ঝিনুকের মুখে একটি অশ্রু কণা – রণেশ রায়

লিখে চল

.

কবি তুমি লিখে চলো তোমার কবিতা

কত না হাসি ঠাট্টা টিকা টিপ্পনি তোমার কবিতায়

হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে কত গভীর কথা

জীবনের প্রচ্ছদে প্রেম খেলা করে কবিতার ইশারায়

ভোরের শিশিরবিন্দু তোমার অশ্রুতে ভরা

কথার ফুলে অনুভূতির মালা গাঁথা

ঝিনুকের মুখে একটি অশ্রু কণা

অস্ফুট বার্তা ছোট্ট ছোট্ট ব্যথা

কলি হয়ে ফোঁটে তোমার কবিতার ভাষায়

মেলে এসে সে নীরব আলিঙ্গনে

জীবন সমুদ্রের মোহনায়।

.

যাবে উবে

চেনা হয়ে ওঠেনি আজও তোমাকে

কুয়াশাহঘন কুহেলি এ চোখে

তুমিও হয়তো আমাকে

বুঝে উঠতে পারো নি সঠিকে,

খুঁজে পাই নি একে অপরকে

নিজের অন্তরীক্ষে গোপন বিরহে,

তবুও দুজনে খুঁজে ফিরি পরস্পরে

সাঁতরে চলি সমুদ্রে ঢেউ এ ঢেউ এ,

আজের এই জনকোলাহলে

খুঁজে চলি জঙ্গলের বিজন বিহনে

মাঘের জ্যোৎস্নায় সেই মধুরাতে

বাতাসের দূষণে আলো আঁধারে

কোথাও পাই না খুঁজে কেউ কাউকে

অথচ দুজনেই বাঁচি ক্ষুধা তৃষ্ণা নিয়ে

এ জীবন সমুদ্র তটে প্রাণের স্পন্দনে

এই সূর্যালোকে একই আকাশের নিচে।

জানি একদিন ভুলে দুজনে দুজনকে

চলে যেতে হবে,

পাওয়ার আকাঙ্খা উভয়ের যাবে উবে।

হায়রে ভালোবাসা

আমি এক সাধারণ মেয়ে,

ছিলাম ভালোবাসার কাঙাল,

যদি কাউকে ভালোবাসতাম

যদি পেতাম কারো ভালোবাসা

জীবনটা ধন্য মনে করতাম,

জেনে রাখো কবি

মনে মনে এমনি আমি ভাবি।

রোজ সকালে দেখা দিত

ভোরের সূর্যের কিরণ

জ্বল জ্বল করে শিশির কণা,

নিজেকে উজাড় করে দেয়

সূর্যের উষ্ম উত্তাপে পাগল হয়

কিন্তু সে পায় কি?

ভাবতাম ভোরের সূর্যের অবাধ প্রেম;

তারপর দেখি শিশির কণা

হারিয়ে যায় কোথায়!

পরিণত হয় বাষ্পে

নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন করে

হারিয়ে যায় সেই আকাশে,

আর সূর্য তখন খুঁজে বেড়ায়  চাঁদকে

অস্তমিত সে রাঙিয়ে নেয় নিজেকে,

মেলে এসে চাঁদের সাথে

একান্ত গোপনে জোৎস্না রাতে,

চাঁদও শিশিরের মত বিলিয়ে দেয় নিজেকে

চাঁদ কলঙ্কিনী রবির মহিমায়

তারপর সকাল, চাঁদকে আর দেখা যায় না

সেও কোথায় হারিয়ে যায় ,

আমি ভাবতাম সেটাই বোধহয় প্রেম।

 

এই অভাগী তাপসীর জীবনে

প্রেম এসেছিল এমনি করে,

সেও বিলিয়ে দেয় নিজেকে,

তারপর সংসারের রান্নাঘরে

তেল নুন আলু পেঁয়াজের সঙ্গে

কোথায় যে হারিয়ে যায় !

সেও রান্না শেষে একটা সুস্বাদু খাবার।

.

অবসর নেই তার

আলো আঁধারের মিলন মেলায়

দিনের অবসানে

বার্ধক্যের গোধূলি বেলায়

সে আজ,

জীবনের  খেয়া ঘাটে ডিঙা বায়।

ক্লান্ত শ্রান্ত অবসর লগনে

অবসৃত হয়েও  

অবসর কোথায় চলমান এ জীবনে?

শরীর চলতে চায় না, অবসর তার,

সময়ের ডানা বেয়ে

এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে

মনের চলন অবিরাম,

অবসর কোথায় আর ?

কাকে খুঁজে ফেরে সে,

কার সাথে কথা বলে,

কার সাথে সহবাস?

বার্ধক্যের এ বেলায়,

আজ নক্ষত্রের বাস

মনের অলিন্দে তার চাষ,

তার চেতনায় থাকে না বিরাম

নক্ষত্রের সে জগতে

চলাচল অবিশ্রাম,

উপলব্ধির মুক্ত গগনে উড়ে বেড়ায়

স্মৃতির রোমন্থনে সে মুক্ত ছড়ায়,

সমুদ্র মন্থন তার ভাবনায়,

স্মৃতির প্রস্ফুটন চেতনার কাননে

ভাবনা ডানা মেলে

সে ফিরতে চায় শৈশবের খেলা প্রাঙ্গনে।

.

তবু আজও

সুকন্যা, আশা ছিল  আমার

তোমাকে পাব একদিন

কিন্তু পাওয়া হলো না আর,

হারিয়ে গেলে কোথায়

কোন সে আজান পাড়,

কথা ছিল রক্ত করবী ফুটবে এ জীবনে

রজনী গন্ধ্যার সুবাসিত রাতে

জীবন কাননের মহুয়াকুঞ্জে

মিলব এসে দুজনে,

উপহার দেব রক্তিম পলাশ তোমাকে

ঊষার আগমনে কোন এক নব প্রভাতে

আলিঙ্গনে জড়াবে তুমি আমাকে।

হলো না আর মেলা দুজনে

কোথায় যে হারিয়ে গেলে কে জানে,

তবু আজও আমি অপেক্ষায়

তোমায় পাব আমি

কোন  এক মিলন সন্ধ্যায়।

.

যদি তুমি

পুরানো, যদি দিশা হারাও,

মলিন তুমি, অবক্ষয় তোমার,

যদি নতুনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াও

ত্যাজ্য তুমি আমার,

বিদায় তোমায় তোমায় বিদায়।

যদি তুমি নতুনের দিশারী

এসো তুমি আমার বাহুবন্ধনে

যদি আগামীর পথিকৃৎ

জড়াও আমায় আলিঙ্গনে

যদি অগ্রগতির বার্তা বও

অজানার ডিঙা বাও

নতুনের কথা কও

বাঁচ তুমি আমার চেতনায়

তুমি জেনো বন্ধু আমার

মেল এসে আগামীর মোহনায়।

.

পথহারা

নির্বিচারে  পথে পথে পথ চলি আমি

এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্তে ঘুরে ফিরি

পথ চিনি না,

আমি সঠিক পথ খুঁজে ফিরি

কোন পথে যাই নেই তা জানা।

আমি যে আজ পথভ্রষ্টা,

হে ভাবিকাল আমার

হে পথিকৃৎ, আমার পথদ্রষ্টা,

পথ দেখাও আমায়

বলে দাও কোন পথে যাবার,

আমি পথ ভোলা দৃষ্টি হারা

অনাগতকে পেতে চাই

আমি পথহারা এক সৃষ্টিছাড়া।

.

কি চাই

আমি কি চাই  জানা নেই আমার

সব চাই আবার কিছুই চাই না আমি

আমার শেষ নেই চাওয়ার

তাও সব শেষে কিছুই থাকে না পাওয়ার

আমি চাই তোমার চোখের ইশারা

চাই ভ্রুকুটিতে তোমার উঁকি

তোমার ওষ্ঠের স্পর্শ শিহরণ আমার

তোমার চলনের দুলুনি

তোমার বুকের পিঞ্জর

আমার হৃদয়ের স্পন্দন

তোমাকে আমি ভুলিনি

তোমার চলনে তোমার বলনে

পেতে চাই তোমায় সর্বক্ষণ,

তোমার ইঙ্গিতে আমাকে বর্জন

পরিত্যক্ত আমি

পেতে চাই তাও সব শেষ যখন।

.

সময়

তুমি বল সময় সে কি ভয়ঙ্কর

সব ছিনিয়ে নেয় তোমার যা সম্পদ

তুমি পাওনা কোন কদর,

তোমার এই বার্ধক্যের বারবেলায়

বিপন্ন তুমি আজ

পরে থাক অবহেলায়।

 

আমি বলি সে অনিন্দ সুন্দর

জীবন  তরী বয়ে যায়

পেরিয়ে এসে রাতের প্রহর

নিজেকে ছড়িয়ে দেয় আমার চেতনায়,

আমা তরে  রেখে যায় স্মৃতির ভান্ডার

জমানো থাকে অভিজ্ঞতা যা সঞ্চিত আমার

সেথা থেকে তুলে আনি পুষ্পের সমাহার

মালা গাঁথি  বসে, দেব তাকে উপহার

আমি চলে গেলে যে আসবে আবার,

সময় আমার ভৈরোর গান গায়

এ বিদায় বেলায় আমি থাকি অঅপেক্ষয় ।

.

মুক্তির মোহনায়

এ জীবন কুসুমিত কবিতায়

আবেগে আবিষ্ট   জীবনে

আমার কবিতা স্বপ্ন দেখায় আমায়

কবিতা আমায় ভাষা দেয়

জীবনের ছবি আঁকে আমার কবিতা

জনতার ভাষা আমার কবিতায়

কবিতা মনন আমার

আমার কবিতা আমার চেতনায়

আলো আঁধারের লুকোচুরি খেলায়

কবিতা আমার যুদ্ধের আঙিনায়

কবিতা আমার সর্বত্র পাহারায়

কবিতা আমার ক্ষুধা আমার যন্ত্রনা

কবিতা আমার দিনের দহন রাতের জ্যোৎস্না

আমার দুঃসাহস আমার কবিতা

কবিতা আমার সুখ দুখের মোহনা

জঙ্গলের ক্রন্দন আমার কবিতা

মেঘ বৃষ্টি হয়ে নামে কবিতায়

আমার তৃষ্ণা মেটে

সমুদ্র গর্জে ওঠে কবিতার ভাবনায়

কবিতা আমার প্রহর গুণে যায়

রাতের জ্যোৎস্নায় ভোরের উদয়ে

কবিতা আমায় পথ দেখায়

সে পথের পথিক আমি

আমি চলি অবিরাম

মিলি এসে মুক্তির মোহনায়।

.

বহুত্বের মেলা

বহুত্বের মেলা এ জীবনে

বহুজনের ক্রন্দন কেঁদে ফেরে

একতারার বাহুবন্ধনে

আনন্দ কল কল  জীবনের মূর্ছনায়

পাখির কলরব জনতার কোলাহল

মেলে এসে আমাদের চেতনায়

জীবনের বাগানে ফোটে কত ফুল

কত না রঙের বাহার

সূর্যের কিরণে রাতের জ্যোৎস্নায়

সাত সমুদ্রের এ মোহনায়।

.

নিস্তার নেই

তুমি বলেছিলে না!

কি চলছে আজ এখানে

কুৎসিত বীভৎস যত,

আর ভালো লাগে না,

কোথাও ঘুরে এলে ভালো হতো;

প্রস্তাবটা মন্দ নয়

যাওয়া যেতেই পারে ঘুরতে,

তবে কোথায় যাব বলত?

চাঁদের দেশে যাওয়া যেতে পারে

যেখানে কেউ থাকবে না দেখবে না

শুধু তুমি আমি মুখোমুখি;

বেশতো তাই যাওয়া যাক, চলো না!

চাঁদের দেশে আমরা দুজনে,

একান্ত নিভৃতে গিয়ে বসি,

বসি গিয়ে সেখানে

যেখানে পৃথিবীর  ছায়া পড়েছে,

চাঁদের উঠোনে সে খেলা করে;

কিন্তু কি ভয়ংকর, এটা কি ঘটে চলেছে !

পৃথিবীর ছায়া চাঁদে

মহামারী দুর্ভিক্ষ লুঠ খুন ধর্ষণ

নেচে বেড়াচ্ছে ছায়া জগতে

এখানেও নেই নিস্তার!

ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না

রেহাই কোথায় আর!

চাঁদ আজ কলঙ্কিত,

পালিয়ে আসি ভয়ে

আমরা  সন্ত্রস্ত ভীত।

.

কেমন থাকা

সুমনা, কেমন আছ?

তুমিতো খারাপ থাক না

ভালো থাকাই তোমার রীতি,

জানতে চেয়েছ আমি কেমন,

আমি ভালো মন্দ মিলিয়ে

যখন পুরোনো  কথা মনে পড়ে

মনটা খারাপ হয়

ভালো থাকতে পারি  না

কোথায় যেন একটা ব্যথা,

ফুরিয়ে গেছি আজ

একটা অবসাদ পেয়ে বসে,

কিন্তু যখনই ভাবি

আজের এই দিনান্তে

লেনদেন সমান

দেবার যেমন নেই পাবারও নেই,

মনটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে

দেনার সঙ্গে পাওনা যেমন

তেমনি সুখের সঙ্গে দুঃখ,

একবিন্দুতে এসে মেলে,

পরস্পর কাটাকাটি

স্বাদ বিস্বাদ একাকার

ভালো খারাপে সমান সমান,

তবে আর খারাপ থাকা কেন?

আমিও ভালো আছি, ঠিক তুমি যেমন

তুমি ভালো থাকলে আমি মন্দ

ভালো মন্দ মিলে শূন্য

তাই আমিও ভালো

এখনো কি সন্দ!

ভালো না মন্দ ।

.

আপস নয়

কে তুমি ! তুমি ভীতু,

আমার মননে তোমার এত ভয়!

সে মনন আমার চেতনায়

সৃষ্টির বার্তা বয়,

তোমার হাতে অস্ত্র

সে ধ্বংসের কথা কয়,

তুমি ধ্বংসের পূজারী

তাই এত ভয়,

তুমি লুঠের কারবারি

তোমার  অস্ত্রের ঝনঝনানি

হিংসার দুয়ারে ভিক্ষা মাগে

ব্যর্থ তোমার শাসানী,

জেনে রেখো মহাজন

শোষণের ব্যাপারী,

আমার মনন না হয় তোমার মরণ,

এর মাঝে!

কে সে আপসের কারবারি?

.

কাকে বলে  

গুটি গুটি কথা কয়েক

ভাবায় কিন্তু অনেক।

.
লুঠে নেয়

পরমাণুর আঘাতে শূন্য জনপদ

ওরা লুঠে নেয় দেশের সম্পদ।

.

হয় না চাষ

এ বঙ্গে দশতলায় আমাদের বাস

চাষি গাছে ঝোলে, হয় না আর চাষ।

.

কি করবে

কারখানা বন্ধ তুমি আজ ছাঁটাই

কি আর করবে! ধর নেতার লাটাই।

.

মিথ্যা ভাবি

কোন এক  মূর্খ আমি !

তোমায় যে ভাবি বড় দামী।

.

দিন গুণি

নিষেধের বাণী তোমার রোজই শুনি

আমি আজ নিষেধ ভাঙার দিন গুণি।

.

  জড়ায় না

                                                                                                                                                তব বাহু শৃঙ্খলে জড়ায়ও না মোরে

আমি অপেক্ষায় হৃদয় বন্ধন তরে।      

.

                      তোমারে পাই

বাহুর শৃঙ্খল বন্ধনে তোমায় না চাই
চেতনার আলিঙ্গনে যেন তোমারে পাই।

.
বৈঠা বাই


এ হিয়ার মাঝারে নিশ্চিত  তোমার ঠাঁই
তোমার প্রেমের খেয়ায় আমি বৈঠা বাই।

.
ধর্মকে কড়েছে গ্রাস

ধর্মকে অধর্ম করেছে গ্রাস

তাইতো হৃদয়ে ঘৃণার বাস।

.

বড় বোকা

বকা খাও ঝকা খাও খাও তুমি ধোকা

মার খাও ল্যাং খাও তুমি বড় বোকা।

.

দূর হয়

জীবনটা হয়  নিরাপদ

দূর যদি হয় আপদ।

সত্যিটা বললে

বুঝি না অনেক কিছু যেটা সত্যি ঘটে,

তবে বুজি, সত্যিটা বললে ওরা কেন চটে।

.
বুদ্ধু বলে

ভুলভাল বলি আমি মানে না সকলে

আমি নাকি বোকা একটা সবাই বুদ্ধু বলে।

.

বন্ধু

শত্রু বলে ভাবি তাদের নয় শত্রু যারা

শত্রু যাদের ভেবেছি বন্ধু আজ তারা।

.

তেষ্টা মেটে না

প্রাচুর্যের দ্বীপে কত না ঘটা

তেষ্টা মেটে না, জল এক ফোঁটা।

.

সহজ কথায়

সহজ কথায় কথাটা বলাই ভালো

কঠিন কথায় সে যে আঁধারের আলো।

.
নক্ষত্রের পতন

ফাগুনের বিকেলে জীবনের বাগানে গ্রীষ্মের  দহন

জ্যোৎস্না রাতে পূর্ণিমার আকাশে নক্ষত্রের পতন।

ফোটে যেন

যে কলি ফোটেনি আজও পুষ্টির অভাবে

পুষ্টি যোগাও তাকে

ফোটে যেন অনাগত ভবিষ্যতে।

অণু কবিতা

সীতাকে পেতে রাম ভাঙে হরধনু

সাম্রাজ্য রাখতে ওরা ফেলে পরমাণু।

.

বজ্রপাত

ছোট্ট ছোট্ট অভাব

একজোট আজ

আকাশে বজ্রপাত।

তোলে আজ ফণা

ছোট্ট ছোট্ট যন্ত্রনা

জমা যত ঘৃণা

তোলে আজ ফণা।

.

বোঝ না

বৃহৎ-এর দলে ভীড়েছ তুমি অণু

বোঝ না! ভাঙলে কি হয় পরমাণু।

.

মিলি এসে

জাতি ধর্ম নির্বিশেষে

মিলি সবে এসে।

.

প্রস্ফুটিত হোক

সর্বজনের মাঝে সর্বজনের তরে
কবিতার ঘ্রাণ যেন বিরাজে
অভিমানী তুমি নিজেকে রেখো না লুকায়ে
তোমার কবিতায় যেন সকলের অশ্রু ঝরে
সকলের মাঝে নিজেকে দাও ছড়ায়ে
রেখো না রেখো না নিজেরে লুকায়ে
শতপুষ্প প্রস্ফুটিত হোক সকলের তরে।

.

কেউ কাউকে আজও চিনি নি
.


এবার সময়তো হলো
মনের দরজা খোল,
দুজনে দুজনকে চিনে নিই এসো,
তুমি আমি দুজনেই বিভ্রান্ত
মানবতা আজ আক্রান্ত।

হানাদার হানা দেয় দুয়ারে
এসো আর বিভ্রান্তি নয়
রুখতে তাকে জোটবাঁধি দুজনে
বিশ্বাসের উল্কিতে
চিনে নিই পরস্পরকে।

.

ভোরের অপেক্ষায়

এখন রাত ত্রি  প্রহর,

ঘুমে অচৈতন্য আমার শহর,

আমি জেগে আমার কলম হাতে

চোখে ঘুম নেই, বিরোহিনী সে এ রাতে,

কবিতা কথা বলে আমার কলমে

সে মেলে এসে আমার মননে,

মৃদু মন্দ দোলা আমার চেতনায়

কবিতা ভাষা খোঁজে রাতের জ্যোৎস্নায়,

মিলনের ভাষা খুঁজে পাই কবিতায়

চাঁদ উঁকি মারে এ মিলন মেলায়,

খোলা আছে আমাদের মিলন দরজা

কবিতা আমাতে বাসর শয্যা,

নক্ষত্র জেগে থাকে পাহারায়

প্রহর কাটে ভোরের অপেক্ষায়।

ত্রি কথাটা ব্যবহার করলাম তৃতীয় হিসেবে।

.

রেখো না লুকায়ে

সর্বজনের মাঝে সর্বজনের তরে

কবিতার ঘ্রাণ যেন বিরাজে

অভিমানী, নিজেকে রেখো না লুকায়ে

তোমার কবিতায় যেন সকলের অশ্রু ঝরে

সকলের মাঝে নিজেকে দাও ছড়ায়ে

রেখো না রেখো না নিজেরে লুকায়ে

শতপুষ্প প্রস্ফুটিত হোক সকলের তরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *