শব্দেরা লুকিয়ে ঐ শূন্যতায় // মাধব মণ্ডল // ২১ – ৪২

২১

বিদ্যাধরী নদীরে

তোর কাছেই যাব আমি

গান হয়ে ভেসে যায় আজও

সাপে কাটা শরীর।

এত শূন্যতা সব দিকে

এত হিসেব নিকেশ

গান করে তোর জলে

ছপছপ মেশাবই।

জীবনের সব কিছু

লাল কালো সবুজ

তোর ঘোলাটে আঁশটে জল

পুরোটাই নিক শুষে।

পাড় বরাবর মন্ত্রীরা হেঁটে গেলে

তোর চরে পুঁতে রাখা কঙ্কাল

একসাথে হরিধ্বনি দেয়

আমি তা জানি।

২২

আমি তো আজও পর্দার আড়ালে

কি দেখে কারা যেন খুব ভালবাসে

নাহলে……..

আমার নড়াচড়া, নিঃশ্বাস শব্দ

হাঁ করার মানে, নিজে নিজে কানমলা

সব জানে ওরা

নাহলে…….

বাঁশ পাতার পতনের হাহাকার

বাচ্চা বিয়ানোর পর মায়ের শান্তি

বৃষ্টির কামড়ে শোলের লাফ

সব মুখস্থ মসৃণ

নাহলে……..

নাহলে ভস্ম লেপা এ শরীরে

এতটা পুলক জাগে!

মাগো, 

সবাই কেমন দিব্য চোখ পেল!

২৩

ধারালো খাঁড়াটা

আমারই মাথা চায়?

অত বড় জাম বাটি কেন?

অত লালজল এ শরীরে তো নেই!

আমি তো নিতান্তই প্রেম শিশু

আমাকে খেতে গিয়ে বাঘও কাঁদে!

জানি আমি, ভালই জানি

আমার নিঃশ্বাস তোর প্রিয়।

বুক পেতেই আছি, বনেতে যাইনি 

ফুসফুস নিবি? নে না, এতো তোরই।

২৪

সব কথা রাখনি তুমি

স্বপ্ন দেখাও আজও

কাজ নেই বুঝি?

মিনিটে মিনিটে দেখাও ঝাঁজও।

গরীবের কি বাছাবাছি মানায়?

স্বপ্নেরা কথোপকথন চালায়

আমি কি করি?

মন ময়ূরের পালক নিয়ে পালায়।

কোমর ভাঙা

কতদূর আর যাব

এখানে ওখানে প্রভাবশালী

লেজে টান খাব।

ঠাকমার দোল দেওয়া

থেমেছে কখন

নাগর দোলাতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও

চড়েছি এখন।

২৫

তুমি যা বলেছো শুনেছি সব

সব কথা-ভালবাসা, কথা-কামড়

হিলহিলে হুটোপুটি চোখের ভেতর

পাথর হয়ে যায় ইচ্ছেগুলো।

রাত হোক না হোক

গুবরে পোকা হেঁটে আসে বুকের চামড়ায়

ঝিঁঝিরাও চিল চিৎকার জোড়ে

ক্ষমা আর মায়া লাগে ভোরের ফুলে।

এরও পরের পর্ব আছে

এক সাগর জল নেমে ভেজায় কাপড়

কত দুঃখ সূচক বাবারা মায়েরা ছুটে আসে

ঘর দোর হয় তাদের শোরুম।

আমার আমাদের কথারা কেত্তন নাম পায়

সে বা তারা গর্জনে বলে শেষ কথা

তবিলদার হই শুধু রিমোট ছাড়াই

মনোরম কল্প ভূত্বক ডালপালা ছড়ায়।

২৬

একা থাকলেই কিসের যেন শব্দ আসে

সবাই আসো আর শোনো রহস্য কথা।

লোকটা রোজ ভোরে কাকেদের কিছু বলে

কিছু কথা হয় শিউলিদের সাথে, নিঃশব্দে।

অনেক শব্দ নিজে নিজেই কথা বলে

ভূত্বকে আপন আপন শব্দ সব ডাকে।

শূন্যতাই কঠিন কুয়াশায় লুকালে শরীর মন

হাহাকার সমাজ সংসারে, একা থাকা মনে।

কিছু অলৌলিক লোক শব্দকে জাপ্টে ধরে

মায়ার শরীরে ঈশ্বরের বারবার জন্ম হয়।

সব শূন্যতাই জন্ম দেয় ভরা বিস্ময়

শব্দেরা লুকিয়ে ঐ শূন্যতায়, ঐ শূন্যতায়।

আহা, শব্দ বাণে শব্দ কব্জা করে, কব্জা করে

রামের মত অভিশাপ খায় সব কবি মনে হয়।

২৭

অকাতরে করেছো কত অন লাইন লীলা

তোমার বাঁকানো চোখ, মুখ, শরীরী যাদু

তোমাকেই ডাকছে আর ডাকছে।

আহা, মায়াবী কত টাল টাল ছায়া

কি কঠিন হাসে সব স্মৃতি

ঘুম হয়েছে চেরা চেরা।

ঘরে ঘরে ফেরি করেছো ছটফটানি

রক্তে উঠেছে ঝড় বঙ্গোপসাগরের

কি সুখে চেটেছো জিব আহ্লাদে!

ভূত্বক ভরেছে কামুক ভিখারিতে

অন লাইনে বসবাস সহবাস

বহুগামী লৌকিক দেব দেবীদের!

২৮

কে বা কার, ভাবত বসে লোকটা

কিন্তু ছিল বন্ধ তার চোখটা।

চোখে যে ছিল মণি

তাতে বাঁধা শনি।

মরীচিকা কাউকে কাউকে ডাকে

লোকটা ছিল পড়ে এরই কোন ফাঁকে।

ফাঁক বলতে ফাঁকা

লোকটা বড়ই বাঁকা।

২৯

সুর ছিঁড়ে ছিঁড়ে তৈরি করেছি তোকে

তুই শুধু কাটাকুটি দাপাদাপি খেললি।

মাছ শাক চেষ্টায় খেতে চায়, লড়াই লড়াই

তুই শুধু হেলেফেলে উঠোনে ছড়াস।

ফলতঃ যা হল কহতব্য নয়

কি ফূর্তি কাকেদের আর তোর।

ভূত্বক ফুঁড়ে বীর কাকেরা তেড়ে চ্যাঁচায়

আমি ও আমার লাশেরা মিঁউ মিঁউ করে।

কান্না কান্না সংগ্রাম চালু তবে কেন

কাকেরা কি নিতান্তই নিষ্ঠুর?

অতঃপর, ঘরে ফেরা

তোরও আমারও।

৩০

ওহো, তুমিই তো ভেসে গেলে

এবার হিসাবে বস, কি কি পেলে।

ভাবের ঘরে বেশী ভাব মিথ্যে ভূত্বক

পরকাল হয়ে যায় সশব্দ ধারাপাত।

আমি তো নড়াচড়া, আমি তো বাস্তব

ওরা কারা? টেনেছে তোমায় হিড়হিড়!

এত আলাদা কথা ছিল তোমার ভেতর!

চাওয়া পাওয়া ছিল কিছু একান্ত আপন?

আমি একা পথ হাঁটি গুটিগুটি, গুটিগুটি

কত না ভালই ছিলাম এক থালায় দু’টি।

৩১

টুকরো টুকরো হতাশা

দমকা হুল্লোড়ও

খোলা মনে আসে যায়।

আমি তো বসে নেই

চিন চিন করে ভাঙা কোমর

হাঁটুও।

ভালবাসা গাছে গাছে

জমাটি সবুজ

হতে পারে কখনও মিয়ানো।

কুয়াশা ফোঁড়ে আজব মানুষী

হাসি তার ভালবাসি

কথা তার মনে থাকে।

সব ভুল সুর কাটে

কচুরী পানায় ভরে যায় খাল

টানা চোখে নদী নামে ঐ।

আমি তো বসে নেই

ছেঁড়া তার জুড়ি

যে কানাইকে অন্ধ রটাও

সুর তোলে সেই।

৩২

কি বিষ করেছো চাষ

সব নেব ভালই দামে।

কি সাহসী প্রজাপতি

বিষ মধু চেটেচুটে খায়!

কেউ কেউ মারা পড়ে

সবাই মোটেও নয়।

গোড়া থেকে খায় শুধু 

ছাগলে গাধায়।

তোর বিষ কিছু নয়

শুধু ঝিম ধরায়!

৩৩

সব অপবাদ ফুঁড়ে

জেগে আছি জীবনে

তুমি কি করেছিলে মনে

মারা যাব রক্তক্ষরণে?

আমারই তৈরি বাগানে

রোজ রাতে সিঁদ কাটে

আমি জেগেই থাকি

আঙুলে ট্রিগার ফাটে।

পিপীলিকার ডানা গজায়

মরবেই বলে

ওরা কি করবে বলো

ছলে বলে কৌশলে?

লাটাইয়ের সুতো তো টানছি

আর ছাড়ছিও

বেহায়া ঘুড়ি কেটে কেটে

আত্ম বিশ্বাসে বাড়ছিও।

৩৪

মনে কর উই পোকায় ঘিরেছে তোমায়

মনে কর ওদের ঢিপিটাই তোমার ঘর।

রত্নাকরী সব পাপ এবার পড়বেই চাপা

প্রথমে শুকনো মনে তাজা জন্মাক ঘাস।

শূন্যতা কেটে কেটে গয়না বড়ি নামাও

চোরদালানীর হাটে যাও, বেচে চাল আন।

শুকনো কবি খাতাতে তো আর চাল আসে না

কিংবা কোন স্মৃতি, সন্তানের সুখ কিছুই না।

হারানো সুজনরা সশব্দ বাজনায় ঘরে ফেরে

কি বাণী, ছোঃ তুই আজও পয়সা চিনলি না!

৩৫

কাজ কাজ কাজ

কে পালাল, গাছ?

আবার লাগা গাছ।

গাছে দে জল 

ও দেবে তো ফল 

কি লাভ কেঁদে বল।

কে কি বলে বলুক

জলে পোকা চলুক।

পোকায় বিষ খুব 

চারদিক নিশ্চুপ

কে ধরেছে পা টা 

গুলিয়ে ওঠে গা টা।

রঙচঙে সাজগোজ

একলা বুঝবো?

তোরাও এবার বোঝ।

৩৬

সবখানে খেলা হয়?।

ঘরের ছাঁচে মনের কানাচে

লাউ মাচায় আমের মুকুলে

প্রজাপতির নাচে।

খাদের পাড়ে নদীর গোপনে

ফিসফিস বাঁশ ঝাড়ে

অভাঁজ ভোরে অকথার ঐ

পাশাপশি আড়ে বেআড়ে।

একটি ফুলের কথায়

মূলে মূলে মূলত্রাণে

কাক আর শালিখের 

গানে গানে চানে।

৩৭

লাল লাল চোখের ভাষারা রক্ত খেতে চায়, দেখে শুনে প্রায় বোবা আমাদের চোখেও সূর্য্য ওঠে ডোবে,তোকে তো বলেছি সব,বন্ধ হোক এবার চোখ বোজা!

মিছিলে মিছিলে ছয়লাপ হোক অলি গলি, ধ্বনিরা শব্দ পাক, শব্দেরা হোক দানবিক বোম, যাক ফেটে যাক রাজ দরবারে, ছিন্ন ভিন্ন হোক সব মিথ্যেবাদী।

দিন হোক রাত বাড়ুক, কালবৈশাখী বাদাবন ভাসাক, কান ধরে ওঠবোস খাক নিষেধ স্থানে নোনাজল ফেলা লোকজন, একটা কাক গণ্ডারের পিঠে দিক সুড়সুড়ি কিংবা কোকিল বা বউ কথা কও অঝোরে ডাকুক, ব্যবহৃত লোকেরা এসো পেটের, মনের মিছিলে।

কি ভাবো এত? দেখ লুম্বিনী বাগানে আজ পাখিরা কাঁদছে, গাছেরা ন্যাংটো হয়েছে নিজের ইচ্ছায়, হাত জোড় করে একদিকে অন্যদিকে খেউড় খেউড়, মণীষীরা দেওয়ালে।

৩৮

ঠিক কতটা বাড়লে নাগাল পাওয়া যায় হাকুতকুত করতে করতে জানার চেষ্টায় আছি, ছাইগাদার উপরে ফেলা কাঁঠালের ছালে বসছে আর উড়ছে ডুমো ডুমো মাছি, তোমাকে হয়নি বলা এখন আমি দর্শকে বাঁচি।

পাখিদের হঠাৎ ছায়াতে ঠকে যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ, আমি কি করবো বল পাশেই দাঁড়িয়ে গাছ, ও তে তো ফল ভরা পাখি করে নাচ, মুখ কালো বানরেরা লেজে চুল বাছ।

তোমাকে হয়নি বলা করে নিও আঁচ, বেঁচে তো এখনও আছি, চারদিকে কাঁচ, মাঝে মাঝে হাত পা কাটি, রক্তের নাচ, এখনও খেলে, চেয়ে থাকে গাছ।

৩৯

কাল কি অমাবস্যা ছিল!!

নাকি আজকাল রোজই ভূত্বকে অমাবস্যা?

অথচ এই সাত সকালে গুটিকয় বালক ফুটবলে লাথি ছোটাচ্ছে

ও পাশে আবার পাড়া ফুটবল উৎসব।

জানো কাল ঐ বাড়িতে শোক নেমেছিল?

আজ সকালে শোক সভায় কিছু হাসি গল্প।

কাল কি সত্যিই অমাবস্যা ছিল?

ওনাকে বললাম, উনি তো ঠোঁট ওল্টালেন।

৪০

ঠিক কতগুলি মুখ দেখলে

ক’টা বাড়ির ঠিকুজি কুষ্টি দোমড়ালে

হে বীর তুমি হেলবে!!

বাঃ হিসেবী, বাঃ বিষয়ী বাঃ

সমাজ তোমরাই চালাবে??

তাই বুঝি এত মনস্তাপ কুড়িয়ে নিচ্ছো??

কোনো সুর, কোনো গান আর বুঝি ঢুঁ মারে না!! 

কেউ কেউ ফাঁপা নুড়ি কুড়ায়

হায় সমাজ, তোর নাড়ি ছিঁড়ে এরা কোথায় ছোটে?? 

এত পাপ, তাই বুঝি মাটির পুতুল এ সংসার!!

২৪১

ভালবেসে দেখেছি

বকাবকিও 

মারও পড়েছে কিছু 

কিন্তু তোরই ভূত্বক বাড়ছে!!

সব শিশুই বিরাট শিশু।

আজকাল পথ খাচ্ছে পথ।

নাকি অপথ??

চারদিকে এখনও শীত

ভোরের পাখিরা তাই বুঝি কম!!

আমাকে আলস্য ডাক দিক

তুমি ভাল থাকবে

শ্যাওলা পড়ুক গায়ে

তুই তো তাতে ভালই থাকবি শিশু!!

৪২

এখন আমি সবটা না হলেও কিছুটা বুঝি

চোখ কান নাক সব একটু বেড়েছে কিনা!

সেই কবে থেকে জ্বরে পড়েছি, পড়েছি তো পড়েছি

বুঝতে পারছি ভালবাসলে জ্বর হয় কিনা!

মা বাবা বলে উঠলে রাত

তুমি তখন এইমাত্র ফাটা শিমূল!

কোন সেকেন্ড থেকে তুমি জল খেলবে

আমি জানি, আমি জানি তোমার লম্বা চুল।

মনে আছে তোর, ফুঁ দিয়ে ঘাড়ের চুল ওড়ানো?

মনে কি আছে, সব আগাম বলা ভুল, হায় ভুল !!

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: