বিদায় বেলা // মেহেদী হাসান তুহিন

afin

পথ হঠাৎ একি পাগলামি করলি তিনজনকে তিন রাস্তা থেকে ছিনিয়ে এনে একজায়গায় চালান করে দিলি। সম্পূর্ণ দুই জায়গা থেকে ওঠে এসে জুড়ে বসা আমরা তিনজন যদি ও তিনজন তিন ডিপার্টমেন্টে। রাজনীতির সুবাদে পরিচয় হয় হলে। আমি থাকতাম সোহরাওয়ার্দী হলে অন্যদুজন ছিল আলাওলে। সীটের কারণে অন্যদুইজন ছিল একসীটে যদি ও কষ্ট হতো।

অফফান শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ ছিল। তখন তারে সিফট করলাম আমার রুমে। সাথে আমার মিতা কে। তিনজনের বসবাস শুরু হল এক গন্ডিতে নিজেদের রুম যা মন চায় তাই করতাম। কারো কোন ধরনের বাঁধা নাই সাথে ছিল পলিটিক্যাল পাওয়ার। আস্তে আস্তে তিন জনের মধ্যে অনেক মিল হয়ে গেল। এমন ও হয়ে গেলাম একজনের কথা নিয়ে অন্যজন মজা করতাম। আবার আমাদের একজনের প্রতি অন্যজনের রাগ ও হতো চরম পর্যায়ে। তবু ও আমরা কারণে অকারণে ১ঘন্টা পরে ঠিকই কথা বলতাম। অাফফান আবার লেখালেখি নিয়ে ছিল।

পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও করত। সেই সুবাদে  সাংবাদিক মুন্না ভাইয়ের সাথে ভাল খাতির জমে ওঠল ওর। মুন্না ভাইয়ের রুম ফাঁকা হতে না হতেই অাফফান হুট করে বলল সে মুন্না ভাইয়ের রুমে ওঠবে। আবার এটাও বলল যে আমাদের রুমের যে সীটে সে থাকত সেই সিটে কাউকে থাকতে না দিতে। মাঝে মাঝে সে এখানে এসে ঘুমাবে। এদিকে আবার জুনিয়র ও চলে আসছে তাদের ও থাকতে কষ্ট হচ্ছে একজন জুনিয়র রাখলে সমস্যা কি।

তাই জুনিয়র একজন থাকতে বললাম। সে যেদিন রুম থেকে চলে গেল অন্য রুমে  সেদিন আমি বাইর থেকে না আসার আগ পর্যন্ত রুম থেকে বের হয় নি। রুমে এসে আমাকে বলে বন্ধু আমি অন্য রুমে যাচ্ছি সাময়িকের জন্য। তারপর জিগগেস করলাম কার রুমে উত্তরে বলল মুন্না ভাইয়ের রুমে। তারপর আমার আর বুঝতে বাকি রইল না মুন্না ভাই ও তো সাংবাদিকতা করে আবার অফফান ও জুনিয়র সাংবাদিক তাহলে ভাইয়ের কাছে অনেক কিছু শিখে যাবে। হয়তো অফফানের পরবর্তীতে কাজে ও লাগতে পারে। তাই আর যেতে নিষেধ করলাম না।

আবার এটা ও চিন্তা করলাম মুন্না ভাইয়ের রুম বেশি দূরে তো না। প্রতিদিন আসতে যেতে দেখা হবে। তবু ও অফফানের রুম থেকে যাওয়ার সময় অজানা কারণে খারাপ  খারাপ লাগল। এখন আমি পুরা একা আমার মিতা ও তার দুলা ভাই অগ্নিদগ্ধ হওয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি। তাই সেইদিকে একটু বিজি। ও এতক্ষণ তো আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেলাম। আপনাদের মনে এখনো প্রশ্ন জাগেনি আমার মিতা কে? কি আমার নাম? আপনাদের কি একটু জানতে মন চায় না? 

তাহলে বলি আমার নাম মেহেদী হাসান তুহিন। আমার মিতা হল নূরউদ্দিন তুহিন। দুইজনের নামের অন্তমিল আছে। তাই তাকে মিতা বলে ডাকি। রুম থেকে অফফান চলে গেলেও মিতা যায়নি। যদি সে রুমে অনুপস্থিত তাই তার শূন্যতা ও বিরাজ করতেছি। একদিন সে ও চলে যাবে। আবার তিন জনের জায়গা তিন জায়গায়। আসলে জাগতিক নিয়মটাই এরকম বিদায় নিতে হবে সবাইকে একদিন। তবু ও ভালবাসা থেকে যাবে সবার তরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *