শাটল লাইনের বিজলী – অাফফান ইয়াসিন

sahityasmriti
কুয়াশাচ্ছন্ন ক্যাম্পাস,চারিদিকে ঝাপসা, ভোরের শিশিরের অালতো ছোঁয়ায় শীত শীত অনুভব, ধূসর রাস্তা-ঘাট,পাখিগুলোর কোলাহলধ্বনি,দূর মসজিদ থেকে ভেসে অাসা জিকিরের ধ্বনি, খুব সকালে হেঁটে যাওয়া পথিকের গমন এবং শিশির ভেজা পথ, কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়ার দরুন রাস্তার দু’পাশে ম্রিয়মাণ লাইট, প্রকট ঠান্ডা গায়ে লাগানো মৃদু বাতাস। খুব সকালে অবলৌকন করা হলগুলোর মনোরূপ দৃশ্য ইত্যাদি নিয়েই সকালের চবি ক্যাম্পাস। শীত এখনো পরিপূর্ণরূপে অাগমন করেনি তবে তার অাসার বাণী ইতোমধ্যে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে চবি ক্যামপাসও সাজতে শুরু করছে অপরূপ সাজে। যেটা পরিপূর্ণরূপে অনুধাবন করা যায় প্রভাতকল্পায়। খুব ভোরে রাস্তায় বেড়োলে প্রচুর অাড্ডা দেওয়া যায় প্রকৃতি ও গাছপালার সাথে। যেন নীরব ও সঙ্গিহীন গাছগুলোও তখন বাকহীন শব্দে অালাপ করতে চায়,গান শুনাতে চায়। এবং মেতে উঠতে চায় শিশিরের সাথে অাড্ডায়। সবুজ সমারোহ গায়ে মেখে পাখিগুলো গাছের এই ডাল থেকে ঐ ডালে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভোরে বসে থাকে বিজলি ও একটি মেয়ে। ছুটে বেড়ায় এদিক-ওদিক। সে দিন খুব ভোরে কুয়াশাচ্ছন্ন ক্যাম্পাস দেখতে দেখতে শাটল লাইন পর্যন্ত চলে এলাম। তখনি  বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্ট দিক থেকে ছুটে অাসছে একটি শাটল ট্রেন। কুয়াশায় অাচ্ছন্ন রাস্তা-ঘাট সাথে শিশির ভেজা, পিচ্ছিল হয়ে অাছে শাটল লাইন সহ তার দু’পাশ। দূর থেকে হালকা ঝাপসায় দেখা গেল শাটলের মুখ। শীতের সকালে শাটল উপভোগ করতে দাড়িঁয়ে ছিলাম শাটল লাইনের পাশে অবস্থানরত ঝুপড়িগুলোর এক কোণে। হঠাৎ চোখ পড়ল শাটল অাগমনের লাইনে একটি বাচ্চা মেয়ে তার বকরিটি নিয়ে টানাটানি করছে। প্রথমে বেশ মজা পেয়েছিলাম সাথে ফটোশুটার হওয়ার অাগ্রহও। কিন্তু পরক্ষণই বুজতে পারলাম সে বিপদে পড়েছে। তাই একদৌরে গিয়ে শাটল লাইন থেকে তার বকরিটিকে সড়িয়ে ফেললাম। দু’জন একসাথে দাঁড়িয়ে থেকে শাটল গমন উপভোগ করলাম। তারপর কৌতুহলজনক হয়ে জানতে চাইলাম,
– এতো শীতের সকালে ক্যাম্পাসে কি করো? – অকপটে বলল, অামি তো প্রতিদিনই অাসি!
– জানতে চাইলাম, কেন অাসো?
– সকালের ক্যাম্পাস দেখতে!
– সকালে অাসো কেন?
– সকালে কেউ থাকে না, পুরো ক্যাম্পাস ঘুড়ে দেখা যায়।
– বকরি নিয়ে অাসো কেন?
– ওকে নিয়ে অাসা লাগেনা, ও নিজেই চলে অাসে!
– মানে কি, পরিস্কার করে বলো?
– অামাকে ছাড়া বিজলী কোথাও থাকতে পারে না!
– বিজলী কে?
– ওর নাম!
– “ও” টা কে?
– রাগান্বিত স্বরে বলল “বকরি”!
বুঝতে অার বাকি রইল না, শখের বসত কতজন কত কি করে! অনেক কিছুই অামাদের অগোচরে থেকে যায়। তবে, সবার অাবেগ, শখ এবং ইচ্ছেগুলোকে ভালো চোখে দেখা উচিত।

⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔⇔

শিক্ষার্থী ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ – বাংলাদেশ।  শহর -চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: