গায়ে সোঁদা মাটির গন্ধ মেখে

মেঘবালিকার প্রতি… (জয় গোস্বামী-র লেখা ‘মেঘবালিকার জন্য রূপকথা’ দ্বারা অনুপ্রাণিত)

ইন্দ্রানী দলপতি 

আজ আরো একটা বিকেল আসুক, মুখ কালো করে, চুল এলোমেলো করে, 

সদ্য স্নান সেরে এসে, গায়ে সোঁদা মাটির গন্ধ মেখে, আজ আরো একবার মেঘবালিকা এসে দাঁড়াক সম্মুখে, 

বাতাসে বাতাসে ভেসে যাক তার কাজল কালো সুবাস, 

যে পথে পাখিরা ঘরে ফিরে যায়, ঠিক ঐ পথেই লুটিয়ে যাক তার আঁচল, 

সমস্ত ধূলিকণা তার স্নেহস্পর্শ পাক, 

আমি আমার বিকালের শৈশব কে ফেলে রেখে ধেয়ে যাব সেই মেঠো পথ ধরে, ছুটে যাব একদম শেষ প্রান্তে, 

ঘরে ফেরার তাড়া থাকবে না, বন্ধ থাকবে আম কুড়ানোর পালাও, আমিও হব তারই মত দলছুট, 

আজ আরো একটা বিকেল আসুক, বৃষ্টিস্নাত হয়ে..॥ 

.

.

.

শুধু স্পর্শ করলেই মনকে ছোঁয়া যায়না।মনকে নিজের মতো করে দেখতে হয়।চোখ দিয়েও মনকে ছোঁয়া যায়। – দেবালী মিশ্র

সেদিন শুধু ঠোঁট দুটো ই ছুঁয়ে ছিল একে অপরকে…

হৃদয়তাপে মোমের পুতুলের গলন হয়নি।

এক আকাশ বৃষ্টি নেমেছিল তারপর..

ভিজেছিল তার ছাদ,বারান্দা আর কফি কাপ টা।

জোলো বাতাস আদর ছড়িয়ে দিচ্ছে…

বছর ঘোরার পর আবার দলছুট অনুরাগেরা জমায়েত হল এক অবসরে,,

সেদিন আবার চোখ ছুঁয়ে দিল তাকে….

অশ্রু তাপে গলন হয়ে ছিল বিষাদ প্রতিমার…..

.

.

.

.

এখনও বাকি //  রণেশ রায়

চাই বা না চাই তবু থেকে যায়

চেয়ে দেখ বুক চিরে

আজও রক্তের নদী বয়ে যায়।।

দেওয়া হয়নি যা দেবার

রয়ে গেছে অসমাপ্ত সে গান

গাওয়া হয়নি আমার।।

দিতে হয় তুনে টান

ভাঙে যদি ভাঙুক সে বাঁধ

এপার ভেঙে গড়ুক ওপার

মেটে না যেন ভাঙার সাধ।।

উজাড় করে দিতে হয় আজ

যা আছে আমার তোমার

এখনো বাকি ভেঙে গড়ার কাজ।

.

.

.

ঘুম নিয়ে বনধ্ /বিশ্বনাথ পাল

জাগতে যারা জানে নাক

                থাক না ঘুমের ঘোরে। 
পরিপাটি গয়নাগাটি
                 যাক নিয়ে সব চোরে। 
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন ভাসে
                    স্বপ্ন মেলে ডানা,
ডানায় ডানায় রোদ ভাসে
                   আহ্লাদে আটখানা। 
দিবাঘুমের উপকার ঢের
                   সার কথাটি জেনে
অনেক মানুষ দিব্যি ঘুমোয়
                    মাঠে ও ময়দানে।
বাসে ট্রেনে অষ্টপ্রহর
 যায় যে দেখা ঘুমের বহর
          নাসিকার ওই ডাকে। 
ভাত ঘুম নাকি নজর কাড়া
তাকে নিয়ে  কে ছন্নছাড়া
      বাংলা বন্ধ্ ডাকে? 

.
.
.

যায় না বলা  //  মিজানুর রহমান মিজান

যায় না বলা অনেক কথা

ভুলা যায় না অনেক ব্যথা।।

সাধ্য নেই হাসাবার কেন কাঁদাবে

আগুন জ্বেলে পার না নিভাতে, কেন জ্বালাবে

পিছনে বাজাও কাঁকন সুর তোলে বৃথা।।

দেবার সাধ্য নেই নিতে চাও কেন তবে

মানুষ বলি কেমনে লজ্জা নেই তোর ভাবে

ডানাছাড়া প্রজাপতি পেখম ধর অযথা।।

ভোগের লোভে মানব রুপি দানব তুমি

অনাচারী হৃদয়ে ভাব অনেক বড় দামী

এঘাট থেকে ওঘাট যাও ধরে নানান ছলছুতা।।

.

.

,.

ডাকসু   // সব্যসাচী নজরুল

আলোকচ্ছটার আলোবিহীন 
কেমনে সময় কাটাস 
আশার আলো খেই হারিয়ে 
বছর গেলো আটাশ।

মিটিং সিটিং ভোটের খেলায় 
জাগলো দেখো ডাকসু
কাল পরিপাটি সাজসজ্জায়
পরনা চটি, থাক স্যু।

চাওয়া পাওয়া দাবি দাওয়ার
অধিকারের মিছিলে 
ঐ পয়গাম এলো সু সময়ের
মার্কা, ব্যালট আর সিলে।

উজ্জীবিত এই আলো ফের 
লুকায় না যেন আটাশে 
সদা একে-অন্যের বন্ধু হয়ে 
থাকবো সুখের বাতাসে।

ডাকসুতে নব-আলোয় নেতা
আসবে ঢাবি’র বুকে
ছাত্র-ছাত্রীর অধিকারে, পাশে
থাকবে সুখে দুঃখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: