রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী – রণেশ রায়

sahityasmriti.com

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তার রক্তকরবিতে যে বার্তা রেখে গেছেন তার সারবস্তু হল : আমরা জানি, “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়”। তাও আমাদের ভাবায়  আজ সমরবাদ ভোগবাদ প্রকৃতি নিধনের এই যুগে কি প্রাচুর্য্যের জগতে দুনিয়া কাব্যময়? না, তাও তো নয়। ক্ষুধার জগতে প্রাচুর্য্যের দ্বীপ। প্রাচুর্য্যের দ্বীপে মধ্যগগনের দহন জ্বালা। সকালের সূর্যের নরম স্পর্শ, সন্ধ্যার স্নিগ্ধতা, রাতের সুখস্বপ্ন কোথায়?  সন্ধ্যায় অমাবস্যার অন্ধকার, রাতে বিবরের গহ্বর। মাতৃগর্ভে আগমনির পদধ্বনি শোনা যায় না। পৌরুষের আকাশে প্রকৃতির রোষ। এই `সভ্যতা`র মধ্যগগনে প্রাচুর্যের দ্বীপে অতিপুষ্ট সবাই বিচ্ছিন্ন। শৈশব লুঠ, যৌবন বীর্যহীন, বার্ধক্য কেঁদে ফেরে। প্রেম সঙ্গিহীন। সেখানে ফোটে না রক্তকরবী। শাসক নিজেও শৃঙ্খলিত। এর মধ্যেই রঞ্জন নতুনের বার্তা বয় । নন্দিনী বিদ্রোহিনী। ‘সভ্যতা’র রথে রঞ্জন নন্দিনী পিষ্ট। তাদের প্রেমের সরোবরে রক্তকরবীর প্রস্ফুটন।  বেঁচে থাকে সে প্রেম। রক্তের কোষে সে প্রাণচঞ্চল । আগামীর বার্তা। অপেক্ষা ।

 কবি   সুকান্ত যখন লেখেন :

অবাক পৃথিবী ! অবাক করলে তুমি !

জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ  এ স্বদেশভূমি !

অবাক পৃথিবী !  আমরা যে পরাধীন

অবাক, কি দ্রুত  জমে ক্রোধ দিন দিন ;

########################

লেখকের কথা  : এটা রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য যা আজ পরিবেশ দূষণের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ন বলে মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: