প্রেমগতি  //   সুদীপ ঘোষাল 

Sudip
ফোনটা বেজে উঠল। কানে ঠেকাতেই কর্ণ বিদারক কান্না। এই শুনছো, আমি স্টেডিয়ামে আছি। তুমি চলে এস।        

তড়িঘড়ি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখি অনুপমের কোলে আদৃজা। অনুপম দৃশ্য। 
কি রে তোর তাথৈ এর খবর কি?  
অনুপম কুকুর দাঁত বের করে বললো, আমি আদৃজাকে ভালোবাসি। তাথৈ আমার অবসরের সঙ্গিনী। ভ্যালেনটাইন্স ডে তে সত্যিটা জেনে যা। 
আদৃজা আমায় কল করে ডাকলে কেন? 
আমি বললাম। 
আদৃজা বললো, তুমি একবার বললে আমার মা বাবা রাজী হবে। আমি অনুপমকে বিয়ে করতে চাই। তুমি তো আমাকে ভালোবাসো তাহলে এইটুকু স্বার্থত্যাগ করতে পারবে না?  
আমি সম্মতি দিয়ে আদৃজার বাড়ি গেলাম। গিয়ে কাকিমা আর কাকুকে ডেকে বললাম, অনুপম ভালো চাকরি করে। আদৃজার বিয়েটা ওখানেই দিন। আমার কথা শুনে কাকু আর কাকিমা কাঁদতে শুরু করলেন। আমি বললাম, কি হলো। কাঁদছেন কেন?  
কাকু বললেন, ওরা দুদিন আগে আমাদের বলেছিলো। কিন্তু আমরা রাজী না হওয়ায় ওরা নিজেরাই বিয়ে করেছে আর… 
আর কি?  বলুন?  
আজ ওরা দুজনেই শান্তিতে শুয়ে আছে শ্মশানে। 
আমি একটা টোটো ভাড়া করে শ্মশানে গেলাম। তখন ইলেকট্রিক চুল্লিতে সব শেষ। 
হঠাৎ চুল্লীর ওপারে আদৃজাকে দেখতে পেলাম। সে বলছে, কি গো। আমার বাবা মা রাজী হলো অনুপমের সঙ্গে বিয়েতে?  
আমি কোনো উত্তর খুঁজে পেলাম না।              

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: