মাঝে মাঝে রাঙা হাঁস সেজে

SAHITYA

আমি খুঁজি প্রান তব ওষ্ঠে   //  রনেশ রায়

মধুসূদন দত্তের I LOVE`D THEE কবিতার অনুসরণে

আমার বিদ্ধস্ত বিদীর্ণ হৃদয়

 সতত তব পানে ধায়

তোমার বিস্ফারিত নম্র নয়ন

   কাছে ডাকে আমায়

   প্রলুব্ধ করে মোরে,

   বলি, বলি আমি ,

আমি ভালোবাসি তোমারে।

 সুরালো সুললিত কন্ঠে

  তুমি ডাক আমারে,

আমি খুঁজি প্রান তব ওষ্ঠে,

তোমার ভ্রুকুটি তখন

আমারে পাঠায় মৃত্যুর শমন ।

.

.

.

বিসর্জন // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

বিসর্জন দিয়ে বইমেলার উদ্বোধন, খড় মাটি
ধুয়ে সাফ। প্রেমিক যুগল উৎসব পালন করতে রাজপথে
যেন এ সুযোগ আর পাবো না। তাই সবার সামনে গোপনে
মাংসে দাঁত দিয়ে একটা নিষ্ঠুর প্রেমের ছাপ স্পষ্ট করা।
কুমারী মেয়ে যেভাবেই হোক শুভ কামনায় অধীর হরি নী যেন
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নতুন
আবাহনীর জয় ঘোষনায়– ততক্ষণে নুনে- ভেজা শরীরে
অবিন্যস্ত খোলা চিঠি কঙ্কালের মতো স্পষ্ট করে অসহায় ত্বকের বিপুল আর্তনাদ।
.
.
.

মন নিয়ে  // বিশ্বনাথ পাল

মনকাঁদে

        মন হাসে
         ভালবাসে
                      মন
মন চাঁদে
         মন ঘরে
          মন ধরে
                    মন।
মন যায়
        মন আসে
         মন ভাসে
                  আলোয়,
মন ধায়
        মন গায়
         মন চায়
                  ভালোয়।
.
.

.

নীল প্রজাপতি  //মিজানুর রহমান মিজান

মুক্তস্বাধীন শৈশব , নীলাকাশ , চরাচর
ডানামেলে নীল প্রজাপতি আনন্দে অন্তহীন।
বয়ে চলা নদী সদৃশ , লক্ষ্য অনন্ত সাগর
নদী ও মাঝে মাঝে লজ্জাবতী হয়
শৈশবের মতো অফুরন্ত অবয়বে
যৌবন বার্ধ্যক্য অবশ্যম্ভাবী পরিণাম
বিমুক্ত নয় ঐ উদিত ভাস্বর;
বেলা শেষে স্মৃতি বিস্মৃতি
সকলই অনুদার , তবু কাব্যময়
নিগুঢ় সম্পর্ক এই স্মৃতিটুকু।
.
.
.

 মাঠে বকের দলে দু’একটা কাক ছিল

সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

দাঁড় কাক ।পাতিকাক । কেউ অতিরিক্ত
জিভে ঠোঁটে হয়তো কিছু এঁটো পাতা ঠুকরে ঠুকরে
পাড়ার মজলিসে নিজের গুরুত্ব বোঝাতে
শাশ্বত আবশ্যক কৌতুহলে উঁকি মারে পুরুষ।
কামার্ত প্রেমিক চলেছে বকের দলের মাঝখানে
মাংসাশী অন্ধকার কাউন্সেলিং জোনাকির
নেশার ঢংয়ে চশমা খুলে ঝাপসা দ্যাখে
দিনের প্রখর রোদের সতীত্ব ভেঙে খানখান
কে শক্তিশালী! বক না কাক? নীরবতা
আমার চিন্তা এগিয়ে চলে আপন মহিমায়
.
.
.

উড়ান  //  মালিপাখি

পাতা তোকে চুমু খাই ! চুমু ! তারা গুলো জ্বলে মিটি মিটি !

কোনো হুঁশ নেই ! ঘাড় গুঁজে লিখি শুধু চিঠি আর চিঠি — !

পাতা তোকে চুমু খাই ! চুমু ! তোর বুকে গড়েছি যে বাড়ি !

কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি পাখি হতে পারি !

.
ঘাস ! তুমি ভালো আছো ? দ্যাখা করা ভুলে গেছি ? তাই বুঝি ?

বেশ , তবে আজ এই রণসাজ পরে বলো কাকে খুঁজি ?

মাঝে মাঝে রাঙা হাঁস সেজে , পালকের রঙ রোদে নাড়ি !

কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি আলো হতে পারি !

.
নদী তোকে ভালোবাসি ! নদী তোকে আলোমাসি বলে ডাকি !

ডেকে , ডেকে ছুটে যাই ! রাত ভোর তোর কোলে শুয়ে থাকি !

শুয়ে , শুয়ে তারা নাম লিখি ! ঘেমে গেলে হই মরুচারী !

কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি নদী হতে পারি !

.
মরীচিকা ! মরি মরি ! হুলো রাজা , মিনি পরী, ওড়া বুলি !

এসো এসো ফিরে এসো ! হীরে এসো , চুনী এসো মুঠো খুলি !

মুঠো খোলো ! খুলে বাঁধো তাকে ! চলো পথ, চলো মেধা সারি !

কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি ভাষা হতে পারি !

.

.

আমি জেগে দেখি // মালিপাখি

 

আকাশের বোন নীল ঢেলে বলে  

           সামনে কে  ?

দোপাটির চারা বেড়ে বেড়ে জলে

            নাম লেখে  !!

 

আকাশের ভাই হুস্করে যায়

            হাঁস এঁকে  !

পাহাড়ের চূড়ো সেই চিঠি পায়

            ঘাস থেকে  !!

 

চারিদিকে মায়া , হও তার মানে

            চুপ যদি  !

জলছবি আঁকে কবিতায় , গানে

            রূপ নদী  !!

 

ডিঙি গুলি ভাসে সোনা নদীটার

           কূল ধরে  !

আমি জেগে দেখি রামধনু হার

            ফুল ভোরে  !!

.

.

.

সাথী  //  মালিপাখি

পাগল ছেলে ! শোনায় কেরে

একলা নাকি তুই  ?

আঁধার ঘরে কাঁদিস বসে

আয়না তোকে ছুঁই  !

 

গেছিস বুঝি পাথর হয়ে ,

নেইকি মনে বল  ?

ছোটার তেজি সাহস নিয়ে

সামনে হাঁটি চল  — !

 

কাঁসাই আছে , তিতাস আছে ,

মেঘনা আছে আর  ;

বাঁধার পাহাড় থাকনা যতো

থাকনা যতো ভার — !

 

আঁধার কেটে দু দিন বাদে

উঠবে নেচে বুক  !

বিজয় মালা সবাই দেবে

দেখবি কতো সুখ  !

 

এই ছেলেটি আয়না কাছে

আয়না সাথী হই  !

এইনে হাতে ছড়ার দেশের

সাতটা খুশির বই  !

.

.

.

টাপুরটুপুর  // মালিপাখি

 

মেঘরা এখন জল টুপটুপ মেঘরা এখন জল

চল ছুটে যাই নামতা পাড়ায় নামতা পড়ি চল  

 

ঝলমলানো পোষাকটি বেশ বাজায় কে শাঁখ মন  ?

বুলবুলি দেশ গান ধরেছে , পুঁতিরা সাত বোন  !

 

তিনটি পুঁতি মাটির কুটির ! বাকিরা সব ফুল  !

আয় জোনাকি , পাহাড়ী পথ ; নাচছে নদীর কূল  — !

 

ধান ঝুর ঝুর , গান ঝুর ঝুর , বাজলো নুপুর যেই  ;

জুঁই দরিয়া বললে হেসেআরতো সময় নেই  !

 

আর দেরি নয় , আর দেরি নয় ,নামতা পড়া যাক  

তিন খানা ঘর নামতা পড়ি একশো তারার ঝাঁক  — !

 

নামতা শুনে নাম ভুলে যায় চরকি মনে তাই

সাজলো ভোরের শাপলা সানাই মেঘনা কুটুম ভাই  !

 

মেঘনা পাগল , নামতা পাগল , আয়না মেঘ আয়  — !

এই ছড়ালুম টাপুরটুপুরপানসি ভেসে যায়।

.

.

.

শুভ হোক // মালিপাখি

কবি মানেই লোকটা পাগল লোকটা বাজে লোক  

কবি লেখেন আগামি দিন সবার শুভ হোক  

 

ওরা সবাই কি মেধাময় চোখে মেধার ঘোর  

কবি খোঁজেন রূপকথা আর নতুন আলোর ভোর  

 

ওরা সবাই নেয় কেড়ে নেয় কবির সকল মান  

পাতায় পাতায় কবি ছড়ান ভালোবাসার গান  

 

ওরা সবাই নিজে বাঁচে পোড়ায় কবির মুখ  

কবি লেখেন পারুল,  পলাশ সবাইকে দাও সুখ  

 

ওরা সবাই খুশির পাহাড় ওরা সবাই বীর  

ওদেরতো নয় , ওদের কাছে কবির নত শির  

 

কবির গায়ে ছড়ায় ওরা মেধার কালো ছাপ  

কবি বলেন দয়াময় , দাও ধুয়ে সব পাপ  

 

কবি একাই পথের পথিক ইতিহাসের দাস  

মাথা দোলায় গোলাপ , টগর , সবুজ কচি ঘাস  

 

কবি মানেই লোকটা পাগল লোকটা বাজে লোক  

কবি লেখেন আগামি দিন সবার শুভ হোক  

.

.

.

ফুল হয়ে যাই  // মালিপাখি 

ঝরনা পাতায় রঙের বাড়ি ,

দুএকটা রঙ তাই কুড়ালাম  

কেউ বা শালিক কেউ বা ফিঙে ,

এই নিয়ে এক রূপকথা গ্রাম  

 

পাহাড় ছুঁয়ে শীতল হাওয়ায়

কোলাজ আঁকে নীল দুটি চোখ  

পাতায় পাতায় পথের মিছিল  —

কেউ বা দোয়েল কেউ বা চাতক  

 

ঢেউ বয়ে যায় ঘাসের ডগায়

নাম লেখে এক ফুল ঘোড়া তার  

বাউরি বাতাস আপন মনে

সুর বোনে রোজ চুমকি পাতার  

 

মেঘনা মেঘের হাতছানিতে

অনুভূতির বীজ ওড়ে তাই

অলীক ভূবন কেবল ভাবে

মাঠ পেরিয়ে ফুল হয়ে যাই  

.

.

.

মায়াতরু  //  মালিপাখি

গাছটি যেন নদী ,

দেয় ছড়িয়ে প্রীতির মোহর একলা এদিক ওদিক  !

 

গাছটি যেন তারা ,

ভালোবাসার ফুল বুনে দেয় রোজ আমাদের পাড়ায়  !

 

গাছটি যেন পাখি ,

শুধুই বলে ভাই তোরা সবাই সুখে থাকিস  !

 

গাছটি যেন বাঁশি ,

বাজতে বাজতে দেয় ছুঁয়ে মন পাগলি রাঙামাসির  !

 

গাছটি যেন ঘোড়া ,

ছুটতে ছুটতে পথ গুলো রোজ রূপকথাতে মোড়ায়  !

 

গাছটি যেন আশা ,

আমাকে রোজ ভুবন ডাঙার ওড়না মেঘে ভাসায়  !

.

.

.

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *