কবিতা : বিন্দু জীবন – মাধব মন্ডল

sahityasmriti

জানি তো, অনেক অনেক চোখ জলকে পবিত্র নদী ভেবে তুমি নড়ে বসেছিলে। দূরছাই করতে করতে এত কোটি সেকেন্ড, বলা ভাল, এত অমৃত ছুঁড়লে। আর আমি এতটাই গাধা, কি বলব, সেটাই নিয়ে হরতালে ডুবেছি।চাঁদ, তারা, আকাশ, নদী, এমনকি সূর্য্যটাও মুখ ফেরাল, হায়!

φ
আমি সুর তুলে ছাই হয়েছি, মুখ গলে গলে ধ্যেপড়ে গেল, সমাজ বলছে ছো ছো একটা শান্তি ধরতে জানিস না, আহাম্মক! কয়েকটা পুরস্কারের নামে তিরস্কার আধা ঘুমে বা জাগায় গায়ের উপর উথলে পড়ছে। একটা আলো চাইলাম, কেউ আর নেই, অন্ধকারে পড়ে থাকি একা। সত্যি করে বললে ঠিক একা নয়, তুমিও এক, দুই বা তিনটে হয়ে আসছো আর হড়কে হড়কে ছুটে যাচ্ছো।
φ
আমি ধীরে ধীরে স্বপ্ন গিলছি, গিলতে গিলতে বড় একটা বিন্দু, বড় থেকে ক্ষয়ে ক্ষয়ে ছোট।বস্তুতঃ, এককথায়, অদৃশ্য হবার যোগাড়।আমি আর কাঁদি না, শুধু চোখ বেয়ে নদী নামে আজও।কিন্তু শব্দ করি না, ব্যাঘাত করি না কারো।এই আছি বিন্দু হলেও আছি তো।আর তো চাষীর ছেলেটা হতে পারি না, দড়ি প্যান্টুল ঠিক করতে করতে হালের গরুও চরাতে চাইলেও পাব না।
φ
মা বলতো যে সয় সে রয়, বিন্দু হওয়া জীবন বলছে সইতে সইতে ছাই।ছাই কি নাচে, অভিনয় করে? শুধু বাতাসে ওড়ে বিন্দু বিন্দু।কাউকে কিছু বললে বলে থামো, থামো, থামো, আমিও জানি হিমের সময় এটা, সাবধানে থাকতে হয়।বলি, ছাইয়ে হিম পড়লে কি হয় জানো? শুধু অট্টহাসি।বলে যেমন কর্ম তেমন ফল!
φ
আকাশ মেঘলা হলে ভয়, চকচকে হলেও ভয়, নদী ডাকলেও যেতে পারি না, তাচ্ছিল্য করলেও অসহ্য।যখন লেখা নিয়ে দোরে দোরে ঘুরতাম, আদেশকারী হতেন বাংলার মাষ্টার, নামকরা কবিরাও।বলতেন লেখা একরৈখিক হচ্ছে হে, জীবন বদলাও। মানে সংসারী হও, বাজার কর, রেশনে দাঁড়াও।সব তো হল, কই কিছু তো হল না।
φ
মেয়ের মুখের দিকে তাকাই, বলি ভাল থাক মা, আমার মত হোস না, ও একে একে অভিনয়, আঁকায় স্বপ্ন দেখল। আমি ওকে এ্যাথলিটিক্সে, সাঁতারে, ভারোত্তোলনে দিলাম।হল না।চোখের জলে নাকের জলে করেও ওকে ডিগবাজি খাওয়াতে পারিনি।ভালই হয়েছে একদিক দিয়ে।জীবনে আমার মত ওকে ডিগবাজি খেতে হয়নি এখনও।বিন্দু জীবন এটুকুই দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: