারা,

সাগরে  গেছে আরো দুজনে,

আর এক ভাই এক  বোন

দুজন শুয়ে গির্জার উঠোনে

সেখানে কুটির প্রাঙ্গনে,

আমার বাস তাদেরই কাছে

মায়ের সাথে উঠোন পাড়ে।

 

আমি অবাক, বলি,  “কি করে হলো?

দুজনে কনওয়ে দুজনে সাগরে

আর তুমি ” সাত কি করে?”

মেয়েটি বলে বললাম তো

দুজন যায় সাগরে

আর দুজনের বাস কনওয়ে

দুজন শুয়ে গির্জা প্রাঙ্গনে

তারা ঘুমিয়ে সেখানে গাছের নীচে

মায়ের ঘরের খুব কাছে

এখনও তোমার প্রশ্ন কজন

গুনে দেখ আমরা মোট সাতজন।”

আমি বলি,

বেঁচে আছ তোমরা সাথে আমাদের

তোমরা দৌড়ে বেড়াও

অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সচল তোমাদের,

দুজনে তো কবরে শুয়ে

প্রাণ নেই তাদের,

তোমরা তো তবে পাঁচজন

কেমন করে হলে সাতজন?

সে বলে স্থির প্রত্যয়ে,

তারা শুয়ে গির্জা প্রাঙ্গনে

সবুজ গালিচায় ঘুমিয়ে

তাদের দেখা যায় ওই

মায়ের ঘর থেকে একটু দূরে

বারো পা এগোলেই দেখবে

একজনের পাশে আরেকজন শুয়ে,

আমার সরঞ্জাম সেখানে

তাদের জন্য শীতের কাপড় বুনি

তৈরি করে দিই মাথার টুপি,

উঠোনে বসে তাদের গান শোনাই আমি,

প্রায়ই সূর্য যখন অস্ত যায়

আলো থাকতে থাকতে

রাতের আহার সারি,

সে আমায় জানায়

তার বোন জেন মারা যায়

কঠিন এক রোগে

দীর্ঘদিন ভোগে যন্ত্রনায়

ঈশ্বর তাকে মুক্তি দেয়

আজ সে শুয়ে থাকে উঠোনে।

শুকনো ঘাসে আমি আর ভাই,

কবরের চারদিকে দৌড়ে বেড়িয়ে

খেলতাম আমরা দুজনে

তাকেও যেতে হয় শেষে

সেই ভয়ঙ্কর বরফ পাতে,

সেদিন আমি পালিয়ে বেঁচেছি দৌড়ে

জন ফেরেনি আর

সে আজ শুয়ে কবরে বোনের পাশে।

 

তবে তো দুজনে নেই আজ

তারা নিয়েছে বিদায় পৃথিবী থেকে,

হলে তবে তোমরা পাঁচজন

কেমনে হয় সেটা সাতজন?

 

না, আমরা সাতজন

দু’জন নেই তাও

ওরা আছে বারোমাস

ঈশ্বরের আশ্রয়ে তাদের বাস।

আমি বুঝি কি হবে বাক্য ব্যয় করে

এটা যে প্রত্যয় বিশ্বাস ওর

বাক্যের আঘাতে কি বিশ্বাস মরে?

তারা সাতজন তাদের বিশ্বাসে

আমি হার মানি তার প্রত্যয়ে।

.

.

.

থেমে যায়  //  রণেশ রায়

ঘড়ি টিক টিক করে
সময় বয়ে যায়
মৃদুমন্দ বাতাস বয়
আমি বসে একান্ত নিরালায়
স্মৃতির বৈঠা বেয়ে
বিস্মৃতির উজান ভেঙে
আমি চলি অতীতের আঙিনায়,
কথা পথ খুঁজে পায়
স্মৃতির আল পথে
সে ফেরে চেতনায়
টিকা টিপ্পনি হাসি তামাশায়
কে যেন জানিয়ে যায়,
সে আসবে এবার
যার জন্য তুমি আপেক্ষায়।
আমি প্রহর গুনে যাই
যদি তার দেখা পাই
ঘড়ির কাঁটা থেমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *