প্রাবন্ধিক সঞ্জয় রাহা

শব্দ নিয়ে খেলা খেলা

বেশ মনে পড়ে, আমাদের বন্ধুমহলে ‘চোশনীয়” বলে একটি শব্দর ব্যাপক প্রচলন ছিল। যেহেতু শব্দটি সম্পূর্ণ অ-অভিধানিক, তাই এটির সঙ্গে পাঠকের কোনও পূর্ব-পরিচিতি না থাকারই কথা। অনেকে হয়তাে এটিকে ‘চোষনীয়’ শব্দটির বানানবিভ্রাট বলে মনে করতে পারেন – কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা মােটেই নয়। বরং, এটি সৃষ্ট হয়েছিল (ইচ্ছাকৃত) বর্ণবিপর্যয়ের মাধ্যমে। মূল শব্দটি হল ‘শোচনীয়। এ প্রসঙ্গে একটি কথা বলতেই হয়।

চলতি নিয়মে যেমন বর্ণবিপর্যয়ের পরেও শব্দার্থ পরিবর্তিত হয় না, এক্ষেত্রে কিন্তু আমরা চোশনীয় শব্দটির কিঞ্চিৎ অর্থ পরিবর্তন ঘটিয়ে, বােঝাতে চাইতাম ‘চরম শোচনীয়। ‘শােচনীয়’ শব্দটির অনেক প্রতিশব্দ আছে। পাঠকের আগ্রহ থাকলে, পরের কোনও সংখ্যায় সেগুলাে দেওয়া যাবে। আপাতত, আমাদের তৈরি এই ‘চোশনীয়’ শব্দটির কয়েকটি সমার্থক শব্দ দেওয়া গেল এখানে।

অরুন্তদ, অশ্রু-জাগানাে, চিত্তসন্তাপকর, ছাতি-ফাটা, প্রাণস্পর্শী, বক্ষোভিৎ বুকফাটা, বুকভাঙা, মর্মঘাতী, মর্মচ্ছিৎ, মর্মচ্ছেদী, মর্মদ্রাবী, মর্মন্তদ, মর্মপীড়ক, মর্মবিদারক, মর্মবিদারী, মর্মভেদী, মর্মস্পশী, মর্মস্পৃক, মর্মান্তিক, মহাবেদনাদায়ক, হৃদয়চ্ছিৎ, হৃদয়দাহী, হৃদয়প্রমার্থী, হৃদয়বিদারক, হৃদয়বিদারী, হৃদয়বেধী, হৃদয়ভেদী, হৃদয়স্পর্শী; স্ত্রী : মর্মঘাতিনী, মর্মপীড়িকা, মর্মভেদিনী, মর্মস্পর্শিনী, হৃদয়বিদারকা, হৃদয়ভেদিনী, হৃদয়স্পর্শিনী।

এ তাে গেল আমাদের ইচ্ছাকৃত বর্ণবিপর্যয়জনিত রসসৃষ্টির প্রচেষ্টা। একবার আমরা একটি শব্দ বর্ণবিপর্যয় নয়, ‘শব্দবিপর্যয় থেকে গ্রহণ করেছিলাম। আমরা তখন সবে ছাত্রজীবন শেষ করে, যার যার কর্মজীবনে ঢুকে পড়েছি; বন্ধুদের কেউ কেউ আগে-পিছে বিয়ে করতেও শুরু করেছে। এরকম সময়ে আমাদের এক সদ্যবিবাহিত বন্ধুর সঙ্গে অন্য একটি বন্ধু (যে, কোনও কারণে পূর্ববর্তী বন্ধুর বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছিল না)-র রাস্তায় দেখা হতেই সে বলে উঠল – হ্যাঁরে, শুনলাম, তুই নাকি বিয়ে করেছিস ! তা কই, আমাকে তাে বিয়েতে নিমন্ত্রণ করলি না!

আমার কথা কি তুই ভুলে গিয়েছিলি ? উত্তরে বিবাহিত বন্ধুটি আমতা আমতা করে কিছু খোঁড়া কৈফিয়ত দিতে গেলে, নিমন্ত্রণ না-পাওয়া বন্ধুটি বলল- ঠিক আছে, ঠিক আছে, তাের আর অত কৈফিয়ত দিতে হবে না। হতে পারে, বিয়ের আগ্রহে, উত্তেজনায় বা কর্মব্যস্ততায় আমাকে নেমন্তন্ন করে উঠতে পারিসনি।

আমি কিন্তু এতে কিছু মনে করিনি । তা’, একদিন রােববার দেখে তাের বাড়িতে যাব, তাের বউয়ের সঙ্গে আমার ইন্টারকোর্স করিয়ে দিবি তাে ? বন্ধুটি বলতে চেয়েছিল ‘ইন্ট্রোডিউস’, কিন্তু হয়ে গেল ‘ইন্টারকোর্স’। সেই থেকে আমাদেরও ভ্রান্তিবিলাস শুরু হল, ‘ইন্ট্রোডিউস’ শব্দটা আমাদের কাছে হয়ে গেল ‘ইন্টারকোর্স।

আমাদের এই বন্ধুটির ‘ইন্টারকোর্স’ শব্দটির প্রয়ােগ যে ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণােদিত ছিল না, তা খুবই সহজবােধ্য আমাদের কাছে। এটি ছিল নিতান্তই অসাবধানতাজনিত বিভ্রাট। ওই উক্তির পিছনে যে কোনও অসাধু উদ্দেশ্য ছিল না, তা যাকে বলা হয়েছিল, সেও বুঝেছিল।

একথা  যেমন সত্যি, তেমনি এও বলা যায় যে আমাদের বন্ধুদের পরস্পরের মধ্যে অমার্জিত  ( হালকা স্লাং ) শব্দপ্রয়ােগ যে একেবারে চালু ছিল না, তা কিন্তু নয়। যেমন অপরের ক্ষতি করার তাকে আমার পোদে বাশ দেওয়া শব্দবন্ধ’র মাধ্যমে প্রকাশ করতাম।

তবে, এ-জাতীয় অভােগ কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ থাকত আমাদের বন্ধুমহলেই। এর বাইরে কোনও অচেনা পরিবেশে, মনের ওই ভাব বােঝাতে গিয়ে আমরা প্রয়ােগ করতাম একটু ভদ্রস্থ শব্দবন্ধ – পশ্চাদ্দেশে বা প্রদান। এখন ঘাের সন্দেহ হয়, এই শব্দবন্ধ প্রয়ােগেও ভদ্রভাব আদৌ বজায় থাকত কি!

| তবে, কোনও কোনও বিদ্বজ্জনের আলােচনায় পেয়েছি (এখন নাম মনে নেই) শব্দ’র শ্লীল-অশ্লীল বলে নাকি কিছু হয় না। শব্দ কিছু ধ্বনির সমষ্টিমাত্র, যাকে আমরা অর্থান্বিত করি। একই ভাষাতে, একই ধ্বনিসমষ্টির ভিন্ন ভিন্ন অর্থ যেমন হয়, তেমনি ভিন্ন ভাষায় সেই একই ধ্বনিসমষ্টির অন্যতর অর্থ হতেই পারে।

আবার আজ যা শ্লীল, তা কালচক্র’র আবর্তনে অশ্লীল হয়ে যেতে পারে। যেমন, ‘মাগি’ শব্দটি। অনেক আগে (বি. দ্র.: বঙ্কিম-সাহিত্য) এর অর্থ ছিল ‘মহিলা / ‘স্ত্রীলােক; কিন্তু অর্থাবনমন ঘটার ফলে এখন এটির দ্বারা নষ্টচরিত্র মেয়েদেরই শুধু বােঝানাে হয়। প্রচলিত অভিধানগুলির মধ্যে আমি এমন অনেক শব্দ পেয়েছি, যা ভদ্রসমাজে মােটেই চলতে পারে না।

পোঁদে বাঁশ দেওয়া শব্দবন্ধটিও পরে সুভাষ ভট্টাচার্য-সংকলিত ‘সংসদ বাগধারা অভিধান’ (সাহিত্য সংসদ)-এ পেয়েছি। কিন্তু ওই পশ্চাদ্দেশে বাম্বু প্রদান এখনও অবধি কোথাও পাইনি,; এটি আমাদের বন্ধুগােষ্ঠীর নিজস্ব সম্পত্তি হয়েই রয়ে গেছে।

‘পোঁদে বাঁশ দেওয়া’ শব্দবন্ধটির আত্মীয়স্বজনকে এখন দেখানাে যাক: ক্ষতি (অনিষ্ট, অপকার) করা: ক্রি.বি. ধসানাে। বি. অনিষ্টাচরণ, অনিষ্টসাধন, অহিতসাধন, ক্ষতিসাধন, দাগাদারি। ক্রি.(অশিষ্ট) পোঁদে বাঁশ দেওয়া, বাঁশ দেওয়া। অপরের ক্ষতি করার চেষ্টায় নিজের অধিকতর ক্ষতি করা: ক্রি. নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।

আশ্রয়দাতা বা উপকারীর ক্ষতি করা: ক্রি. বুকে বসে দাড়ি উপড়ানাে, যার শিল যার নােড়া তারই ভাঙি দাঁতের গােড়া। ভয়ানক ক্ষতি করা: ক্রি. চাকু মারা, পাকা ধানে মই দেওয়া, বুকে বাঁশ দেওয়া, শাল দেওয়া।

বাক্যব্যয় না করে ভিতরে ভিতরে ক্ষতি করা: ক্রি. মুখ বুজে লঙ্কায় আগুন দেওয়া। নিজেই নিজের ক্ষতি করা: ক্রি, আকাশে ছেপ (থুতু ফেলা, নিজের পায় নিজে কুড়াল মারা, আপনার পায় কুড়ল মারা। অসাবধানতাবশত নিজের ক্ষতি করা: ক্রি. হাত পুড়ানাে। পরের ক্ষতি করার চেষ্টা করা: ক্রি. পরের জন্য কুয়া কাটা। প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষে, উভয়ভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করা: ক্রি. আড়েহাতে লাগা।

প্রকৃতপক্ষে জনগণই ভাষাতথাশব্দ’র স্রষ্টা। কিন্তু সাহিত্যমনস্ক মানুষ ও কবিলেখকদের কাছে, এ এক ধরনের খেলার উপকরণ। তাঁরা খেলতে খেলতেই কখনও কখনও শব্দ সৃষ্টি করে থাকেন। খেলার সঙ্গে যে কোনও সৃষ্টিরই বােধহয় একটা চিরন্তন সম্পর্ক আছে। কবি নজরুল তাে বলেই গেছেন খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে/প্রলয়-সৃষ্টি তব পুতুল খেলা…’।

শব্দগঠনের নানা পদ্ধতি আছে, তার মধ্যে কী হচ্ছে দৃষ্টি শব্দ’র অংশ জোড়া দিয়ে একটি নতুন শব্দ তৈরী হয় । এই শব্দকে বলা হয় ‘জোড়কলমশব্দ’ । যেমন , ধোঁয়া + কুয়াশা = ধোঁয়শা । ইংরাজি ভাষাতেও  ধোঁয়াশা শব্দ’র একেবারে  সমার্থক একটি শব্দ আছে – Smog ( Smoke + fog) । প্রদীপ নামে অামাদের এক বন্ধু  একবার খুব সুন্দর একটা জোড়কলম শব্দ তৈরী করেছিলো ।

তখন আমরা মাঝেমাঝেই ‘ ফিস্ট ’ করতাম । এরকম একটা ফিস্টের  আলোচনায় সভায় আমাদের আলোচনাসভায় আমাদের এক বন্ধু   দেবু অন্য এক বান্ধু সমুকে, যে রান্নাবান্নার খুব ভালো এস্টিমেট করতে পারত  , বলল = সমু, একটু গেস (Guess) করে বল তাে আমাদের এই ফিস্টের এস্টিমেট (Estimate) কত হতে পারে ! ওই প্রদীপই তখন এগিয়ে এসে বলল * এস্টিমেট গেস করাকে এক কথায় কী বলে, জানিস? আমরা নেতিবাচকভাবে মাথা নাড়ি। প্রদীপ অম্লানবদনে বলে দিল ‘গেস্টিমেট’ ( Guestimate)

বিগত তিনটে সংখ্যাতে ‘ভদ্রলােকের এক কথার মতাে কেবল বলেই চলেছি – আগামী সংখ্যায় ‘রােগা ও ‘ছােট’র প্রতিশব্দগুলি দেব, কিন্তু শব্দালােচনা এমন খাতে বয়ে চলেছে যে শেষের দিকে খাপছাড়াভাবে ওই শব্দদুটোকে আর কোনমতেই হাজির করা যাচ্ছে না। আমি ভালাে করেই বুঝতে পারছি যে এর ফলে আমার স্বত্ব সম্পর্কে পাঠকের মনে সন্দেহ জাগছে। তাই, এবার এ লেখা লিখতে বসার আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে, ও দুটোর যে কোনও একটা শব্দকে দেখাবই, তা সে ‘খাপ ছাড়া’  হোক আর ‘খাপে ভরা’ হোক।

 পাঠকের হয়তাে মনে আছে, এই লেখার প্রথম কিস্তিতে কবিবন্ধু স্মরজিৎ বিশ্বাস-এর একটি ছড়াকে উদ্ধ ‍ৃত করেছিলাম, একটি শব্দ সম্পর্কে বিস্ত ‍ৃত আলোচনা করার আগে। ইচ্ছে ছিল ’রোগা’  শব্দটির আলােচনায় যাওয়ার আগেও অনুরূপভাবে একটা ছড়াকে উদ্ধ ‍ৃত করব। এবারের সেই ছড়াটির স্রষ্টা – কিশােরকবি শাওন রেজা। শাওন আমার বন্ধু ইনাসউদ্দীনের ছেলে।

সবেমাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে। তাহলে কী হবে, এই বয়সেই সে নানা পত্রপত্রিকায় কবিতাছড়া-চিঠিপত্র ইত্যাদি লিখে সে ‘শব্দ-খেল ’র একজন পাকা খেলােয়াড় হয়ে উঠেছে। বাক্প্রতিমা’র শারদসম্বরেও সে নিয়মিত লিখছে। তার কবিতার শিরােনাম ‘মােটামুটির কাণ্ড’-ও তার নিজের দেওয়া (যদিও আমার ইচ্ছে হয়েছিল ‘রোগা’ শব্দটির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে শিরোনামটি পাল্টানাের, কিন্তু লেখকের ইচ্ছেকেই এখানে প্রধান্য দিয়ে ওই নামটিই বহাল রাখা হ’ল)।

মােটামুটির কাণ্ড/শাওন রেজা।

‘মােটাআর ‘মুটি মিলে সুখী ছিল দুজনে, রােগা হতে সাধ হ’ল কেন যে তা বুঝিনে।

মােটা করে ডায়েট আর ছােটে খুব সকালে | কিন্তু যে খিদে পায় লুচি-দই না খেলে।

খায় না চর্বি খুঁটি, মাংসটা খুবই খায় | বিকেলে হাঁটতে গিয়ে বারেবারে থেমে যায়।

কী করে যে হবে রোগা তারই দুশ্চিন্তায় / মােটা আর মুটি মিলে ডাক্তারের কাছে যায়।

অনেক পরীক্ষা করে বাতলায় ডাক্তার | চর্বি কাটতে হবে নাই কোনও পথ আর।।

কিছুদিন চুপচাপ রেস্ট নিন ঘরে / ভর্তি হবেন এসে একমাস পরে।

ভয়ে আর ভাবনায় খিদে আর পায় না । সামনে মাংস হলেও খেতে রুচি হয় না।

সারা রাত জেগে থাকে ঘুম নেই চোখে। শরীর শুকিয়ে যায় হাসি নেই মুখে।

একমাস পরে তারা ভর্তিটা হ’ল যেই / অবাক তাে ডাক্তার, চর্বি যে কিছু নেই !

এরপর দু’জনার মুখে হাসি ফুটল / মােটা আর মুটি মিলে সুখী হয়ে উঠল।

এরপর ‘রােগা-সম্পর্কিত অন্য শব্দগুলিকে হাজির করানাে যাক। অতিশয় রােগা: অতিকৃশ, অবশীর্ণ, ক্ৰশিষ্ঠ, ক্ৰশীয়ান, ক্ষীণতনু, জিরজির, জিরজিরে, জীর্ণতাপ্রাপ্ত, জীর্ণশীর্ণ, টিংটিঙে, টিঙটিঙে, টিনটিনে, ডিগডিগা, ডিগড়িগে, ডিমে রােগা, তনিষ্ঠ, তনীয়ান, নেংলা, ন্যাংলা, পরিকৃশ, প্যাংলা, বিশীর্ণ, শুঁটকা, শুঁটকো, শুকাননাপােকাননা, শুটকা, শুটকো, সঙ্গে, সিড়িঙ্গে, হাড়গিলা, হাড়গিলে, হাড়-জিরজিরে, হাড়পেকে (গালিবিশেষ) মড়াখেকো, মড়াখেগাে। স্ত্রী: পরিকৃশা, বিশীর্ণা, মড়াখাকী, শুঁটকি, শুঁটকী, শুটকি, শুটকী।

কৃশতাহেতু শুধু হাড় ক’খানা আছে, এরকম: অস্থিপঞ্জরসার, কংকালসার, কংকালবিশিষ্ট, কংকালাবশেষ, অস্থিসার, ঠকঠকিয়া, ঠকঠকে, হাড্ডিসার। শুধু হাড় ও চামড়া আছে, এরকম: অস্থিচর্মবিশিষ্ট, অস্থিচর্মাবশিষ্ট, অস্থিচর্মাবশেষ, অস্থিচর্মসার। দড়ির মতাে সরু (রোগা): দড়ি-পাকানাে। পাটকাঠির মতাে (রােগা): পাকাটে, প্যাকাটে। অধিকতর রােগা (দুইয়ের তুলনায়): ক্ষীণতর। অধিকতম রােগা (বহু’র তুলনায়): ক্ষীণতম। অনাহারে রােগা: উপবাসকৃশ,  ফক্ রে ।

স্ত্রী: ভুখলি। ঈষৎ রােগা: একহারা, আধহারা, দোহারা, নাতিকৃশ, পাতলাটে, রােগাটিয়া, রােগাটে, রোগা-রােগা, হেংলাটে। ঈষৎ দুর্বল ও রােগা: অর্ধজীর্ণ। দুর্বল ও অতিশয় রােগা: রুগ্ন, রােগাপটকা, (শিশু-সম্পর্কিত) পেঁচোয় পাওয়া, পুঁইয়ে ধরা। দারিদ্র’র কারণে দুর্বল ও অতিশয় রােগা : দারিদ্যজীর্ণ। বার্ধক্যর কারণে দুর্বল ও অতিশয় রােগা : কালজীর্ণ, জরাজীর্ণ, জরাতুর । শারীরিক ব্যাধি’র কারণে দুর্বল ও অতিশয় রােগা : রােগজীর্ণ, নােগশীর্ণ। স্ত্রী রােগজীর্ণা, রোগশীর্ণা।

মানসিক ব্যাধি’র কারণে দুর্বল ও অতিশয় রােগা : আধিক্ষীণ, চিন্তাজীর্ণ। লম্বা ও রােগা (ছিপের মতাে); ছিপছিপা, ছিপছিপে, তালট্যাঙা, লিকলিকে, ল্যাকপেকে। কঠোর তপস্যার কারণে রােগা: তপঃকৃশ, তপঃক্লিষ্ট। স্ত্রী: তপঃকৃশা। যার দেহ রোগা: কৃশকায়, কৃশাঙ্গ, ক্ষীণকায়, ক্ষীণাঙ্গ, শীর্ণকায়, শীর্ণদেহ। স্ত্রী: কৃশকায়া, কৃশাঙ্গা, কৃশাদী, ক্ষীণকায়া, ক্ষীণাঙ্গা, ক্ষীণাঙ্গী, তম্বঙ্গী, তন্বী, শীর্ণকায়া, শীর্ণদেহা। যার মাথা মােটা ও দেহ রােগা: যশুরে কই (কৈ), যশােরে কই (কৈ)।

যার কোমর/উদয় (দেহমধ্য) অতিশয় রােগা: অতুন্দ, অনুদর, কৃশােদর, ক্ষীণকটি, ক্ষীণকটী, ক্ষীণমধ্য, ক্ষীনােদর, অনুমধ্য, মন্দোদর, শীর্ণোদর। স্ত্রী: অনুদরা, অনুদরী, কৃশমধ্যা, কৃশােদরা, কৃশােদরী, ক্ষীণমধ্যমা, ক্ষীণমধ্যা, ক্ষীণােদরা, ক্ষীণােদরী, তনুমধ্যা, মন্দোদরী। অন্নাভাবে যার উদর অতিশয় রােগা: পেটমরা। যার কোমর সরু, দেহমধ্য ডমরু’র মতাে: ডমরুমধ্য। স্ত্রী: ডমরুমধ্যা। যার কোমর ও দেহমধ্য সিংহ’র মতাে সরু, লম্বা ও রােগা: গােমধ্য (Cowboy)। স্ত্রী: গােমাধ্যা (Cowgirl)। যার পা’ নিতান্তই রােগা: কুশপেয়ে, পেয়ে।

 (কবিতাটি বাক্প্রতিমা সাহিত্য পত্রিকা  থেকে সংগৃহীত )

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *