সৃজন – রণেশ রায়

dahityasmriti
φ
আলতো করে শরীরের মোচড়ে
পায়ের আঙুলের ডগার চাপে,
টুক করে বাতাসে  ভাসিয়ে দেওয়া,
পাহাড় ডিঙিয়ে ঝর্ণার তানে তানে
কখনো ডাইনে কখনো বাঁয়ে বাঁক নিয়ে
সবাইকে ফাঁকি দিয়ে,
অষ্টাদশীর কোমরের দোলায়
নাচতে নাচতে—- গোল! গোল!
φ
কেমনে যায় বলা
দুচোখ ভরে দেখা
হৃদয়ে লাগায় দোলা
যেন নতুন জীবনের অভ্যুদয়
শোনা যায় ভৈরোর  গান
মেলে এসে মোহনায়,
বাতাসে তুফান নদীতে বান
জয় করে নেওয়া কোটি মানুষের হৃদয়,
এর জন্যই রাত জেগে অপেক্ষায়
কখন খেলবে মেসি রনাল্ডো,
ফিরে আসবে ম্যারাডোনা,
একেই বলে ফুটবল শৈলী
যন্ত্র নয় মেহনত মনন
রক্ত ঘামে সৃষ্টি এ শিল্প,
হাজার বছরের পরিশ্রমে
সকলের প্রচেষ্টায় এ মিলন
সকলকে মোহিত করে
এক বিন্দুতে মেলে এসে  সৃজন।
———————————
বেঙ্গালুরু ১৬.৬.২০১৮ সকাল 

খুলে রাখি  //  ২১/১০/২০১৮

আনন্দ নিরানন্দের সঙ্গম মেলায়
আমার কবিতা বহুত্বের খেয়া বায়
বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কথা কয়
 একের সঙ্গে অপরের বিভেদ বিদ্বেষ নয়
যদি আমার কবিতা তোমার চেতনায়
যদি আশ্রয় পায় সকলের হিয়ায়
যদি বেজে ওঠে বহুত্বের মূর্ছনায়
যদি মেলে এসে ছন্দের মোহনায়
সার্থক সে কবিতা আমার
আমি খুলে রাখি আমার দুয়ার।
====================

আমার কথা

যদি আমার কথা তোমার যাতনায়

যদি অশ্রু ঝরে কথার বেদনায়

তবে আজ কশম আমার

কব না সে কথা তোমায় আর।

যদি ফুল হয়ে ফোটে সে কথা

না পাও তুমি ব্যাথা

যদি বিদায় নেয় তোমার বেদনা

যদি বেজে ওঠে হৃদয় বীণা

জেগে ওঠে আমার চেতনা

শ্বাশত সে কথা আমার বলনে

গান হয়ে ওঠে তোমার শ্রবণে

ভাষা পায় সে কথা আমার কবিতায়

মুখরিত এ জীবন আমার কথায়।

আসবে কবে  

অতীত ফিরে  ফিরে আসে

শৈশবের খেয়া  বেয়ে

দুরন্ত যৌবনের উচ্ছাসে

পদ্মপাতায় ভেসে ভেসে

গোলাপের কাঁটায় বিঁধে,

সে আসে হেসে হেসে

লাল নিশান  হাতে

বাঁধা আছে কাস্তে,

শিশিরে ভিজে শিরিষে শিরিষে

প্রৌঢ়ের ডানা চড়ে

ব্যাপারীর হিসেবে হিসেব কষে।

অতীত গুটি গুটি পায়ে

মায়ের কোল থেকে খেলার মাঠ হয়ে

কফি হাউসে এসে বসে,

বন্দী  সে সংসারের  কারাগারে,

প্রেমের অলিন্দে

ঝর্নার কলকল রবে

সে অতীত খেলা  করে।

আকাশে বিদ্যুৎ চমক হানে

জঙ্গলের নীরবতায় কথা বলে,

বলে যায় একান্তে  কানে কানে

চলে এসো সন্তর্পনে ফাগুনের বিকেলে

বাতাসের হিন্দোলে,

মুখোমুখি আমরা দুজনে

মিলি পরস্পর আলিঙ্গনে।

————————-

প্রিয়তমাষু  
——————-

অনেকদিন হলো দেখা নেই তোমার

কেমন বা আছো কেমন চলছে জানা নেই

তবে ধরে নিতে পারি ভালোই আছ

খারাপ থাকলে খবরটা পেতাম মুহূর্তেই

খারাপ খবর দৌড়য় বাতাসের ডানায় ভেসে

ভালো খবরের চলন  খুব ধীরে

চলে সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

পৌঁছতেই চায় না সর্বত্র

মনের সুখে থাকে বিছানায় শুয়ে

তোমার সঙ্গে গল্পে আড্ডায় মত্ত

আর তোমার ভালো খবর আমার কাছে ?

সে তো রাগ করে বসে থাকে ঘরে

আমি যে একান্তই ব্রাত্য তোমাদের মাঝে,

তোমার ভালো থাকা আমার কাছে কাম্য

কিন্তু সেটা বোঝে কে ?

সুতরাং সে খবর থাক দরাজে তোলা

তুমি ভালো আছ সেটা নাই বা জানলাম

তবে আশঙ্কা হয় যদি খারাপ থাকো !

পত্রবাহকের মাধ্যমে খবরটা পৌঁছে দিও

গিয়ে একবার দেখে আসব

সেটাই যে মস্ত পাওনা আমার

সুখের নয় দূখের সাথীত হতে পারি

আপত্তি করবে না নিশ্চয়ই এবার,

সম্পর্কটা এখনো হয় নি বাসি

ভালো থেকো,

আজ তবে আসি।

—————-

সে আসবে

প্রাচুর্যের খেয়া ঘাটে

মজলিসের ডিঙা বেয়ে ফাগুনের মধুরাতে

বৃথা তুমি সুখের অন্বেষণে?

পেতে চাও কাকে এই জ্যোৎস্না রাতে?

জ্যৈষ্ঠের দহন দুপুরে শ্রাবনের বর্ষণে

মাঘে শীতের কাঁপুনিতে

দুঃসময়ের অন্ধকারে

কখনো দেখি না  তোমাকে;

মুখ ঢেকে সন্তর্পনে

গরম কাঁথায় নিজেকে লুকিয়ে

পালিয়ে বেড়াও এদিকে ওদিকে।

আমরা অপেক্ষায় সুখের দুয়ারে,

তাকে কোথা পাবে তুমি?

সে যে বেরিয়েছে সত্যের সন্ধানে

তাকে পেতে পার দুখের বাহুবন্ধনে

সত্য মিথ্যের লড়াইয়ের ময়দানে,

রাত শেষে কোন এক ভোরে

মুক্তির দাঁড় বেয়ে

সে আসবে এই পর্ণ কুটিরে

সুখকে পাবে দুখের হৃদয়ে

দুখ বিনা সুখ থাকে না অন্তরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: